সরাইলে পিডিবি’র গ্রাহক হয়রানি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন

আরিফুল ইসলাম সুমন,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:–
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল পিডিবি’র বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে নানা অনিয়ম চলছে দীর্ঘ দিন যাবত। এখানে সেবার নামে গ্রাহক হয়রানি নিত্যঘটনা। নানা অজুহাতে বৈধ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে এখানকার অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কামিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, অন্যদিকে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে ১৪ হাজারেরও বেশি বৈধ গ্রাহকদের ওপর।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সরাইল পিডিবি’র বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। এখানকার মান্থাতার আমলের বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি ও তার পরিবর্তনের নামে লাখ টাকার বাণিজ্য হচ্ছে। টাকার বিনিময়ে কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় খুঁটির পরিবর্তে গাছের ডাল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ লাইন টানা হয়েছে। মোটাঅংকের অর্থবাণিজ্যে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পিডিবির সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কোন এলাকায় টান্সফরমার বিকল অথবা চুরি হয়ে গেলে টান্সফরমার মেরামত ও স্থাপনে পিডিবি’র লোকেরা চাঁদাবাজিতে নেমে পড়ে। এখানকার কয়েকজন বিদ্যুৎ কর্মচারীর যোগসাজশে এলাকায় কিছুদিন পর পর টান্সফরমার চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
এছাড়াও এখানে গ্রাহক হয়রানির মধ্যে রয়েছে, এনালগ মিটার পরিবর্তন করে ডিজিটাল মিটার লাগানোর নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়, ইস্টিমেট বিলের নামে ভৌতিক বিল, আগাম নোটিশ ছাড়াই সংযোগ বিচ্ছিন্নকরন, মিটার না দেখে অফিসে বসেই বিলে মনগড়া রিডিং বসিয়ে দেওয়া, নতুনসংযোগ দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ইত্যাদি।
উপজেলার পিবিবি’র বিদ্যুৎ গ্রাহক অনেকের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী উপরি টাকা না দিলে বিদ্যুৎ কর্মচারীরা ভৌতিক বিল হাতে ধরিয়ে দেয়। এলাকায় লাইনে ত্রুুটি দেখা দিলে দফায় দফায় বলেও এর সুফল পাওয়া যায় না। পরে কয়েকশ’ টাকার অফার দিলে পিডিবি’র কর্মচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করে দেয়। বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আছে। এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে ঘনিষ্টতা রয়েছে- এমন খেলাপী অনেক গ্রাহক আছেন বহালতবিয়তে। তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় না বছরের পর বছর ধরে। পিডিবির দফতর সূত্রে জানা গেছে, সরাইল এলাকায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় কোটি ৭৩ লাখ টাকা বিল বকেয়া রয়েছে।
সরাইল বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এফ.এম. নুরউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, গ্রাহক হয়রানির সুনিদিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। এখন কোন সংযোগে গড়বিল করা হয় না। মিটার রিডিংয়ের চেয়ে অতিরিক্ত বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ নিয়ে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি পিডিবির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বকেয়া বিল আদায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করনসহ মামলা চলমান আছে। তবে এখানকার বেশকিছু মসজিদ-মাদ্রাসা ও মন্দিরে প্রায় এক কোটি টাকা বকেয়া আছে। তাছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৩০ লাখ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পে ৩০ লাখ টাকা বকেয়া থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বিল আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রত্যেক গ্রাহকের মিটার দেখে বিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই মোতাবেক কিছু কাজ হচ্ছে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply