সত্য ও মিথ্যা

—জান্নাতুল ফেরদৌসী (নিলু)

সত্য ও মিথ্যার মধ্যে ঝুলে আছি আমরা, মুখে যত সত্য বলি, কাজের বেলায় নেই। বড় বড় সভার মাঝে চিৎকার করে বলি আমি সত্যবাদী আমি সত্য কথা বলি, কাজের বেলায় সবি যেনো ফাঁকা, কথা ও নিয়মের সবই গড়মিল। তবু ও আমি সত্য কথা বলি, কত সব নেতা চেয়াম্যান কিংবা এম,পি হতে পারে কোন এক মন্ত্রি বড় বড় বক্তব্য দিয়ে যান সার্থ্যরে জন্যে আজ এইটা করব, আর কাল ঐটা এ পর্যন্ত সময় মতো জনগনের দিয়ে গেছেন কোনটা। তবুও আমরা সত্য কথা বলি আমরা সত্যবাদী। কথার বেলায় আমরা পাকা কাজেল বেলায় আমরা ফাঁকা। বড় বড় করে বুলি চুড়ি দূরনীতি করবোনা কাউকে দূরনীতি করতে দেব না। কিন্তু গোপনে, গোপনে দূরনীতির পাহাড় গড়েছি আমরা। গোডাওনে বস্তা ভরা গম আর চাউল পঁচে যায়, আর গরীব দুঃখী মানুষ না খেয়ে মরে যায়। বছরের যে কোন সময় বন্যা হলে পঁচা গম আর চাউল সবই অসহায় মানুষের মাঝে দিবো বিলিয়ে, নাম হবে ডাক হবে অনেক কিছু বিলিয়ে দিয়েছে ক্ষতি গ্রস্তদের মাঝে সাংবাদিক ভাইয়েরা ছবি উঠাবে আর নেতাদের দেওয়া গম আর চাউল নিয়ে লিখবে। আসলে কি নিজের টাকায় দিয়ে ছিল, না দূরনীতির চুরির বস্তা সব লোক দেখানোর জন্য বিলি করে ছিল। আমরা সত্যবাদী আমরা সত্য কথা বলি। মেম্বার চেয়ারম্যান এবং এম, পি মন্ত্রিদের খপ্পরে পড়ে সাধারন জনগনের জাবীনটা হয়ে গেছে তেজপাতা। আমরা না পারি সত্য কথা গুলো তাদেরকে বলতে না পারি তাদের অন্যায় অসত্যকে মেনে নিতে। আমাদের ইচ্ছা না থাকা সর্ত্তেও অনেক সময় অনেক কিছু মেনে নিতে হয়েছে। এমনি একটি ধারাবাহিকতার নিয়ম নিয়ে লেখা এই কবিতা।
ভূল হয়নি
যোগ বিয়োগে ভূল হয়নি/ভূল হয়েছে ভাগে/ভাগের টাকা তুলে দিলাম চেয়ারম্যানের হাতে/ নেয়না টাকা মহান নেতা ভাগ পেয়েছে কম, বললো রেগে বেছলি কোথায় বস্তা ভরা গম/ফুলতে থাকে নেতা আমার মুখ খানি লাল, রাগে চল জলদি আসবি নিয়ে ভাগের টাকা আগে। যতই বলি ভূল হবেনা, দেব ভাগের টাকা নয়টি ভাল শাড়ী পেলেই বেচঁবো গিয়ে ঢাকা/চেয়ারম্যানের মেয়ে বেজায় খুশি শাড়ীর কথা শুনে একটি দুইটি তিনটি করে ঊনিশ খানা শুনে/দিয়ে গেলেন দুপুর বেলা রিলিফ লেখা শাড়ি, হঠাৎ শুনি চেয়ারম্যানের ভাগটি যেন আগে, সময় মতো সাত সকালে আসে আমার বাড়ী/যোগ বিয়োগে ভূল হয়নি, ভূল হয়নি ভাগে, ভাগের টাকা দিয়ে এলাম চেয়ারম্যানেরে আগে/আসুন সমাজ সেবা নিয়ে একটু আলোচনা করি। সমাজ সেবা মানুষের জীবনের একটি মহৎ গুণ। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপকার করার নামই জন সেবা। পরস্পরের সহমর্মিতা থেকেই সমাজ সেবার প্রবৃত্তি উন্মেষ ঘটেছে। মানুষ একা বাস করতে পারেনা, তার সুখ টুকু সবটাইনিজের প্রচেষ্টার ফল নয়। বহু মানুষের সহযোগিতা মূলক কর্মকান্ডের ফল শ্রুতিতে সমাজ সেবা করা সম্ভব। সমাজে অধম, অসর্মথ মানুষের অভাব নেই, এবং দুঃখী দরিদ্্রও মানুষের সংখ্যা বেশি। দুঃখের যন্ত্রনা বহুমুখী হয়ে মানুষকে প্রতি নিয়ত পীড়ন করে। সমাজ সেবা করতে হলে আমরা সমাজের প্রতিটা মানুষ সচেতন হতে হবে, একে অপরকে সুখে দুঃখে তার পাশে গিয়ে দাড়াতে হবে। গরীব দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে হবে, সমাজের যেই কোন লোকের সুবিধা ও অসুবিধা দিক গুলো চিন্তা করে দেশের কাজ করতে হবে। এই সমাজের কেউ যদি কোন ভালো কাজ করতে চায় তাকে সহযোগীতা বা সাহায্য করা সুযোগ দেওয়া আপনার আমার কর্তব্য। আসুন আমরা সবাই সত্য কথা বিল, সত্য কাজ করি।
মুখে মুখে বড় বড় কথা না বলে মিথ্যে আশ্বাস না দিয়ে সত্য ও ন্যায় পথে চলি, আমি গত কয়েক দিন আগে বিকাল বেলায় হাঁটতে, হাটতে গিয়ে ছিলাম কুমিল্লার রেল-লাইন এর পার্শ্বে ঐ খানে কিছু মানুষের জীবন বৃত্তান্ত চোখে পড়ার মতো আমি অবাক হয়ে দেখে ছিলাম রেল-লাইন এর পাশ্¦ে মানুষের জীবন বৈশিষ্ট্যঃ রেল-লাইনের এক পার্শ্বে ছোট্ট কুটিরে মা মেয়ে বাস করে থালা বাটি হাতে নিয়ে। ছেড়া জামা কাপড় না খাওয়া না পড়া কংকাল দেহটা বেচে আছে কোন ভাবে এ জীবনটা। চোখ দু’টি ছল-ছল মুখ বলে খাবার নেই বলো? সবাই দেখছে তাকিয়ে অসহায় মানুষটির দিকে। আছে যার ধন রতœ ভুড়ি-ভুড়ি কেউ কি দিবে তাকে একটু খাবারের জুড়ি। মন আছে ধন নেই চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই। যারা পারবে দিতে তারা থাকে অনেক দুরে। অসহায় মানুষের পার্শ্বে দাঁড়াবে কেউকি আছো ভাই? (আবার) কেউ বসে আছে খোলা আকাশের নিচে দু’হাত বাড়িয়ে একটু খাবারের অপেক্ষায়। ক্ষুধার জ্বালায় জ্বলছে তারা এ কেমন জীবন তাদের? মাঝি হীন নৌকা যেমন সাগরের মাঝে ঘোর পাক খায়, নিধন ভাবে সারাটা জীবন, মেলাতে পারে না অন্য জনের সাথে তাদের জীবন। কেন এই দুর অবস্থা তাদের? সৃষ্টি কি তাদের অপরাধ! না অন্য কিছু। যদি সৃষ্টি তাদের অপরাধ না হয়, স্রষ্টার কাছে আবেদন, রাখবেন তাদের স্বরণ. ফিরিয়ে দিবেন তাদের স্বাভাবিক জীবন। আমাদের দেশের মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রি যারা সমাজ সেবা নামের কথাটি বিভিন্ন স্থানে মত পোষন করেন তাদের চোখে কি পড়েনা এই অসহায় মানুষদরে দিকে। যদি চোখে পড়ে থাকে তাদের ব্যপারে কি কিছু ভাবছেন? না এখনো চুপ করে আছেন। দেখে ও না দেখার ভান করছেন। মানুষ মানুষের জন্য একটু সহানুভুতি হলে দোষ কি তাতে? আসুন আমরা সত্যকে সত্য বলে জানি মিথ্যাকে বর্জন করি।

জান্নাতুল ফেরদৌসী (নিলু)
উপজেলাঃ বুড়িচং, কুমিল্লা
মোবাইল নং- ০১৭৬১৫০৪৯৪৯.

Check Also

প্রবাসে বাংলা ভাষার প্রসারে সরকার ও আমাদের ব্যর্থতা

—দেলোয়ার জাহিদ ‘দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে নিজকে সংশোধন করা এবং সবচেয়ে সহজ কাজ হচ্ছে ...

Leave a Reply