রাখাইন সম্প্রদায়ের জলকেলি উৎসব সমাপ্ত

কক্সবাজার :–

তরুণ-তরুণীদের আদর-ভালবাসা সিক্ত জল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শুক্রবার কক্সবাজারে শেষ হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান জলকেলি উৎসব।

একই সাথে তারা বিদায়ী বছরের সব দুঃখ, কষ্ট আর গ্লানি মুছে নতুন দিন শুরুর মানসে নৃত্যের তাল আর গান-বাজনার মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করেছেন দিনটি।

রাখাইনরা জানান, গায়ে পানি ছিটিয়ে, পুরনো জরা-জীর্ণতা ধুয়ে ফেলার আশায় ৩ দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠান করেন তারা। ১৩৭৫ রাখাইন অব্দকে (মঘী সন) বরন করতে পরস্পরে পরস্পরের প্রতি জল ছুঁড়ে পাপ-পঙ্কিলতাকে ঝেড়ে ফেলে নতুন জীবনের সূচনার শপথ নেয় রাখাইন সম্প্রদায়।

এরই ধারাবাহিকতায় জেলায় বসবাসকারী রাখাইন তরুন-তরুনীরাও নতুন পোশাকে নানা রংয়ে, ঢংয়ে আর জল ছিটিয়ে ধুয়ে মুছে এবং নেচে-গেয়ে উদযাপন করে রাখাইন নববর্ষ। রাখাইনদের এই জলকেলি উৎসব জেলার রাখাইন-বাঙালির মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।

এ উৎসবে যোগ দিয়ে বিকেল থেকে দলে দলে রাখাইন তরুণ-তরুণী নির্ধারিত মঞ্চে অবস্থান করেন। এ সময় চারদিকে রাখাইন সঙ্গীতের মূর্ছনা ছড়িয়ে পড়ে।

উৎসবের প্রথম দিন বুধবার থেকে শুক্রবার শেষ দিন পর্যন্ত রাখাইনরা কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। দুপুর ১টা থেকে চলে মন্ডপে মন্ডপে তরুণ-তরুণীদের জল ছুড়ে মারার উৎসব।

রাখাইন তরুন মংমং জানান, ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে রাখাইন তরুণ-তরুণীদের একে অপরের প্রতি জল ছুড়ে মারাই জলকেলির প্রধান আকর্ষণ।

এ উপলে ফুল, বেলুন ও পত্রপল্লবে শোভিত মন্ডপ ও প্যান্ডেল তৈরি করা হয়।

মন্ডপের মাঝখানে জলভর্তি ড্রাম কিংবা কাঠের নৌকার পাশে তরুণীরা তরুণদের অপোয় থাকে।

অন্য মন্ডপ থেকে তরুণেরা নেচে-গেয়ে মন্ডপে প্রবেশ করে।

রাখাইনদের এই উৎসবকে বলা হয় ‘মাহা সাংগ্রেং পোওয়ে।’শুক্রবার সরেজমিনে কক্সবাজার শহরের বড় রাখাইন পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, তরুণীদের সামনে বিভিন্ন পাত্রে বা জলাধারে জল রাখা।

একজন তরুণ একজন তরুণীর দেহে জল ছিটান। আর ওই তরুণীও ওই তরুণের দেহে পাল্টা জল ছিটিয়ে তার প্রতি উত্তর দেন। এভাবে তরুণ-তরুণীদের পানি ছিটানো দিয়ে খেলার মাধ্যমে পানি খেলা উৎসব উদযাপিত হয়।

এসময় হাজার হাজার রাখাইন-বাঙালি জলকেলি উপভোগ করেন। এর আগে উৎসব শুরুর দিন নারী সাংসদ এথিন রাখাইন, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: রুহুল আমিন, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. একে আহমদ হোসেন,

জেলার পুলিশ সুপার মো: আজাদ মিয়া, কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্য ক্যথিং অং সহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে বর্ণাঢ্য এউ উৎসবের শুভ সূচনা করেন।

Check Also

সভাপতি শাকিব খান ও সম্পাদক অমিত হাসান

বিনোদন ডেস্ক :– বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন দ্বিতীয়বারের মত সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন শাকিব ...

Leave a Reply