বাবার সাথে ৬ বছর যাবৎ ইট ঙেঙ্গে সংসার চালাচ্ছে ব্রাহ্মণপাড়ার কিশোর রবিন

সৈয়দ আহাম্মদ লাভলুঃ–
যে বয়সে বই হাতে নিয়ে স্কুলে যাবার কথা, যে বয়সে স্কুলের বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করে আনন্দ উল্লাসে মেতে থাকার কথা সে বয়সে হাতে হাতুরী নিয়ে বাবার সাথে ইট ভাঙ্গার কাজে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দীর্ঘভুমি গ্রামের রবিন(১২)। শিশু শ্রম বেআইনী হলেও আমাদের দেশের মানুষরা যেন দেখেও অনেক কিছু দেখেন না। যা সত্যিই অত্যান্ত দুঃখজনক। রবিনের বাবা আবদুল হাকিম বলেন, রবিনের বয়স যখন ৬ বছর তখন সে স্কুলে যেতে অসম্মতি জানায়। তখন আমি বিভিন্ন জায়গায় ইট ভাঙার কাজ করি। স্কুলে যেতে চায়নি বলে তাকে আমার সাথে করে ইট ভাঙার কাজ শিখেয়েছি। গত ৬ বছর যাবৎ সে আমার সাথে ইট ভেঙে অর্থ উপার্জন করছে। আমার ৭ সদস্যের সংসারে আয়ের একমাত্র উৎস আমি ও আমার ছেলে। মাঝে মধ্যে আমি অসুস্থ্য থাকলেও আমার ছেলে রবিন ইট ভেঙ্গে আমার সংসারের খরচ চালিয়ে রাখে। আবদুল হাকিম জানান, বর্তমানে গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ টিনের ঘরের পরিবর্তে বিল্ডিং তৈরী করছে। আর সেজন্যে প্রতিদিন ইট ভাঙা কাজের চাপ বেড়ে গেছে। পরিশ্রমের কাজ হওয়ায় বেশী ইট ভাংতে পারি না। বাবা-ছেলে মিলে দৈনিক ৩ থেকে ৪ শত ইট ভাঙা যায়। আর তা থেকে আয় হয় ৪ থেকে ৫ শত টাকা। এ টাকা দিয়ে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। রবিন জানায় লেখা পড়ায় তার মন বসে না বিধায় সে বাবার সাথে ইট ভাঙার কাজ করে। কিন্তু লেখাপড়া করতে না পেরে মাঝে মধ্যে তার মন খুব খারাপ লাগে। ঝুকিপুর্ণ কাজ হওয়ায় বেশ কয়েক বার তার ও তার বাবার হাতের আঙ্গুলে মারাত্বক ভাবে আহত হয়েছে। কিন্তু অভাবের সংসারে বাবার সাথে এ কাজ করতে এখন আর তার খারাপ লাগে না। গত ৬ বছরের অভিজ্ঞতায় এখন সে একজন দক্ষ ইট ভাঙ্গার কারিগর। এখন একরকম নিরুপায় হয়েই সংসার চালাতে বাবার বড় ছেলে হওয়ায় জুকিপুর্ণ কাজই চালিয়ে যাচ্ছে কিশোর রবিন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply