বার্সেলোনার ‘রক্ষাকবচ’ মেসি!

ঢাকা :–
আর্জেন্টাইন লিওনেল মেসি বার্সেলোনার কিংবদন্তি! কথাটা ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে প্রবল প্রতাপে। কিন্তু কেন মেসি বার্সেলোনার কিংবদন্তি? ওটা আরেকবার প্রমাণিত হলো গতকাল বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের বিপক্ষে ম্যাচে। যখন ইনজুরিগ্রস্ত আর্জেন্টাইন জাদুকর মাঠে নামেন; তখন ম্যাচের সময় বাকি রয়েছে ২৮ মিনিট। সফরকারি পিএসজি ১-০ গোলে এগিয়ে। সেমিফাইনাল খেলতে হলে ২৮ মিনিটের মধ্যে বার্সাকে গোলটি শোধ করতেই হবে! মেসি মাঠে ফেরার পর খোলনালচে পাল্টে যাওয়া বার্সেলোনা লক্ষ্য পূরণ করে সেমিফাইনালে উঠে গেছে।

কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ৮ দিন আগে পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচেই হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে পড়েছিলেন মেসি। যে কারণে ওই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তিনি মাঠেই নামতে পারেননি। শঙ্কা ছিল গতকাল ন্যু ক্যাম্পে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে খেলার বিষয়েও। ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠায় প্রথম একাদশে রাখা হয়নি মেসিকে। তাতে পিএসজির বিপক্ষে পরাক্রমশালী বার্সেলোনার ফুটবলশৈলি ছিল ছন্নছাড়া। ঘরের মাঠেও জেতার মতো খেলা খুঁজে পাওয়া যায়নি ইনিয়েস্তা-ফেব্রিগাসদের পায়ে। কোথায় যেন তাদের ফুটবল ছন্দের টান পড়ছিল!

একাদশে না থাকলেও, ভিলানোভা বিপদ আঁচ করতে পেরেই তাকে বদলি তালিকায় রেখে দিলেন। প্রথমার্ধে ছন্নছাড়া ফুটবলের পর দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে ০-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে বার্সেলোনা। সময় যতই গড়াচ্ছিল, ঘরের মাঠে বিদায়ের রাগিনী যেন তীব্র হচ্ছিল। ভিক্টর ভালদেস গত ৫ বছরের মধ্যে তার অন্যতম সেরা ম্যাচটি না খেললে হয়তো, ততক্ষণে বার্সেলোনার বিদায়টাও নিশ্চিত হয়ে যেতো। অসাধারণ কিছু সেভ করে ভালদেস পিএসজিকে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত করেছেন।

যখন কিছুতেই আর ভাগ্য ফিরছে না, ভিলানোভা সাইডবেঞ্চ থেকে মেসিকে প্রস্তুত হতে বললেন। মেসি যখন মাঠে নামার জন্য গা-গরম করছিলেন, তখন ন্যু ক্যাম্প স্টেডিয়ামও যেন নড়ে বসলো। তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরতে শুরু করলো এবার কিছু হতে পারে। ৬২ মিনিটে চেস্ক ফেব্রিগাসের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি। তার মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই যেন পাল্টে যায় বার্সেলোনার খেলার ধারা। মুর্হূমুর্হূ আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে পিএসজি রক্ষণভাগ। ন্যু ক্যাম্পের লাখো দর্শক উন্মুখ অপেক্ষায়, গোলটা কখন আসে, কখন আসে!

আরাধনার গোলটা পরে এসেই গেলো। মেসি মাঠে নেমেছেন সবে ৮ মিনিট হয়েছে। প্রতিপক্ষ পেনাল্টি বক্সের বাইরে বল ড্রিবল করে, দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানালেন। তার বলটি বাড়ালেন ডেভিড ভিলার কাছে। ভিলার পাস খুঁজে পায় ফাঁকায় দাঁড়ানো পেড্রোকে, তা বাঁ-পায়ের শট আঁচড়ে পড়ে পিএসজির জালে। তাতে ন্যু ক্যাম্প স্টেডিয়ামের বুকে চেপে বসা জগদ্দল পাথরটা যেন মুহূর্তেই উড়ে যায়, বহুদূরে।

ম্যাচে মেসির উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, তিনি বার্সেলোনার কী? ইনজুরিতে থাকলেও তিনি দলের অন্যতম স্তম্ভ! পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার সমালোচকরা বলতেই পারে ‘মেসি ছাড়া বার্সেলোনা কিছুই না! এপি।

Check Also

কুমিল্লার বিপক্ষে ১৫৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী

ক্রীড়া প্রতিবেদক :– বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে রাজশাহী কিংসকে ১৫৩ রানের টার্গেট দিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ...

Leave a Reply