সরাইল-অরুয়াইল সড়কে স্থানে স্থানে মরণ ফাঁদ

আরিফুল ইসলাম সুমন :–
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরাইল-অরুয়াইল সড়কের ১৪ কিলোমিটার এলাকায় স্থানে স্থানে এখন মরণ ফাঁদ। সম্প্রীতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কটির বিশাল অংশ নতুনভাবে নির্মাণ এবং বাকি পুরনো অংশ সংস্কার করা হয়। স্থানীয়ভাবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে কোন্দলের কারণে এ সড়ক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হলেও যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কটি উম্মূক্ত করে দেয়া হয় ক’মাস আগে।
অভিযোগ উঠেছে, এই সড়ক নির্মাণে ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। ফলে কয়েকমাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ সড়কের কয়েকটি সেতুর বেহাল দশায় ঝুঁকির নিয়ে চলাচল করছে শ’ শ’ যানবাহন। দূর্ভোগে যাতায়াত করছে সরাইলসহ পাশ্ববর্তী নাসিরনগর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন যাবত এই সড়কের সেতুগুলো সংস্কার করা হচ্ছে না। তবে কিছুদিন আগে সড়কের রসুলপুর এলাকায় একটি সেতুর সংস্কার কাজ শুরু হলেও এ কাজে চরম অনিয়ম হচ্ছে বলে এলাকায় ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে।
জানা যায়, সরাইল-অরুয়াইল সড়কটি জেলা সদরের সাথে সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরাইল উচালিয়াপাড়া মোড় থেকে অরুয়াইল পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার এ সড়ক। সরাইলের চুন্টা থেকে উচালিয়াপাড়া মোড় পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কের ভগ্নদশা স্থানে স্থানে। সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে কার্পেটিং উঠে গেছে। এই ছয় কিলোমিটার অংশের সড়কের সংস্কার কাজ কয়েকমাস আগে হলেও নিম্নমানের কাজ হওয়ায় সড়কটি পূর্বের বেহাল দশায় ফিরে যাচ্ছে দিন দিন। চুন্টা থেকে অরুয়াইল পর্যন্ত বাকি আট কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে কয়েকমাস আগে। নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় অনেকে অভিযোগ করেন, অনিয়মে নামমাত্র কাজ করেছে ঠিকাদার। এ সড়কে কাজ চলাকালে সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিতসহ মৌখিক নানা অভিযোগ জানিয়েও কোন সুফল হয়নি। এখন এলাকাবাসী পথ চলতে দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।
এ অংশের পাঁচটি সেতুও ঝুঁকিপূর্ণ। চুন্টা থেকে অরুয়াইল পর্যন্ত কয়েকটি সেতু সংস্কারসহ তিনটি সেতু নতুন নির্মাণ হয়। পুরনো পাঁচটি সেতু সংস্কারের দাবী জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে। এই সেতুগুলোর দুইপাশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নড়বড়ে। সেতুর রেলিংগুলো খসে পড়ে স্থানে স্থানে রড দেখা দিয়েছে। যানবাহন সেতুতে উঠলে ঝাকুনী দিয়ে নড়ে চড়ে উঠে। নিচু সড়ক থেকে সেতুতে উঠতে গিয়ে যানবাহন অনেক সময়ে উল্টে ঘটছে দূর্ঘটনা।
রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সড়কের এখানকার একটি সেতুর মেরামত কাজ করা হচ্ছে নি¤œমানের পুরাতন ইট দিয়ে। এই সেতুর নীচ থেকে অন্তত ৩০ বছরের পুরনো ইট তুলে এ কাজ করা হচ্ছে। এতে সেতুটি নামেমাত্র সংস্কার হবে, কিন্তু টেকসই হবে না। যেকোন সময় দূর্ঘটনারও আশঙ্কা রয়েছে।
রসুলপুর এলাকার ইউপি সদস্য মো. ফিরোজ মিয়া জানান, এই সড়কের স্থানে স্থানে এখন মরণ ফাঁদ দেখা দিয়েছে। রসুলপর এলাকায় এই সেতুটি মজবুত করে পুনঃ নির্মাণ হউক এ দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। এখন সেতুর যে সংস্কার কাজ হচ্ছে তা টেকসই হবে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
চুন্টা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হাবিবুর রহমান বলেন, অত্যন্ত ব্যস্ততম এই সড়কের কয়েকটি সেতুর অবস্থা নাজুক। সেতুগুলোর বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। রসুলপুর এলাকায় নি¤œমানের মালামাল দিয়ে সেতুর মেরামত কাজ করা হচ্ছে। এতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ঠিকাদার কোন কথাই শুনছেন না।
সরাইল উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, এই সড়কে পাঁচটি সেতু পুরনো। সেতুগুলোর বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থবরাদ্দ না থাকায় শুধুমাত্র একটি সেতুর সংস্কার কাজ এখন চলছে। এখানে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। তিনি আরো জানান, এ সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল করায় বিভিন্ন অংশে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এগুলোও সংস্কার করা হচ্ছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply