কুমিল্লার ৬ টি আসনে উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের নাজুক অবস্থা

কামরুজ্জামান জনি, স্টাফ রিপোর্টার:–
কুমিল্লার ৬টি আসনের স্থানীয় সংসদ সংসদ্যরা এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড না করার কারণে জনগণ থেকে অনেকটা দূরে সরে আছেন। সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয় লোকজনের সাথে আলাপকালে জানা যায়, গত নির্বাচনে মহাজোট সরকারকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করেছেন স্থানীয় ভোটাররা। নির্বাচিত সরকার দলীয় এমপিদের লোকজনের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জবর দখলসহ বিভিন্ন অপর্কমের কারনে এমপিদের নিজ নিজ এলাকার লোকজন ফুসে উঠেছে। অন্য দিকে এলাকার যে পরিমান উন্নয়নমূলক কাজ হওয়ার কথা সে পরিমান কাজ না হওয়ার এলাকার সাধারন মানুষের আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে সে জবাব দেওয়ার কথা ভাবছেন ।
কুমিল্লা ৬টি নির্বাচনী এলাকার দলীয় সংসদের নানা কার্যকলাপ ও বর্তমান ভাবমুর্তি বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সাম্প্রতিক এক জরিপ করেছে। জরিপে জেলার সংসদ সদস্যদের ইতিবাচক ও নৈতিক নানা কর্মকান্ডের বিষয় উঠে এসেছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে । রিপোর্টে ৬টি আসনের মধ্যে ভাবমূর্তির দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে কুমিল্লা সদর আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার এর নির্বাচনী আসন। সংসদ হাজী বাহারের জনপ্রিয়তা দিন দিন জনগনের কাছে হ্রাস পাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময় সংসদ বাহারের বিরুদ্ধে জাতীয় পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া ও সদর দক্ষিণের একাংশ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল তৃনমূল থেকে উঠে না আসলে ও হঠাৎ করে এসেই আ.লীগের টিকেট নিয়ে প্রথম বারের মত নির্বাচিত হন। দলীয় কোন্দল ও কিছু সুবিধাভোগী নেতাদের উপকারে আসলেও জনগণ থেকে তিনি অনেকটা দূরে রয়েছেন। এলাকার জনগণের আশানুরুপ উন্নয়ন মূলক কাজ না হওয়ার ফলে আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন মনে করেন।
কুমিল্লা-৭ চান্দিনা আসনের সংসদ সদস্য সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশ্রাব নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান না করার কারণে তার জনপ্রিয়তা অনেকটা কমেছে। আগামী নির্বাচনে এ আসনটি হাতছাড়া হওয়ায় সম্ভাবনা বেশী বলে ভোটাররা মনে করছেন।
কুমিল্লা ১০ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আ.হ.ম মোস্তাফা কামাল (লোটাস কামাল) সাবেক কুমিল্লা- ৯ সদর দক্ষিন থেকে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগের টিকেট নিয়ে প্রথম বারের মত নির্বাচিত হন। তাও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার মৃত্যুর কারনে তার বিজয় সহজ হয়। গত নির্বাচনে সদর দক্ষিন কুমিল্লা ৯ আসন টি ভেঙ্গে তিন ভাগে ভাগ করা হলে লোটান কামাল তার সুবিধা অনুযায়ী নাঙ্গলকোট থেকে নির্বাচিত হন। লোটাস কামাল নির্বাচিত হওয়ার পর তার সংসদীয় এলাকায় তেমন সময় না দেয়ার কারণে এবং এলাকার উন্নয়ন না হওয়ায় ওই আসনের ভোটাররা তার উপর ভীষণ ক্ষীপ্ত। তিনি বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ও পরবর্তীতে আইসিসসি এর সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ক্রিকেট খেলার উন্নয়ন করে থাকলেও এলাকার কোন উন্নয়ন হয়নি। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনে ওই আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
লাকসাম মনোরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত আ.লীগের প্রভাবশালী এমপি তাজুল ইসলাম এর দলীয় নেতা কর্মীরা টেন্ডার বাজিও নিম্ন মানের কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। সাধারন মানুষ শান্তিতে থাকলেও এখনো এলাকার বহু উন্নয়নমূলক কাজ থেকে এলাকাবাসী বঞ্চিত। তাই আগামী নির্বাচনে ফলাফল অনেকটা তার বিপরীতে যাবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।
কুমিল্লা দাউদকান্দি থেকে নির্বাচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা অব. মেজর জে.সুবিদ আলী ভূইয়া বিদ্যুৎ ও জালানী মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কিন্তু কুমিল্লার অনেক স্থানে বিদ্যুৎ নেই। এলাকার রাজনীতি পরিস্থিতি নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে । এলাকার মানুষ হতাশার মধ্যে যে আশা ভরসা নিয়ে সুবিদ আলীকে নির্বাচিত করেছে তাদের সে আশার প্রতিফলন এখনও স্বপ্নের মতো ভাসছে । এলাকার মানুষ আশার প্রতি ফলন দেখতে চায়। স্থানীয় নেতা কর্মীদের সাথে এমপির দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply