সাভারে ভবন ধসে নিহত ১২৯ : নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই

সাভার:–

সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামক একটি নয় তলা ভবন ধসে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যন্ত ১২৯ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করা গেছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ এখনো চলছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (সমন্বয়) রুহুল ফোরকান জানান, দুপুর ১টা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১২৯তে দাঁড়িয়েছে। এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, মৃতের সংখ্যা একশ পেরিয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে বেশিরভাগই নেওয়া হয়েছে এনাম মেডিকেল কলেজে।

ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আট শতাধিক মানুষকে আহত অবস্থায় স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভবনধসের খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার বহন করবে। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইমারত নির্মাণে কোনো ত্রুটি হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধসে যাওয়া ভবনটির মালিক স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল রানা।

ওই ভবনে থাকা চারটি গার্মেন্টস কারখানায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার কর্মী কাজ করেন। মঙ্গলবার ফাটল ধরার পরও বুধবার সকালে কারখানায় কাজ চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সাভার থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে নয়তলা ভবনটি পেছনের দিক থেকে হঠাৎ ধসে পড়তে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যে মূল খুঁটি ও সামনের দেয়ালের অংশবিশেষ ছাড়া পুরো কাঠামোটিই ভেঙে পড়ে। এ সময় আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা ছাড়াও সেনাবাহিনীর চারটি দল এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রপতি গভীর শোক জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক উদ্ধার তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

শোক প্রকাশ করে দলীয় কর্মীদের উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে বলেছেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াও। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ৩৬ ঘণ্টা হরতালও প্রত্যাহার করা হয়েছে সাভারে।

ওসি জানান, মঙ্গলবার সকালে ফাটল দেখা দেওয়ার পরপরই ওই ভবনে থাকা চারটি গার্মেন্টস কারখানা ও ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে বুধবার সকালে শ্রমিকেরা আবারও কারখানায় গিয়েছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।

এদিকে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় জড়ো হওয়ায় ঢাকা-আরিচা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, ‘আমি দোকানে বসেছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ পেয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখি ধুলার ঝড়ের মতো উঠল। আর চোখের পলকে বিল্ডিংটা ধসে পড়ল।’

ভবনটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার, প্রসাধন সামগ্রী ও কাপড়ের মাকের্ট এবং ব্র্যাক ব্যাংকের একটি শাখা ছিল।

আর তৃতীয় তলার নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেড, চতুর্থ তলার প্যান্টম এ্যাপারেলস লিমিটেড, পঞ্চম তলার প্যান্টম ট্যাক লিমিটেড ও ষষ্ঠ তলার ঈথার টেক্সটাইল লিমিটেডে পাঁচ থেকে ছয় হাজার শ্রমিক কাজ করতেন বলে স্থানীয়রা জানান।

ফাটল ধরার পর মঙ্গলবার দুপুরে ভবনটি ঘুরে দেখেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

স্থানীয় প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ভবনটির নিরাপত্তার স্বার্থে বুয়েট থেকে প্রকৌশলী এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। তা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে ভবনটির মালিক পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল রানা মঙ্গলবার বলেছিলেন, সামান্য একটু প্লাস্টার খুলে পড়েছে। এটা তেমন কিছু নয়।

সকালে ভবন ধসে পড়ার পর তিনিও আটকা পড়েন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য তৌহিদ জং মুরাদ এসে তাকে উদ্ধার করেন।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply