জনগনের দাবি না মানলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সরকার পতন : ড. মোশাররফ

ঢাকা :–
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সরকার যদি ভালোয় ভালোয় জনগণের দাবি মেনে নিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিবাচন না দেয়, তাহলে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক শক্তি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সরকারের পতন ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মোশাররফ কারাবন্দি নেতাদের মুক্তির দাবি না করে বলেন, আমরা আন্দোলনের মাধ্যমেই নেতাকর্মীদের মুক্ত করে আনবো।

তিনি বলেন, টিআইবির প্রস্তাবে পরিষ্কার যে প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাই দেশকে করুণ পরিণতির দিকে ঠেলে দেবেন না। দেশকে নিয়ে খেলা করবেন না। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো বিকল্প নেই।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংসদে আপনাদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে সংবিধানে একটি সংশোধনী এনে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পাশ করেন। আর যদি নির্যাতন নিপীড়ন ও সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চান তাহলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। এর দায় দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।

ড. মোশাররফ বলেন, এ সরকার বাঁকা পথে আবার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। তারা দেশে সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জরুরি অবস্থা জারি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এরশাদ যখন গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছিল তখনো শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আই এম নট আন হ্যাপি।

তিনি অভিযোগ করেন, ৭২-৭৫ সালেও আওয়ামী লীগ সরকার ঠিক একইভাবে বিরোধীদল দমনের জন্য গ্রেফতার, হত্যা, পত্রিকা বন্ধ করেছিল। এখনো তারা একই পথে হাটছে।

তিনি বলেন, সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিপক্ষে ও ইসলামের পক্ষে বিপক্ষে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। তাদের উদ্দেশ্য এ দেশকে অন্য একটি রাষ্ট্রের বাজারে পরিণত করা।

তিনি বলেন, জনগণ এ সরকারের অত্যাচারে নিষ্পেষিত। বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করছে। তাদের ব্যর্থতা অযোগ্যতা ধামাচাপা দিতে নানা রকম ফন্দি ফিকির করছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার অন্যায়ভাবে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। মাহমুদুর রহমান স্কাইপি সংলাপের যে ঘটনা তার পত্রিকায় প্রকাশ করেছে তার আগে এটি লন্ডনের একটি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্কাইপি সংলাপের বিষয়টি স্বীকার করে ওই বিচারপতি পদত্যাগ করে প্রমাণ করেছেন যে ঘটনা সত্য। তাহলে মাহমুদুর রহমানরে দোষ কি। তিনি তো শুধু পুনর্মুদ্রণ করেছেন।

ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্র নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ফজলুল হক মিলন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আসাদুর রহমান খান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রফিক শিকদার, আবুল কালাম আজাদ, সেলিমুজ্জামান সেলিম, হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

বক্তারা সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply