নাসিরনগরে মুক্তিযোদ্ধা দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ!

আকতার হোসেন ভুইয়া,নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):–
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধাদের খসড়া তালিকা নিয়ে নাসিরনগরে মুক্তিযোদ্ধার দুই পক্ষের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রকাশিত ওয়েব সাইটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সাবেক সাংসদ মোজাম্মেল হক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল হক মাষ্টার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কর্মান্ডার আজহারুল হক,ডেপুটি কর্মান্ডার সুনিল দত্তসহ ১৯ মুক্তিযোদ্ধার নামের পরিবর্তে অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম অর্ন্তভূক্ত করার অভিযোগ উঠে। পরে এ বিষয়ে সংশোধনী দিয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের প্রেরণ করা হলে এ তালিকা নিয়ে অপর পক্ষ ১৯ জন মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা দেয়।
জানা যায়, ১৩ ফেব্র“য়ারি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয় ১ লক্ষ ৭৭ হাজার মুক্তিযোদ্ধার নামের তথ্য সম্বলিত একটি খসড়া ডাটাবেইজ ওয়েব সাইটে প্রকাশ করে। এতে নাসিরনগর উপজেলার ১৯ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম নেই। সেখানে একই উপজেলার ১৯ ব্যক্তির নাম সংযুক্ত করা হয়েছে। নাসিরনগন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দাবি ওয়েব সাইটে নতুন যাদের নাম সংযুক্ত করা হয়েছে তারা সবাই অমুক্তিযোদ্ধা। এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয় বরাবরে বাদ পড়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অর্ন্তভূক্তি করার জন্য লিখিত আবেদন করা হয়। এদিকে ওয়েব সাইটে নতুন যাদের নাম সংযুক্ত করা হয়েছে তারাও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের পাল্টা আবেদন করেছেন । এনিয়ে দুই পক্ষের মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝেই চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ওয়েব সাইটে প্রকাশিত নতুন ১৯ জনের চারজন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহ-কমান্ডার (ত্রাণ ও পূর্নবাসন) মোঃ সোহরাব মোল্লা, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রফিজ মিয়া, আবদুল মোতালিব,শেখ আব্দুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন নতুন করে যাদের নাম সংযুক্ত করা হয়েছে তারা সবাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তারা তাঁদের মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে বেশ কিছু কাগজপত্রও দেখান। তারা আরও জানান,বর্তমান উপজেলা সংসদ কমান্ডের গুরুত¦পূর্ণ পদে নিবার্চিত হলে,কতিপয় মুক্তিযোদ্ধারা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসলেও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কোন্দলসহ বিভিন্ন কারনে তাদের নাম বাদ দেয়ার যড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাই তারা মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর বরাবর এর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন।
উপজেলা কমান্ডার আজাহারুল হক মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কোন্দলের কথা অস্বীকার করে জানান, ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলার ৬৩ জন মুক্তিযোদ্ধার পূর্নাঙ্গ ডাটা বেইজ তৈরি করে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি ওয়েব সাইটে প্রকাশিত তালিকায় ১৯ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম বাদ দিয়ে ক্রমিক নং ০২০২৫০০০১ থেকে ০২০২৫০০০১৯ পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশিত হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাঁরা কৌশলে ১৯ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম বাদ দিয়ে সেখানে তাদের (অমুক্তিযোদ্ধার) নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিহা ফেরদৌসী বলেন, বাদ পড়া ১৯ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে সংশোধনী পাঠানো হয়েছে এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর বরাবর লেখা অপর পক্ষের আরো একটি আবেদনও তিনি পেয়েছেন বলে তিনি জানান।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply