ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আজও ৬০ কি.মি.যানজট

শামীমা সুলতানা:–
গতকাল শুক্রবারের মত আজ শনিবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ ৫০ কি.মি. যানজট সৃষ্টি হয়। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। এই রুটে বাস, ট্রাক, লরি, কার্ভাডভ্যান, মিনিবাস, টেম্পু, সিএনজি, বেবীটেক্সি, মোটর সাইকেল, রিক্সা, ভ্যানসহ প্রতিদিন অসংখ্য ভারী, মাঝারি ও হালকা যানবাহন যাত্রী এবং মালামাল পরিবহন করে থাকে। রাজধানী ঢাকার সাথে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ রক্ষার একমাত্র মহাসড়ক এটি। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২৫/৩০ হাজার যানবাহন চলাচল করে বলে জানা যায়।
দেশের পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হরতালের পরদিন অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহনের চাপে শুক্রবার থেকে আজ শনিবার দাউদকান্দি সেতু এলাকা থেকে চান্দিনা সদর এলাকা পর্যন্ত চারলেনে প্রায় ৬০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। যার ফলে সড়কজুড়ে অসংখ্য যানবাহন দীর্ঘ সময় ধরে আটকা পড়ে। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে যাত্রীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এতে যাত্রীদের যেমন সময়ের অপচয় হয়, তেমনি প্্রচ- গরম ও মহাসড়কের চারলেনের প্রকল্পের কাজে ধুলাবালিতে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে না পেরে অনেক সমস্যায় পড়ের যাত্রীরা।
গত শুক্রবার ভোর রাত থেকে শুরু হওয়া এ যানজট। যা দিন গড়িয়ে গভীর রাত পর্যন্ত গড়ায়। ফের যানজট শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে আজ শনিবার দিনব্যাপি অব্যহত থাকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দির গৌরীপুরের সাথে গৌরীপুর-হোমনা, গৌরীপুর-মতলব ও গৌরীপুর-কচুয়া সড়ক এর সংযোগ থাকায় গৌরীপুর প্রায়শঃই কয়েক কিলোমিটার সড়কজুড়ে দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকে। এছাড়াও গৌরীপুর থেকে বিভিন্ন গন্তব্য স্থানে যাওয়ার জন্য সড়কের দুইপাশে ও উপরে অবৈধভাবে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পিকআপ, সিএনজি অটোরিক্সা, টেম্পু, রিক্সা পার্কিং করে রাখায় মাত্রাতিরিক্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। রাস্তায় এলোপাতাড়িভাবে গাড়ি রেখে যাত্রী ও মালামাল উঠানো-নামানো, রাস্তার উপরে গাড়ি পাকিং, পথচারীদের চলাচল পথে বাস, সিএনজি অটোরিক্সা, মাইক্রো, প্রাইভেটকার, রিক্সা স্ট্যান্ডসহ ব্যাঙ্গের ছাতার মত রাস্তার পাশ ঘেষেঁ উঠা বিভিন্ন দোকানপাট ও হাইওয়ে পুলিশের গাফালতির কারনে ঘন্টার পর ঘন্টা গৌরীপুরে যানজট লেগে থাকে।
ফলে দূরের যাত্রীদের দুর্ভোগের কোন সীমা থাকে না। গৌরীপুরে কিছু সংখ্যক যুবক কেউবা লাঠি হাতে কেউবা লাঠি ছাড়া বিভিন্ন রুটের গাড়ি গতিরোধ করে রাস্তার উপর দাঁড় করিয়ে যাত্রী ও মালামাল উঠানামা করায়। এর বিনিময়ে প্রত্যেক গাড়ি থেকে ৩০-৫০ টাকা করে চাঁদা তুলে। যার ফলে যানজটের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। হাইওয়ে পুলিশের চোখের সামনে যুবকরা এসব কাজ করলেও তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছে না। বরং কোন কোন সময় দেখা যায় হাইওয়ে পুলিশও এ অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...