২২ বছরে পা দিল এলআরবি

শুভ জন্মদিন- এলআরবি (লাভ রানস ব্লাইন্ড)। সফলতার ২২তম জন্মদিনে পা রাখলো দেশের অন্যতম এই শীর্ষ ব্যান্ড। ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল, বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে এলআরবি’র আত্মপ্রকাশ ঘটে আইয়ুব বাচ্চুর নেতৃত্বে। শুরু থেকেই এই ব্যান্ডটি নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে সফলতা আর জনপ্রিয়তার সিঁড়ি ভেঙ্গেছেন। যার ধারা অব্যাহত রয়েছে এখনো।

এদিকে গতকালকের এই শুভ দিনে বিশেষ কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না বলে জানান এলআরবি জনক আইয়ুব বাচ্চু। তিনি জানান, ‘আজ সারাদিন প্রাণ খুলে ঘুমাবো। কারণ গেল টানা চারদিন বাংলাদেশী আইডলের জাজমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আজ জন্মদিন উপলক্ষ্যে সারাদিন বাসায় থাকবো। খাবো আর ঘুমাবো। আর সন্ধ্যার পর আমাদের এবি কিচেন স্টুডিওতে সহযোদ্ধাদের নিয়ে আড্ডায় মাতোয়ারা হবো। নিজেদের মধ্যে ছোট দেখে একটা কেকও কাটার ইচ্ছে আছে। সবমিলিয়ে আজ আমরা বেশ সাদামাটা ভাবেই জন্মদিনটা পালন করতে চাই। নিজেরা কিছুটা সময় আড্ডা দিতে চাই। তাইতো আজ কোনো শো কিংবা কাজ রাখিনি কেউ।’

এলআরবি’র ২২তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে অগুনতি ভক্ত-শ্রোতাদের নতুন কোনো খবর কিংবা চমক না দিয়ে আইয়ুব বাচ্চু বলেন, ‘আসলে চমক একটা চলমান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। অতীতের মতো আগামীতেও এলআরবি ভক্ত-শ্রোতাদের চমক দিবে। তবে ২২তম জন্মদিনে পা রেখে এলআরবি’র প্রতিটি সদস্য কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা প্রকাশ করছে গানপাগল মানুষগুলোর প্রতি। যাদের সমর্থন না পেলে ২১টি বছর পেরিয়ে আসা অসাধ্য। আমাদের কাছ থেকে চলতি পথে অনেকেই গেছেন, অনেকেই এসেছেন। আমিও থাকবো না একদিন। তাতে কি? আমিতো স্বপ্ন দেখি মানুষের ভালোবাসা নিয়ে এলআরবি বেঁচে থাকবে আরও শতবছর।’ ফেলে আসা ২১টি বছর প্রসঙ্গে স্মৃতিকাতর আইয়ুব বাচ্চু আরও বলেন, ‘আমাদের এই যাত্রা মোটেই খুব বেশি সুখের নয়। যুদ্ধের ২১টি বছর আমরা কেমন করে পার করেছি- সেটা আমরাই জানি। এলআরবি নিয়ে সেই ৯১ থেকে যুদ্ধ করে চলছি, যুদ্ধ এখনো চলছে, স্বাধীনতার সুখ পাইনি। শ্রোতাদের অকুণ্ঠ সমর্থন আর ভালোবাসা পেয়েছি এটা সত্যি। কিন্তু গানের জন্য আমাদের যে যুদ্ধ সেটা এখনো করে যাচ্ছি। আমরা হাল ছাড়িনি।’

উল্লেখ্য, আশির দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘সোলস’ এ টানা ১০ বছর গিটার বাজানোর পর ১৯৯১ সালের পাঁচ এপ্রিল আকস্মিক ভাবে আইয়ুব বাচ্চু গঠন করেন ‘এলআরবি’। এ সময় আইয়ুব বাচ্চু’র সহযোদ্ধা হিসেবে যোগ দেন স্বপন, জয় এবং এস আই টুটুল। শুরু হয় ব্যান্ডের পথচলা। ১৯৯২ সালে সেলফ টাইটেল নিয়ে প্রথমবারের মতো জোড়া অ্যালবাম প্রকাশের মধ্যে দিয়ে অডিও ইন্ডাষ্ট্রিতে হৈচৈ ফেলে দেয় তারা। শুরুতেই সফলতা, পিছু ফিরতে হয়নি এলআরবিকে। এর পর একে একে প্রকাশ পায় ‘সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘স্বপ্ন’ (১৯৯৬), ‘ফেরারী মন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০১), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নাই’ (২০০৫), স্পর্শ (২০০৮) এবং সর্বশেষ ‘যুদ্ধ’ প্রকাশ পায় ২০১২ সালে। নিজেদের অ্যালবামের বাইরে এ এলআরবি’র প্রায় ডজনখানেক মিশ্র অ্যালবামও বাজারে রয়েছে।

এদিকে জন্ম থেকে এলআরবি’র লাইনআপে খুব একটা পরিবর্তন না এলেও গেল ২১ বছরে ব্যাক্তিগত কারণে এলআরবি ছেড়েছেন জয়, মিল্টন আকবর, সুমন, এসআই টুটুল এবং সবশেষে রিয়াদ। এলআরবি’র বর্তমান লাইনআপে আছেন দলনেতা-প্রধান কণ্ঠ এবং লিড গিটারে আইয়ুব বাচ্চু, বেজ গিটারে স্বপন, গিটার ও ব্যাক ভয়েজ মাসুদ এবং ড্রামস এ রোমেল।

Check Also

সভাপতি শাকিব খান ও সম্পাদক অমিত হাসান

বিনোদন ডেস্ক :– বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন দ্বিতীয়বারের মত সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন শাকিব ...

Leave a Reply