প্রধানমন্ত্রীকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি

রাসেল মাহমুদ,কুবি থেকে:–
আগামী ২০ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কুমিল্লায় আগমন উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের আবেদন জানিয়ে প্রদত্ত স্মারকলিপিটি হবহু নিচে তুলে ধরা হলঃ-

২০ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কুমিল্লায় আগমন উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর পক্ষ থেকে স্বাগতম এবং স্মারকলিপি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের আবেদন।

মহাত্মন
আসসালামু আলাইকুম। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শেও চেতনায় বিশ্বাসী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লায় আগমন উপলক্ষে আপনাকে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছে। আপনার সহযোগিতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য দুইটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পরিচালনার জন্য মহান জাতীয় সংসদে বিল পাশ করায় আপনার সরকারের প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে । ১৯৬০- এর দশকে কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও দীর্ঘ ৪০ বছরের অধিক সময় অপেক্ষার পর ২০০৬ সালের ২৮ মে দেশের ২৫তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ৫০ একর অসমতল লালমাই পাহাড়ি জমির উপর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় যাহা বস্তুত ২০ একর সমতল ভূমি। ঢাকার অদূরে শিক্ষায় অগ্রসরমান বৃহত্তর কুমিল্লাবাসীর জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স ০৭ বছর। শুরু থেকেই মাত্র ৫০ একর পাহাড় ঘেরা ছোট ছোট টিলায় গঠিত অসমতল ভূমিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সমতল ভূমির অভাবে বর্তমানে কোনো ভবন-এমনকি ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রীড়াচর্চার জন্য কোনো খেলার মাঠ নেই। এছাড়া টিলাময় অঞ্চল হওয়ায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যাতায়াত ও যোগাযোগে বিশেষ অসুবিধায় পড়তে হয়।

বর্তমানে যে সব একাডেমিক বিল্ডিং-এ শিক্ষা কার্যক্রম চলছে সেগুলোকে ঊর্ধ্বমুখি, বর্ধিতকরণ ও আরো বেশি আধুনিকায়ন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা ও অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু গবেষণা ইনষ্টিটিউট স্থাপন, একটি সামাজিক বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ, ছাত্রীদের বর্তমানে একটি মাত্র আবাসিক হলের স্থানে বৈষম্য দূর করে কমপক্ষে আনুপাতিক হারে আরো দুইটি আবাসিক ছাত্রী হল নির্মাণ, অত্যাবশ্যকীয় একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল লাইব্রেরী নির্মাণ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য নির্মাণ, একটি জিমনেশিয়াম নির্মাণ, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনের ব্যবস্থাকরণ অত্যন্ত জরুরি।

সম্মানিত অতিথি, আপনি অবগত আছেন যে, ঢাকা এবং চট্টগ্রামের যোগাযোগ পথ মাঝে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এক্ষেত্রে বিশেষ একটি সমস্যাও তৈরি হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাঝে থেকে একটি আলিগলিময় অতি সরু রাস্তা ধরে প্রায় ০৬ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হয়। এই পথটুকু অনেক ক্ষেত্রেই যোগাযোগ হুমকিস্বরূপ। আপনার নিকট আমাদের আকুল আবেদন, অন্তত ঢাকা-চট্টগ্রামের মহাসড়কের সুবিধাজনক স্থান থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অবধি সরাসরি একটি ১৪০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে গতিপথ আরো সহজতর করবেন। পাশাপাশি আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য নিজস্ব কোনো বাস নেই। এজন্য কমপক্ষে ১০ টি বাস প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করবেন বলে আমরা আশা করছি। এছাড়াও ইলেকট্রনিক যোগাযোগ যেমন-ইন্টারনেট ও আইটি সংযোগের মাধ্যমে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ববাসীর সঙ্গে যোগাযোগ আমাদেরকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা সেই পুর্ণ ডিজিটাল বাংলাদেশের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে আছি।

তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর ও জমি বরাদ্দের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আপনার সদয় বিবেচনার জন্য সুনিদিষ্টভাবে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ উত্থাপন করছে:

আমাদের অভিভাবক হিসেবে আপনার নিকট আমাদের বিশেষ চাওয়া, অন্তত আরো ২০০একর জমি বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করবেন ।
ঢাকা-চট্টগ্রামের মহাসড়কের সুবিধাজনক স্থান থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অবধি সরাসরি একটি ১৪০ফুট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করবেন।

কুমিল্লা শহর থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যোগাযোগের জন্য রেলপথ স্থাপন ও শার্টল ট্রেন এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করবেন।
দুইটি আবাসিক ছাত্রী হল নির্মাণ, দুইটি ছাত্র হল নিমার্ণ, অত্যাবশ্যকীয় একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল লাইব্রেরী নির্মাণ, একটি জিমনেশিয়াম নির্মাণ, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনের ব্যবস্থাকরণ নির্দেশনা প্রদান করবেন।
ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য কমপক্ষে ১০টি বাস প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করবেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য নির্মাণের নির্দেশনা প্রদান করবেন।

পরিশেষে, আপনার আগমনে মুখরিত এই ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটি অঙ্গন থেকে আপনাকে জানাই আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন এবং হৃদয়ের উষ্ণতা। আপনার এবং আপনার সরকারের দীর্ঘতা কামনা করি। আপনার জীবন সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গলময় হোক মহান স্রষ্টার নিকট এই প্রার্থনা করি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply