ব্রা‏হ্মণপাড়ায় নোংড়া পুকুরের পানিতেই চলছে মুসুল্লীদের ওযু গোসল সহ হোটেলের ধুয়া মুছা

মিজানুর রহমান সরকার, ব্রা‏হ্মণপাড়া:–

কুমিল্লার ব্রা‏হ্মণপাড়া সদরের সবজি বাজারের পাশে অসহ্য দূর্গন্ধ সহ পুকুরের নোংড়া পানি দিয়েই চলছে মসজিদের মুসুল্লীদের ওযু গোসল সহ হোটেলের ধুয়া মুছা। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সুস্থ্য থাকার পূর্ব শর্ত, ঈমানের অঙ্গ, এসব কথা সকলেরই জানা। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে অনেক কিছু জানা থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা ব্রা‏হ্মণপাড়া উপজেলার সদর বাজারে। কুমিল্লা-মীরপুর রাস্তার পাশে ব্রা‏হ্মণপাড়া সিএনজি ষ্ট্যান্ড সংলগ্ন সবজি বাজারটি ব্রা‏হ্মণপাড়ার মিড পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করছে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন। উপজেলার কর্মচারী, কর্মকর্তা সহ থানার সকল কাচা বাজার এখানে করলেও নোংড়া পরিবেশ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই কারও। এ যেন বাতির নীচে অন্ধকারের গল্প। সবজি বাজারের কাছে এসে স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থী সহ বাজারের সবাই নাক ছিটকিয়ে মুখে রুমাল দিয়ে থুতু ফেলতে ফেলতে চলে যায়। এখানে জরুরী কাজ দ্রুত সেড়ে সবাই চলে যায়। কেউ প্রতিকার বা প্রতিবাদ করেনা। এ যেন ছেড়ে দে’মা কেন্দে বাছি দশা।
বাজারের প্রথমেই খোলা মেলা কসাই খানা, পাশের টয়লেট থেকে আসা বড় বড় মাছির ভন ভন শব্দে ঘিন ঘিন অবস্থা। পাশেই রয়েছে মুরগী বিক্রির দোকান। সেখানে মুরগীর উদভট ভ্যাপসা গন্ধ সহ মাছির উপদ্রপ। পাশেই রয়েছে খোলা শুটকি ও মাছের দোকান। তার সাথেই রয়েছে বেহাল দশায় বাজারের পাবলিক টয়লেট। রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে টয়লেটের দূর্গন্ধ, প্রশ্রাব খানার চেংটা গন্ধ, মাছের গন্ধ, শুটকির গন্ধ, মুরগীর বিষ্টার গন্ধ, কসাই খানার গন্ধ, সব মিলে বমি হওয়ার উপক্রম দেখা দেয় সেখানে। এছাড়াও রয়েছে মাছির ভন ভন শব্দ। একই মাছি বিচরণ করছে ক্ষনে টয়লেটে, ক্ষনে মাছে, শুটকিতে, মুরগী জবাই করার ড্রামে, মাংশের দোকানে কিংবা পাশের খাবার হোটেলের বিভিন্ন খোলা খাবারে। এ যেন দেখার কেউ নেই।
তাছাড়াও কসাই খানার পশু জবাই করার পর ময়লা আবর্জনা ফেলা হয় পাশের পুকুরে। একই পুকুরে এসে পড়ছে পাবলিক টয়লেটের মল মূত্র। ড্রেন দিয়ে টয়লেট ও বাজারের নিংড়ানো নোংড়া পানিতে দূষিত হচ্ছে পুকুরের পানি। ওই পুকুরের পানি দিয়েই চলছে কয়েকটি হোটেলের ধুয়া মুছা। পুকুরের উত্তর পাশে রয়েছে ব্রা‏হ্মণপাড়া সরকারী উচ্চবিদ্যালয়ের মসজিদ। মুসুল্লীরা ওই নোংড়া পানিতেই প্রতিনিয়ত করছে ওযু গোসল। ভাবতেও অবাক লাগে, এত নোংড়া পরিবেশ, তবুও কেউ কোন ভ্রক্ষেপ করছেনা। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও তার কোন প্রতিকার হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে করনীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্রা‏হ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুর রহমান এ’প্রতিনিধির নিকট বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি নিজেও গাড়ী থেকে নাকে রুমাল দিতে হয়। ইতমধ্যে বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্টদের অফিসে ডেকে এনে মতবিনিময়, মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা সহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। অজানা কারনে তারা এসব বিষয়ে সতর্ক হচ্ছেনা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জন প্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছা থাকলে দ্রুত এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব।
সার্বিক বিবেচনা করে দ্রুত এসব বিষয়ে পদক্ষেপ কামনা করছে এলাকার আপামর জনসাধারণ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply