সরাইলে শর্তসাপেক্ষে অবরুদ্ধ ৪০ হাজার মানুষ শুধু নৌপথে চলাচলের অনুমতি পেয়েছেন

আরিফুল ইসলাম সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ–
অবশেষে শর্তসাপেক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল অরুয়াইল ইউনিয়নের অবরুদ্ধ ৪০ হাজার মানুষ শুধু নৌপথে চলাচলের অনুমতি পেয়েছেন। প্রতিপক্ষ পাকশিমুল ইউনিয়নের লোকদের দেওয়া শর্তগুলো বাস্তবায়িত হওয়ার পর সড়ক পথের প্রতিবন্ধকতা তুলে নেওয়া হবে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, আবদুস সাত্তার ডিগ্রী কলেজের ¯œাতক শেষ বর্ষের ছাত্র মো. দুলাল মিয়া হত্যা ও দু’দলের এক সংঘর্ষের জের ধরে উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের লোকেরা গত ২৩ মার্চ থেকে সড়ক ও নৌপথে বাধা দিয়ে পাশ্ববর্তী অরুয়াইল ইউনিয়নের নয় গ্রামের অন্তত ৪০ হাজার মানুষকে অবরুদ্ধ করে রাখে। ফলে মালামাল পরিবহন করতে না পারায় স্থানীয় প্রধান বাজারের ছয়শতাধিক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কর্মহীন হয়ে পড়ে এখানকার কয়েকশ’ মানুষ।
অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, এখানকার অবরুদ্ধ মানুষের দূর্ভোগ নিয়ে মিডিয়ায় একাধিক সংবাদ প্রকাশ এবং প্রশাসনের কড়া চাপে পাকশিমুল এলাকার লোকেরা টানা ১৩ দিন পর শুধু নৌপথের প্রতিবন্ধকতা তুলে নিয়েছে। এতে পাকশিমুল এলাকার লোকেরা কয়েকটি শর্তজুড়ে দিয়েছে। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শর্তগুলো এখানকার শীর্ষ জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের জানাবে। ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, গত শুক্রবার সকাল থেকে অরুয়াইলের যাত্রী ও পণ্যবোঝাই নৌকা চলাচল শুরু হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় একাধিক বিশ্বস্তসূত্র জানায়, শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে অরুয়াইল বাজার নৌঘাট এলাকায় সরকারি বরাদ্দ কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুইটি ঘাটলা দখলমুক্ত করা ও অরুয়াইল বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ এবং বাজার ব্যবসায়ী (বণিক) সমিতির সভাপতি পদ দুইটি আজীবনের জন্য পাকশিমুল ইউনিয়নকে দিতে হবে।
গত শুক্রবার পাকশিমুল ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক বলেন, অরুয়াইলের কিছু সন্ত্রাসী পাকশিমুলের এক কলেজ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়নবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে অরুয়াইল ইউনিয়নের লোকেরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থা নিরসনে ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লার নেতাদের নিয়ে সভা করা হয়েছে। তারা অরুয়াইল বাজার নিয়ে কয়েকটি দাবি রেখেছেন। দু’এক দিনের মধ্যে ইউনিয়নবাসীর দাবিগুলো স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হবে। ইউপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, নদীপথে তাদেরকে (অরুয়াইলের লোকেরা) নির্ভয়ে চলাচলসহ মামলামাল পরিবহন করতে আমরা জানিয়ে দিয়েছি। আশা করি ইউনিয়নবাসীর যৌক্তিক দাবিগুলো এখানকার দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিরা আমলে নিয়ে এসবের বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিবেন। অচিরেই সড়কপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল হয়ে যাবে।
অরুয়াইল এলাকার হিরালাল সূত্রধর বলেন, ’বিনা দোষেই আমরা অবরুদ্ধ হয়ে আছি। আমাদের লোকজন উপজেলা সদরে যেতে পারছেনা। যে কারনে স্থানীয় বাজারে জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। তারা নৌপথ খুলে দিলেও সড়কপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
অরুয়াইল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান বলেন, এখানকার নৌপথে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল আনা-নেওয়া সহজ হলেও জনসাধারণের চলাচলে চরম দূর্ভোগ। সড়ক পথ খুলে না দেওয়া পর্যন্ত ইউনিয়নের লোকদের জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক হবে না।
সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার চক্রবর্তী বলেন, এলাকার পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। সংসদ সদস্যও বিষয়টি সুরাহার জন্য চেষ্টা করছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply