পটুয়াখালীতে গড়ে উঠছে বিষধর সাপের খামার

পটুয়াখালী :–
পটুয়াখালীতে নিবিড় পরিচর্যায় গড়ে উঠেছে বিষধর সাপের খামার। প্রবাসে উপার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করে খামার মালিক শুরু করতে পারছেন না বিষ উৎপাদনের বানিজ্যিক কার্যক্রম।
প্রতিমাসে কয়েক কোটি টাকার বিষ উৎপাদনে সক্ষম ঐ খামারটি নিবন্ধনের আবেদন করে এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায়। বিস্ময়কর ঐ খামারটি দেখতে কৌতহলী মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছেন খামারীর বাড়ীতে। দেখছেন সাপের খেলা। শুনছেন সাপ নিয়ে অজানা তথ্য ও সম্ভাবনার কথা।

সদর উপজেলার নন্দিপাড়া গ্রামের আলহাজ্ব আবদুর রাজ্জাক সৌদি আরব প্রবাসে একটি পত্রিকার ফটোগ্রাফার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন সাপের খামার পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এরপর ২০০০ সালে দেশে ফিরে সাপের খামারের সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষনে বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালান। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার অবশেষে ২০০৮ সালে অগ্রহী উদ্যক্তাদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনের পর গ্রামের বাড়ীতে নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন সাপের খামার ।
গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাপ সংগ্রহ করে বর্তমানে আবদুর রাজ্জাকের খামারে কোবরা জাতের ১৫০টি প্রাপ্ত বয়স্ক সাপ রয়েছ্। এসব সাপের ডিম থেকে জন্ম নিয়েছে আরো ১৫০ টি সাপের বাচ্চা। খামার পরিচর্যায় নিয়োগ করেছেন ৮ জন কর্মচারী। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংগৃহীত, খামার পরিচর্যার বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি অনুসারে নিজেই প্রশিক্ষন দিয়েছেন তাদের।
তবে তিনি আরো উন্নত প্রযুক্তিতে খামার তৈরীর জন্য সরকারী প্রশিক্ষনের দাবী জানান। নিজস্ব উদ্যোগে এ খামারটি গড়ে তুলতে সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন ২৫ লাখ টাকা। বর্তমানে এ খামারটি প্রতিমাসে প্রায় দু’শ গ্রাম বিষ উৎপাদনে সক্ষম। যার বাজার মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা। তার এ খামারটি দেশের অর্থনীতিতে, বিশেষ করে ঔষধ শিল্পে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখতে পারে।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর কেমিষ্টগন খামারটি পরিদর্শন করে লাইসেন্স অনুমোদন সাপেক্ষে বিষ ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতার আবেদন জানান আবদুর রাজ্জাক।
এদিকে, প্রতিদিন যারাই আসছেন সকলেই খামার দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। নানা দিক জেনে শুনে বাস্তবে দেখে সাপ নিয়ে আতংক, কুসংস্কার, ভ্রান্ত ধারনার অনেকটাই কেটে গেছে তাদের। তারাও দাবী জানাচ্ছেন সহযোগিতার।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বন্যপ্রানি আইনে সাপ ধরা বা সাপের খামার করা অনুমোদিত নয়। জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাপের বিষ সংগ্রহ করা এবং বিষ উৎপাদন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যা আইনত; দন্ডনীয় অপরাধ। পটুয়াখালীতে এটি একটি ব্যাতিক্রমধর্মী প্রকল্প।
সরকার যদি এই প্রকল্পে পৃষ্ঠপোষকতা করে তাহলে দেশের অর্থনীতি এবং ওষুধ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রাণীকূলে সাপ আজ আর শুধু ভয়ানক কোন প্রানী নয়। এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্প খাতও। দরকার শুধু বিজ্ঞানসম্মত পৃষ্ঠপোষকতা। এমনই সম্ভাবনা জেগেছে পটুয়াখালীর নন্দীপাড়া গ্রামে।

Check Also

নাসিরনগরে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত

  আকতার হোসেন ভুইয়া,নাসিরনগর :– নাসিরনগরে সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্যোগে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে। শনিবার ...

Leave a Reply