জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের মামলার রায় যেকোন দিন

ঢাকা :–
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামানের মামলার রায় যেকোন দিন দেওয়া হবে মর্মে অপেক্ষমান রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মামলাটির কার্যক্রম শেষে রায়ের জন্য (সিএভি)রেখে দেন।

সকালে ট্রাইবু্নালের কার্যক্রম শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর তাদের আইনি পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মঙ্গলবার যুক্তি উপস্থাপন করেন সৈয়দ হায়দার আলী, তুরিন আফরোজ ও একেএম সাইফুল ইসলাম।

অন্যদিকে কামারুজ্জামানের পক্ষে সোমবার যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও ব্যারিস্টার ইহসানি এ সিদ্দিকী।

আদালতে মঙ্গলবার কামারুজ্জামান কথা বলার অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তাৎক্ষানিকভাবে আবেদনটি খারিজ দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষকে যুক্তি উপস্থাপন শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য (সিএভি) অপেক্ষমান রেখে দেন।

প্রসিকউটর সৈয়দ হায়দার আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসামি কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ এবং ধর্ষনের সহায়তা, নির্যাতন, দেশান্তরসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিযোগসমূহ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছি। এতে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা করছি।কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনিত সাতটি চার্জেই মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলেও জানান তিনি।’

অন্যদিক আসামিপক্ষের আইনজীবী কফিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রসিকিউশনের দেওয়া ১৮ সাক্ষীর সাক্ষে একে অপরের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের বক্তব্যে অনেক গরমিল ছিল।’

তিনি বলেন, ‘সাক্ষীদের দেওয়া সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়ে প্রসিকিউশন আজ (মঙ্গলবার) নতুন কৌশলে একটি অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তারা কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাত্তরে সাধারণ সুপিরিয়র রেসপনসিভিলিটির অভিযোগ দায়ের করেছেন। যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’

কফিলউদ্দিন বলেন, ‘আমরা আদালতকে বলেছি প্রসিকিউশনের এ অভিযোগ যদি নেওয়া হয় তাহলে নতুন করে আবার এ মামলার কার্যক্রম শুরু করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রসিকিউশন আনিত অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ মামলায় তিনি (অভিযুক্ত) সম্পুর্ণভাবে খালাস পাবেন। প্রসিকউশনের অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট বলে আজ তারা নতুন অভিযোগ এনেছে।’

তিনি বলেন, ‘এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের ১৮ সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এক হাজার ৩৫৪ সাক্ষীর তালিকা থেকে সাফাই সাক্ষীর পাঁচজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছেন কামারুজ্জামানের ছেলে মোহাম্মদ হাসান ইকবাল এবং তার বড় ভাই কফিল উদ্দিন।’

গত বছরের ১৯ জুন কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা আভিযোগনামায় সংশোধনী আনেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকউশনের এক রিভিউ পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এ সংশোধনী আনেন।

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গঠন করা আদেশের ৭ নম্বর অভিযোগে ‘উপস্থিত থেকে হত্যা করিয়েছেন’ এর স্থলে ‘নির্দেশে’ এবং অন্য একটি অভিযোগে ‘হত্যা করেছেন’ এর স্থলে ‘হত্যা অথবা হত্যায় সহযোগিতা করেছেন’ বলে সংশোধন করা হয়।

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। ৮৪ পৃষ্ঠার এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগে গণহত্যা, গণহত্যা সংগঠনে ষড়যন্ত্র, মানবতাবিরোধী অপরাধ সমূহের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করে প্রসিকিউশন।

গত বছরের ১৬ এপ্রিল প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কামারুজ্জামানের মামলাটি প্রথম ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

এর আগে ২০১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ সুবিন্যস্ত ও যথাযথ হয়নি মর্মে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ১১ জানুযারি ট্রাইব্যুনাল একই কারণে ফিরিয়ে দেন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ। পরপর দুইবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে না নিয়ে ফিরিয়ে দেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনদের ব্যর্থতার কারণে।

২০১০ সালের ১৩ জুলাই একটি গণহত্যা মামলায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ২১ জুলাই এ নেতার মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এরপর ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতার দেখানো হয়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply