পপি হত্যাকান্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পাল্টাপাল্টি মামলা

মতলব উত্তর :–
মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের তিতারকান্দিতে চাঞ্চল্যকর পপি হত্যায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। প্রকৃত দোষীরা রক্ষা পেতে বিভিন্ন সময় মামলা উঠানোর জন্য হুমকি দেয় ও বলে অভিযোগ করেছে পপির ভাই ভজন চন্দ্র সরকার। এ ব্যপারে গত ৮ এপ্রিল পপির ভাই ভজন চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে চাঁদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে ৭ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। যাহার নং মউঃ ৪৬/০১৩ ইং। আসামীরা হলো- পপির স্বামী পঙ্কজ হালদার (২৫), পিতা- পরিমল চন্দ্র হালদার, মৃত রাজেন্দ্র চন্দ্র হালদারের ছেলে ইউপি সদস্য ভবতোষ হালদার (৫০), পঙ্কজের পিতা- পরিমল চন্দ্র হালদার (৫০), মা- শোভা রানী হালদার (৪২), চাচা- পরিতোষ হালদার (৫৬), চাচাতো ভাই- সুজন হালদার (৩০), নিখিল চন্দ্রের ছেলে সুমন চন্দ্র হালদার (৩০)।

এদিকে, গত ১১ এপ্রিল পপির শ্বাশুড়ি শোভা রানী হালদার বাদী হয়ে চাঁদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে ৭ জনকে আসামী করে পাল্টা মামলা দায়ের করে। যাহার নং- মউঃ ৪৭/০১৩ ইং। আসামীরা হলো- মতলব উত্তর উপজেলার তিতারকান্দি গ্রামের চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে সুজন চন্দ্র সরকার, ভজন চন্দ্র সরকার, মেয়ে শোভারানী সরকার, সন্তোষ মজুমদারের ছেলে জগন্নাথ মজুমদার, হৃদয় রঞ্জন মজুমদার, দেবেন্দ্র মজুমদারের ছেলে সুধাংশু মজুমদার ও ধর্মদাস সরকারের ছেলে দুলাল চন্দ্র সরকার। গত ২ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে পরিমলের ছেলে পঙ্কজের স্ত্রী পপি (২২) এর হত্যা হয়। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রথমে হত্যাকে আত্মহত্যা বললেও পরে হত্যা বলেই চাঁদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে পৃথক দুটি মামলা হয়।

সরেজমিনে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামে ২০১০ সালে মৃত চিত্ত রঞ্জনের কন্যা পপির সাথে একই গ্রামের পরিমল চন্দ্র হালদারের ছেলে পঙ্কজের সাথে হিন্দু ধর্মের বিধান মোতাবেক বিবাহ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দেড় বছর আগে মনিষা নামে একটি কন্যা শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু পপির স্বামী পঙ্কজ পপিকে বিভিন্ন সময়ে টাকা পয়সা চেয়ে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। পপি সহ্য করতে না পেরে তার ভাই ভজনকে দিয়ে একটি বেসরকারী সংস্থা থেকে ৩০ হাজার টাকা লোন নিয়ে পঙ্কজকে দেয়। কিন্তু পঙ্কজ সময়মত টাকা দিতে না দেওয়ায় সংস্থার লোকজন ভজনকে চাপ প্রয়োগ করে। এই নিয়ে ২ এপ্রিল মঙ্গলবার পপি তার স্বামী পঙ্কজকে টাকা ফেরত দিতে বললে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ বাধে। এই কলহকে কেন্দ্র করে স্বামী পঙ্কজসহ অন্যান্য আসামীরা পূর্ব পরিকল্পনা ভিত্তিক পপিকে মারধর করে জখম করে। মুমুর্ষ অবস্থায় আসামীরা নিজেদের রক্ষা করতে রাত সাড়ে ১০টায় পপির মুখে কীটনাশক ঔষধ দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রকাশ করে। পপির ডাকচিৎকারে আশে-পাশের লোকজন বেরিয়ে আসে। পপিকে মতলব দক্ষিন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়ার পথে রাত ১১টায় নায়েরগাঁও বাজারে পপির মৃত্যু হয়।

প্রথম মামলার বাদী পপির ভাই ভজন সরকার জানান, হত্যা প্রমাণিত না হওয়ার জন্য পঙ্কজসহ অন্যান্য আসামীরা গত ৩ এপ্রিল বুধবার ভোরে তড়িগড়ি করে সৎকারের নামে পপির লাশ গুম করেছে। আমার বোনের হত্যার বিচার চেয়ে কোর্টে মামলা করায় আসামী পক্ষরা বিভিন্ন সময়ে আমাকে ও আমার পরিজনদেরকে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। আমি মামলা না উঠানোর কারনে ও সে মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা পাল্টা মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply