চাঁদপুরে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পাশেই বসছে জাটকার হাট

চাঁদপুরঃ–
চাঁদপুরে নির্বিচারে ইলিশের পোনা নিধন চলছে। ইলিশের বংশ ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। জাটকা রক্ষায় বা জাটকা নিধন প্রতিরোধে সরকারি কার্যক্রম যেনো শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ দেখা যায়। মাঝে মধ্যে দু’একটি অভিযান পরিলক্ষিত হলেও এসব যেনো শুধু মাত্র আইওয়াশ। তাছাড়া জাটকা রক্ষায় শুধুমাত্র প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ ছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সমাজপতি, সচেতন ব্যক্তি এবং সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি কারোরই যেনো কোনো মাথা ব্যথা নেই। তাদের কোনো উদ্যোগ বা তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। জাটকা রক্ষার দায়িত্ব যেনো শুধুমাত্র প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর।

বছরের প্রায় অর্ধেক সময় এখন চাঁদপুরের ষাটনল থেকে শুরু করে লক্ষীপুরের চর আনেকজান্ডার পর্যন্ত পদ্মা ও মেঘনা নদীর ১১০ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন মেয়াদে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। একটি সময় মা ইলিশকে বাঁচাতে নদীতে জাল ফেলা নিষিদ্ধ থাকে। আবার প্রায় ছয় মাসের মতো জাটকা রক্ষা কার্যক্রম থাকে। এই ছয় মাসের মধ্যে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস থাকে মাছের অভয়াশ্রম। অর্থাৎ এই দুই মাস নদীতে জাল ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এসবের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের সম্পদ ‘পানির নিচের সোনা’ রূপালী ইলিশকে রক্ষা করা। এটি যেমনি দেশের জাতীয় মাছ, তেমনি বিদেশে রপ্তানি করে অর্থ উপার্জনে বিশাল ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর জাটকা রক্ষা কার্যক্রম এবং মাছের অভয়াশ্রম কর্মসূচি সরকারিভাবে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে শুরু হয়। সেখানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকেন এবং বক্তব্য রাখেন। এছাড়া মৎস্যজীবী ও জেলে প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকেন ও বক্তব্য রাখেন। অনেকে এসব অনুষ্ঠানে বেশ জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখেন। ব্যস্ এটুকুই। আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, মৎস্যজীবী, জেলে প্রতিনিধি, সমাজপতি কারোরই জাটকা নিধন প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা দেখা যায় না। বরং কিছু কিছু মৎস্যজীবী ও তথাকথিত জেলে প্রতিনিধি বা জেলে নেতা জাটকা নিধনে সর্বাত্মক সহযোগিতায় মেতে উঠে। তারা নানাভাবে নৌকা দিয়ে, জাল কিনে দিয়ে ও দাদন খাটিয়ে অসাধু ও লোভী জেলেদের ব্যবহার করে জাটকা নিধনে মেতে উঠে। অথচ এরাই আবার বিভিন্ন সভায় জাটকা নিধন প্রতিরোধে বড় গলায় জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখেন। আবার কোনো কোনো সময় এবং কোনো কোনো জায়গায় দেখা যায়, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জাটকা নিধনে সহায়তার ভূমিকা রাখে। তেমনি একটি স্পট হচ্ছে চাঁদপুর শহরের বড়স্টেশনস্থ যমুনা রোড ও টিলাবাড়ি এলাকা। যা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পাশেই অবস্থিত এবং কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনেরও বলতে গেলে কাছাকাছি। অথচ সিভিল প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, টাস্কফোর্স, পুলিশ বা কোস্টগার্ডকে কখনো এই এলাকায় অভিযান করতে দেখা যায়নি। অথচ এখানে প্রতি রাতে চলে জাটকা ধরার মহোৎসব এবং চলে জাটকার বিকিকিনি।

বড় স্টেশন যমুনা রোড এলাকাটি হচ্ছে মেঘনার তীরবর্তী এলাকা। এখানে প্রতি রাতে দেখা যায় যে, জাটকার হাট বসে। সেখানকার মেঘনার বিস্তীর্ণ এলাকায় রাতে জাটকা ধরার মহোৎসব চলে। অসাধু এবং মৌসুমী জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে নদীতে জাটকা ধরে যমুনা রোড এলাকার বাসা-বাড়ি এবং টিলাবাড়ি এলাকায় নিয়ে আসে। এখানেই জাল থেকে জাটকা ছাড়ানো হয় এবং বেচাকেনা চলে। এখান থেকে বরফ দিয়ে বস্তাভর্তি করে এবং প্যাকেটজাত করে জাটকাগুলো বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। আর এসব কিছু চলে বিনা বাধায়। অথচ কাছাকাছিই রয়েছে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। অভিযোগ রয়েছে, নৌ-ফাঁড়ির পুলিশকে ম্যানেজ করেই এসব হচ্ছে। তাছাড়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িসহ কিছু কিছু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনের এখন প্রতিবেলার খাবারের মেন্যুতে জাটকা ও ইলিশ দেখা যায় বলে জানা গেছে।

বড় স্টেশন এলাকায় এভাবে জাটকা নিধনের মহোৎসব চললেও সেখানে জনপ্রতিনিধিও প্রভাবশালী মহল যেনো নীরব দর্শকের ভূমিকায়। শুধু বড়ষ্টেশনই নয় চাঁদপুর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার অন্তত ৩০ টি স্পটে জাটকা নিধনের মহোৎসব চলছে। একদিকে প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে অন্যদিকে চলছে জাটকা নিধন। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন যাত্রীবাহি লঞ্চ এবং ট্রলারে বা নৌকায় অভিযান চালিয়ে কিছু কিছু জাটকা আটক করা হলেও সেসব মাছ নিয়ে চলে ভানুমতির খেলা। মাছ আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে। এমন কী সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে সম্প্রতি আটকৃত প্রায় ১৫ রাখ টাকার মাছ হাইমচরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে ফেলেছেন।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply