উন্নয়নের নামে সরকারি বরাদ্দ অপচয়: সরাইলে অসময়ে খাল খনন নৌকা চলাচল ব্যাহত

আরিফুল ইসলাম সুমন :–
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে অসময়ে খাল খননের নামে সরকারি বরাদ্দ লাখ লাখ টাকা অপচয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড এর আওতায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় ফসলি মাঠের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া ‘নয়াখাল’ পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে গত ১০দিন আগে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, এ খালে পানির জোয়ার স্বাভাবিক মাত্রায় রয়েছে। খালে বেকু দিয়ে খননকাজ চলছে। খালের আশপাশ অনেক জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। নৌকাযোগে ফসল নেওয়া হচ্ছে কৃষকের বাড়িতে। খননকাজে সংশ্লিষ্ট কাউকে এখানে পাওয়া যায়নি। তবে বেকু চালক মো. সেলিম মিয়া বলেন, এই খালের পাড়ে পাড়ে গত ১০দিন ধরে মাটি কাটতেছি। আওয়ামীলীগের এক এমপির পি.এস এই খাল খননকাজ করাচ্ছেন। আওয়ামীলীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা মাঝেমধ্যে এসে কাজ দেখে চলে যান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন লোক এখানে এসেছেন কিনা তা আমার জানা নেই।
কৃষক রাজা মিয়া বলেন, এটি নয়াখাল হিসেবে পরিচিত। এ খালের পানির ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর থেকে ‘বেকু’ দিয়ে মাটি কেটে একপাড়ে ফেলা হচ্ছে। অসময়ে এই খনন কাজের কারণে খালে নৌকা চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে।
শাহবাজপুর এলাকার আউয়াল মিয়া নামে এক সমাজকর্মী বলেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর একজন সংসদ সদস্যের মদদে এই খাল খননের কাজ চলছে। ওই এমপির লোকেরা খননকাজ তদারকি করছেন। ৩৫ লাখ টাকার এ খননকাজে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখা যায় না।
শাহবাজপুর এলাকার ইউপি সদস্য মো. আমির আহমেদ বলেন, এভাবে খাল খনন হয় না। বেকু দিয়ে মাটি কেটে পাড় বাঁধাকে খাল খনন বলে না।
শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উসমান উদ্দিন খালেদ বলেন, আমরা এই নয়াখাল খননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড এর কাছে ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছিলাম। এ খনন কাজে ৬০ লাখ টাকা মঞ্জুর হয়ে টেন্ডার হয়। শুনেছি ফান্ডে অর্থ সঙ্কটের কারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগ আপাদত এই খননকাজে ২২ লাখ টাকা দিয়েছে। খননকাজ সম্পর্কে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন- বেকু অথবা সেচ করে হউক, আমরা চাই সঠিকভাবে খাল খনন। তবে যে বেকুটি দিয়ে খননকাজ করা হচ্ছে তা আকারে ছোট।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারদলীয় স্থানীয় একজন সংসদ সদস্যের নির্দেশে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে সরাইল এলাকায় নয়াখাল খনন চলছে। এই খননকাজের টেন্ডার পেয়েছেন প্রভাবশালী ওই এমপি’র পছন্দের এক লোক। এ কাজের ভালোমন্দ সবকিছুর দায়দায়িত্ব তারাই নিয়েছেন। এই দফতরের কেউই এ খননকাজে ভুল-ত্রুুটি ধরা বা তথ্য দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান বলেন, উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় বেকু দিয়ে খাল খননের বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি। কোন বরাদ্দে, কে কিভাবে এই নয়াখাল খনন করছে এসবের কিছুই আমার জানা নেই। এমনকি ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও এ ব্যাপারে অবগত নন বলে তারা জানিয়েছেন। তবে বিষয়টির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা বলেন, আমার এলাকায় খাল খনন হচ্ছে, অথচ এসবের আমি কিছুই জানি না। তিনি বলেন, এখন ধান কাটার সময়। এই খাল দিয়ে কৃষক নৌকাযোগে জমির ফসল ঘরে তুলছেন। বেকু দিয়ে খাল খননের কারণে নৌচলাচলে প্রতিবন্ধকতাসহ কৃষক নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply