দেশের রাজনীতি কোন পথে? —-কাজী মোস্তাফা কামাল

দেশ এখন মহারাজনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত। আর মাত্র কয়েক মাস পর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের প্রধান দু’টি জোটের এক পক্ষ ক্ষমতা হারানোর ভয়ে এবং অপর পক্ষ ক্ষমতা লাভের আশায় সমস্যাসংকুল জনগনের মতামত বা দাবির কোন তোয়াক্কা না করে ক্ষমতা দখল করার জন্য এক অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে। যার ফলে দেশ এক মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে চলছে। এখন দেশের মানুষের মুখে মুখে একই কথা শোনা যাচ্ছে ‘দেশের রাজনীতি কোন পথে’?
এই যে দেশ তথা বিশ্বব্যাপি রাজনৈতিব সমস্যা যার সর্বশেষ পরিণতি ইরাক, পাকিস্থান, ও সিরিয়ার মত গৃহযুদ্ধ। যা আমাদের কারো জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না। নব্বইয়ের গণঅভ্যূথ্যান পরবর্তি বিগত ২৩ বছর আওয়ামী ও বিএনপি শাসনামলের হিসাব নিকাশ করলে যা দাঁড়ায় তা হলো, স্বৈরাচার এরশাদ তার ৯ বছরে শাসনামলে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণসহ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে দেশ যতটুকু অগ্রসর হয়েছিল, আওয়ামী ও বিএনপি সরকার সে তুলনায় তেমন কিছুই করতে পারেনি। তাছাড়া দুর্নীতির বদনামে ওই দু’টি দল কোন কোন ক্ষেত্রে এরশাদকেও ছাড়িয়ে গেছে। আরও বড় পরিতাপ ও দুঃখ-যন্ত্রণার বিষয় হলো, প্রতিবারই নির্বাচনকে সামনে রেখে ওই দু’টি দল দেশে যেভাবে হত্যাযজ্ঞ ও জবরদস্তি হরতাল কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাড়ি পোড়ানো ও ভাংচুরসহ নানান ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তা গণতান্ত্রিক রাজনীতির সম্পূর্ন পরিপন্থী।
জনগণ মুলত চায়, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। অপরদিকে বাংলাদেশের সাথে অন্যান্য দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও লজ্জাষ্কর নতজানুনীতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমাদের দেশের নিরীহ মানুষকে পার্শ¦বর্তী দেশের সীমান্তরক্ষীদের দ্বারা হত্যা একটি নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, কিশোরী ফেলানিকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা এবং জনৈক কৃষককে উলঙ্গকরে অমানষিক অত্যাচারের ঘটনা জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক মহলেও বিপুল নিন্দার ঝড় ওঠে। তাছাড়া আর্ন্তজাতিক আইন অমান্য করে আমাদের চুয়ান্নটি নদীর পানি প্রত্যাহার করে নিয়ে আমাদের দেশকে মরণের দিকে ঠেলে দেয়া এবং বহুজাতিক কোম্পানী কর্তৃক আমাদের খনিজ সম্পদ লুন্ঠনসহ ইত্যাদি বিষয়ে বিগত সরকারগুলির নতজানুনীতিরই অকাঠ্য প্রমাণ।
গত তেইশ বছরে আমাদের নির্বাচিত সরকারগুলো জাতীয় ওই সমস্যাসমূহের কোন সুষ্ঠ সমাধান দিতে সম্পূর্ন ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্থান লাভের ২৩ বছর অনেক নেতা-কর্মীর ত্যাগ-তীতিক্ষা ও লক্ষ্য জীবনের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্বাদ আজ বিয়াল্লিশ বছর পরও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে যোজন যোজন মাইল দূরে অবস্থান করছে। এমতাবস্থায় দেশের বিভিন্নতরে অবস্থানরত দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ ও সামরিক-বেসামরিক আমলাদের সমন্বয়ে গঠিত তৃতীয় শক্তির আবির্ভাবকে জনগণ স্বাগত জানাবে। যে সরকারের প্রধান কাজ হবে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের লক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি সঠিক অবস্থানে নিয়ে আসা এবং এ সরকারের মেয়াদকাল হবে ৮-১০ বছর। আমাদের দেশের উর্বর মাটি ও খনিজ সম্পদসহ ১৫ কোটি জনশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে ৮/১০ বছরে দেশকে সর্বদিকে উন্নয়নের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া তেমন কোন অসম্ভব ব্যাপার নয়।

লেখক: সমাজকর্মী
কাটারাপাড়া,দাউদকান্দি, কুমিল্লা।
০১৮৩ ১১৫৫৮৯২

এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, কুমিল্লাওয়েব ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।

Check Also

ফরমালিনের রাজনীতি, আমসত্ত্ব এবং কিছু তথ্য-উপাত্য !!

—-এস এম সাজু আহমেদ ফরমালিনের বিষ রাজনীতিতে, না-কি রাজনীতির বিষই ফরমালিনে প্রবেশ করে ফরমালিন আরো ...

Leave a Reply