বিজয়নগরে সিএনজি চালককে মারধর করে টাকা নিয়েছে পুলিশ!

আরিফুল ইসলাম সুমন,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ–
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক সিএনজি চালককে ডাকাত সন্দেহে পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে বেধরক মারধরসহ পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে। ওই সিএনজি চালক উপজেলার সাতবর্গ গ্রামের শহিদুল ইসলামের পুত্র আমানুর রহমান সুমন (৩২) বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
জানা যায়, গত ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় সাতবর্গ গ্রামের সিএনজি চালক আমানুর রহমান সুমনকে পার্শ্ববতী মাধবপুর উপজেলার নোয়াগাঁ রাস্তার মোড়ের একটি চায়ের দোকান থেকে মাধবপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। তাকে থানায় নিয়ে রাতে মারধর করে মোটা অঙ্কেও টাকা দাবী করে। সে টাকা দিতে অস্বীকার করায় পুলিশ বেপরোয়া হয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে তার পিতা শহিদুল ইসলাম ও ভাই জহির থানায় গেলে এসআই মমিনুল ইসলাম তাদের নিকট দুই লাখ টাকা দাবী করে। পরে তারা এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিলে পরের দিন ছেড়ে দিবে বলে আশ্বাস দেয়। পরের দিন ২৫ মার্চ সকালে মাধবপুর সিএনজি শ্রমিক সমিতি সুমনের মুক্তির দাবীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক টানা এক ঘন্টা নাগাদ অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ মাধবপুর সিএনজি শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ বুধন্তি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের জিম্মায় সুমনকে ছেড়ে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আমানুর রহমান সুমনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে সে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে তার পরিবারের লোকজন জানায়।
এই ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে মাধবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) কমল দেব জানান, ‘আমি এ বিষয়ে কোনোকিছুই জানি না। তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করুন।’ মাধবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মমিনুল ইসলাম জানান, ‘আমানুর রহমান সুমনকে ডাকাত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’ তবে ঘুষ নেবার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply