ডাকাতিয়া নদী—জান্নাতুল ফেরদৌসী (নিলু)

হে নদী তোমার গন্তব্য কোথায়? তুমি চলেছ কোন অজানা পথে? তোমার শেষ নেই? তুমি চলেছো। সহস্র বছর ধরে অবিরাম । প্রকৃতির সৌন্দর্য্য যেনো স্বার্থ পরের মতো সবটুকু দখল করে আছো। তোমার সৌন্দর্য্য দেখে আকৃষ্ট হই আমি। হে নদী তোমার গন্তব্য কোথায়? বাংলাদেশের এক তৃতীয়া অংশ ভূমি দখল করে বসে আছো তুমি। তবু ও অন্যের জুমির প্রতি তোমার লোভ কেনো বলো? হে নদী তোমার লোভ কেনো বলো? হে নদী তোমার গভীরে লুকিয়ে আছে বিশ্ব বাসির ভালো বাসা কত? হে নদী তোমার বুকে রাশি রাশি জল বাতাসে করছে টলমত। হে নদী তোমার সৌন্দর্য্য দেখে মাঝির মনে প্রেমের ঝড় উঠে। আর আমার প্রিয়ার বাগানে কত ফুল ফোটে। বিকাল বেলা যখন দুর্বল সূর্য লাল রং এর মায়াবিব আলো দেয়, আমার প্রিয়া যেনো ভালোবাসার সু-ঘ্রাণ কেড়ে নেয়। “জানো নদী মাঝে মাঝে তোমার কিনারায় বসি যখন, তোমার বুকের চলন্ত স্রোত আমাকে ডেকে ডেকে বলে কেমন আছিস? আমি বলিনি কথা মুখে, উত্তর দিয়েছি চোখে। হে নদী তোমার ঐ পাড়ের সরু পথ গুলো আমাকে ডেকে বলে কেমন আছিস? আমি বলতে পারিনি মুখে আমার এই পোড়া চোখ প্রিয়াকে খোঁজে। হে নদী তোমার কিনারায় কাশ ফুলগুলো বাতাসে নুয়ে নুয়ে আমাকে বলে কি চাও অমন করে। আমি বলতে পারিনি মুখে উত্তর দিয়েছি চোখে।
হে নদী আমি তোমার রূপ দেখবো বলে, ভোরের সূর্যটা আড়াল করে রেখেছি। হে নদী আমি তোমার সাথে কথা বলবো ভেবে রাতের চন্দ্রটা কে মেঘে ডেকে রেখেছি। আমি জ্যোৎস্না রাতের আলো ফেলে আধাঁরে বসেছি। হে নদী প্রিয়া কে না বলা কথা গুলো বুকে চেপে রেখেছি। হে নদী, আমার প্রিয়াকে যে কথা হয়নি বলা তোমাকে বলবো ভেবে প্রতি দিন বিকাল বেলা বসে থাকি তোমার কিানারায়, তোমারী অপেক্ষায়, রুগ্ম মনে তিক্ষ্ম কলমের কালিতে লিখে যাই হৃদয়ের কথা, একা- একা থাকা কি যে ব্যথা কি করে বুঝাই। অবসরে তোমার পাড়ে বসে কত কাব্য লিখে যাই, হে নদী আমার প্রিয়ার দেখা তবু নাহি পাই। হে নদী আমার প্রিয়ার কথা যখন মনে পড়ে অশান্ত মন কে শান্তনা দেওয়ার জন্য তোমার পাশে গিয়ে বসি, হে নদী আমি অপলক চোখে তোমার দিকে তাকিয়ে দেখি তোমার রূপ, পথ হারা স্রোঁত শুধু ঘুরে ভাসমান জলে। কত মাঝি যায় চলে নৌকায় পাল তুলে অজানা কোন দেশে। হে নদী কত জেলে বসে থাকে তোমার বুকে জাল ফেলে রূপালী ইলিশ ধরবে ভেবে। কতনা পাখি উড়ে আকাশের বুকে ডানা মেলে মনের পেখম খুলে, হে নদী আমি আমার দেশকে ভালবাসি ভালোবাসি তোমাকে ভালোবাসি তোমার অথৈ জলকে। হে নদী তোমার বুকে যখন চর জেগে ওঠে মাঝে মাঝে দেখতে পাই ছোট ছোট শিশুরা তোমার বুকে আনন্দে করে খেলা, খেলতে-খেলতে কেটে যায় তাদের বেলা।
হে নদী তোমার ঐ পাড়ে বট বৃক্ষের তলায় বসে রাখাল যখন বাজায় বাশি, দিগন্তে যেনো সবুজের খেলা করে রাশি রাশি, আমাদের দেশে রয়েছে অনেক রকমের নদী, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বহে নিরবধি। আকাশে ওড়ে অনেক রকমের পাখি, পড়ন্ত বিকালে সোনালী সূর্যের আলো গায়ে মাখি। আকাশে পাখি ওড়ে মুক্ত পাখা মেলে সাঁঝের বেলায় ঘরে ফিরে আসে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে। কৃষকেরা মাঠ ফলায় সোনালী ধান, কখনো তাতে নেমে আসে নদীর বান। এ দেশের সৌন্দর্য্য নিয়ে কবিতায় লিখেছেন বহু কবি, আমার কাছে এ যেন এক সোনার ছবি। আচ্ছা নদী? তোমার স্রোত, তোমার ঢেউ, তোমার সৌন্দর্য্য কে অনুভব করি, (কিন্তু) মাঝে মাঝে কান পেতে শুনি তোমার গর্জন। তোমার ঢেউয়ের আঘাতে দু-কূল ভাঙ্গায় আঘাত। শুনি বাঁধ ভাঙ্গার কান্নার আত্মনাদ। আচ্ছা নদী? তুমি তোমার যৌবন, রূপ রস সৌন্দর্য্য বিলিয়ে দাও আমাদের মাঝে। মাঝে মাঝে কেন তাহলে তোমার ঢেউয়ের আঘাতে কেড়ে নাও মানুষের জীবন। হে নদী তুমি ও এক দিন বিলীন হয়ে যাবে, ফুরিয়ে যাবে তোমার রূপ। তবু কেনো ছুটছো পাগলা হাওয়ার মতো। হে নদী তুম যে টুকু সুখ দাও তার চেয়েও বেশি কেড়ে নাও দুকূল ভাঙ্গার আঘাতে। হে নদী প্রতি দিনের মতো আজো বসলাম তোমার কূল ঘেঁসে তোমার রূপের বহি প্রকাশ কর আপন মনে।
হে নদী তোমার দিকে তাকিয়ে ভাবতে ভাল লাগে, ভাবনার রাজ্যে খুঁজে পাই আমার অভিমানী প্রিয়া কে, হে নদী তুমি কি দেখতে পাচ্ছ? আকাশটা হঠাৎ করে রং বদলাচ্ছে । মেঘে মেঘে আকাশটা ঢেকে দিয়েছে। ফুটো আকাশ বেয়ে বৃষ্টি এলো, তাইনা দেখে ব্যাঙ মামারা মজা পেল। ঝড়ের সাথে বজ্র মেঘে বৃষ্টি পড়ে, সেই খুশিতে শজনে গাছের কোমড় নড়ে। হঠাৎ করে এই আকাশে বৃষ্টি ঝড়ে, সারা দুপুর ভিজলো আহা কেমন করে? আমের বনে জামের বনে নদীর পাড়ে কাশ বনে বৃষ্টি নামে, আকাশটাকে পাঠায় চিঠি ভেজা খামে। অকারনে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে নদীর চার পাশটা দেখছিলাম দু’ চোখ ভরে, দেখলাম কে যেনো কে রাঙ্গা পায়ে নুপুর পড়ে হেঁটে চলেছে নদীর বুকে বালুর চরে। কে এই অভিমানী? নদীর স্রোতে ভাসিয়ে দিলো বকুল ফুলের মালা। আমি দুর ডেকে ছিলাম, তুমি কোন ব্যথায় ভাসিয়ে দিলে তোমার প্রেমের তরি। ভাসাবে যদি মালা তবে কেন গেঁথে ছিলে? আমি তাকে ডেকে ডেকে বললাম ভালবাসলে জ্বালা থাকবে। এই টাই স্বাভাবিক ফুল তুলথে কাঁটা বিধবে তাকে দোষ কি? হায়রে ডাকাতিয়া নদী তোর পাশে বসি যখন প্রিয়ার কথা ভাবি তখন। ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে আমি বসে আছি একা। আমার প্রিয়ার সাথে হলো না দেখা হে নদী তোর বুকে যখন চিক চিক করে বালুর চর অন্য পাশে ভাঙ্গন স্রোতের অথৈ নিথর। ডাকাতিয়া নদীর এক পাড়ে গড়ে উঠেছে বড় একটি হাট। নদীর অন্য পাড়ে বসে আছে ফেরি ঘাট। ডাকাতিয়া নদীর উপরে আছে একটি ব্রীজ তার উপরে চলে কত গাড়ী, গৃহ বধূরা পার হয়ে যায় পরনে রঙ্গিন শাড়ী। ঐ পাড়ে তাকালে দেখি সারি সারি কাশবন একটু বাতাস এলে অমনি নুয়ে পড়ে আমার এই মন। পাশে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি সবুজ গাছ তার সাথে আছে কিছু রঙ্গিন ফুল। না আামর প্রিয়ার দোলছে কানের দোল। যাকে খুঁজি ফিরি অনেক দিন ধরে। যার জন্যে আমার হৃদয় পুরে। আজ বুঁঝি দুর থেকে উঁকি মেরে অভিমান করে মোর সাথে, আমি যাবো ঐ স্থানে আমার প্রিয়ার কাছে, আহা কেমন করে যাবো? প্রিয়া তোমার কাছে। সে তো নদী পথ একটি খেয়া আসবে বলে। ভেবে ছিলাম তুমি বকুল ফুলের মালা নিয়ে আসবে। আমায় ভালো বাসবে? কিন্তু না তুমি এল কলসি কাঁখে পানি নিতে, তোমার হাতে ছিল রেশমী চুরি, পায়ে ছিল আলতা পরা সোনার নাপুর। তুমি নদীর পানিতে ছলাৎ ছলাৎ করে পা দুটো মেলে ছিলে যেনো পরীর ডানা তুলে। আমি বসে তোমার পানে চেয়ে ছিলাম। দেখছিলাম তোমার মায়াবী রূপ তমি কলসী কাঁখে হেটে ছিলে নিঝিম নুপুরের শব্দে হেলে দুলে খোপায় পরা বকুলের গন্ধে। তুমি বঝতে চাও নি তোমর জন্যে কেউ বসে আছে নদীর ঘাটে। তুমি চলে গেছো মনের অজান্তে আর আমি তোমার চরনের ধুলো হাতে নিয়ে ছিলাম। তোমার ছোঁয়া পাব বলে, তোমাকে এক পলক ধরার জন্যে আমি রোজ বিকালে বসে থাকি ডাকাতিয়া নদীর কিনারে। তুমি আসবে বলে। হে নদী আমার প্রিয়া আমাকে বুঝতে চায়না। প্রিয়ার মতো করে তুমি ও আমাকে ভুল বুঝিও না। দেখছো না তোমাকে এক পলক দেখার জন্য বসে থাকি কত অভিমানে। মনের যত স্বাদ আল্লাদ খুঁজে পাই তোমার মাঝে। কিছুটা হলেও সুখ পাই-ক্ষণিকের তরে। রাত নিঝুম বর্ষা পড়েছে বৃষ্টির নুপুর। স্বপ্নরা ভেসে বেড়ায় সন্ধ্যা দুপুর। প্রিয়া আমার মেঘলা দিনের কাকাতুয়া পাখি, প্রিয়ার জন্যে চেয়ে তাকে আমার দুটি আঁখি। প্রিয়ার কতা যথনি কনে পড়ে ছুটে যাই ডাকাতিয়া নদীর পারে, নদীর ঢেউ দেখেছে কেউ, সবুজের ছাতা রং মাখা- মাখা। পাখিদের গান জেগে ওঠে প্রাণ। গর্জে ওঠে নদীর কলতান। মাঝিদের পাল, নদীর বুকের ঢেউয়ের তাল, নদীর পাশে মেঠো পথে গায়ের বধূ যায় হেঁটে। রাখালের বাশির সুর যেনো লাগে সু-মধুর। গায়ের বধূ ডাকে, আয় খোকা আয় তুই নেই বাগানের ফল কাকে খায়। ডাকাতিয়া নদীর নাম। হাজগঞ্জ থানা এই থানাতে আছে কত কী তা অনেকের নেই জানা। হাজীগঞ্জ থানা বহুদূর রোদ মাখা ভোর সবুজের দোর কত পাখি গায় সুরে গান। রাত্রির ঘামে জোনাকিরা নামে। টুনটুনি, কোয়ের করে ঢাকা ডাকি। ডেকে ডেকে হয়রান। জল ভরা নদী, ছোটে নিরবধি মাঝি গায় জারি সারি। ডাকাতিয়া নদী আমার প্রিয় নদী, তাই তার কথা আমি লিখে যাই। তাঁর মাঝে আমার হারানো প্রিয়ার স্মৃতি খুঁজে পাই। হে ডাকাতিয়া নদী, তোমার রূপ সৌন্দর্য্য তোমার ঢেউয়ের তাল যেনো আমার প্রিয়ার নৃত্যর ছন্দ। হে নদী তোমার হুংকার গর্জন কখনো বা তোমার জল শান্ত। তুমি তো নদী আমাদের বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ, তুমি তো মায়ের মতো মা- কখনো তাঁর প্রিয় সন্তানের সাথে অভিনয় ছলনা করে না। তবে তুমি কেনো কর? তোমাকে অনেক ভালোবাসি কেন বুঝনা তুমি কেন তোমার ঢেউয়ের আঘতে একূল ভাঙ্গ ঐ কূল গড়। এই কেমন তেমার বিচার এমন কেন খেলো।

জান্নাতুল ফেরদৌসী (নিলু)
উপজেলাঃ বুড়িচং, কুমিল্লা

Check Also

মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারকেই জোরালো ভূমিকা নিতে হবে

—-মো. আলীআশরাফ খান লেখার শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন, কেনো লেখাটির এমন শিরোনাম দেয়া ...

Leave a Reply