কুমিল্লায় রেললাইনে নাশকতা: ১৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেনি

কুমিল্লা:–
কুমিল্লা রেললাইনে নাশকতার ঘটনায় সন্দেহভাজন আটককৃত ১৪ শিক্ষার্থী বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি। তাই অভিভাবকরা তাদের নির্দোষ দাবি করে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন। দুপুরে কুমিল্লা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাবাদিক সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা কবির ফকির জানান, কে বা কারা কুমিল্লা রেললাইনের ফিসপ্লেট উঠিয়ে ফেলেছে, কিন্তু এ অভিযোগে কোটবাড়ি চাঙ্গিনীর একটি ছাত্রাবাস থেকে আমাদের সন্তানদের পুলিশ আটক করেছে। আমরা আটকের খবর পেয়ে থানায় গিয়েছি, পুলিশ সুপার মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করেছি।

আটকের কারণে আমাদের সন্তানরা বুধবার পরীক্ষা দিতে পারেনি। আমরা পুলিশ সুপার মহোদয়কে এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের ১ম ও ২য় বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেখিয়েছি। তাতেও লাভ হয়নি। আমাদের সন্তানদের ছাড়া হয়নি।

আমাদের সন্তানরা কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নয়। এই ছেলেগুলো এসএসসি পাশ করে পলিটেকনিকের ১ম ও ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত। তাদের পরীক্ষা চলছে। আমরা মর্মাহত। পরীক্ষার কথা চিন্তা করে আমাদের এই নিদোর্ষ সন্তানদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- নাশকতার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক ইমরানের বাপবা কবির ফকির, আরিফুল ইসলামের বাবা আব্দুল খালেক মাস্টার, তাজির আহমেদের বাবা মো. আলী মাস্টার, সাইফুলের ভাই জাহিদ, শাহজালালের বাবা মিজানুর রহমান মজুমদারসহ আরো অনেকে।

আটককৃতরা হলেন- কুমিল্লা সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো. বেলাল হোসাইন, সিভিল প্রথম পর্বের পরীক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম, ট্রেড কোর্স পরীক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলাম, সিভিল প্রথম পর্বের পরীক্ষার্থী মো. শাহজালাল, পাওয়ার ৩য় পর্বের পরীক্ষার্থী মো. ফরহাদ মিয়াজী, কম্পিউটার প্রথম পর্বের পরীক্ষার্থী মো. রিপন, পাওয়ার ১ম পর্বের পরীক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম খলিল, সিভিল ৩য় পর্বের পরীক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান, সিভিল ৫ম পর্বের পরীক্ষার্থী মো. শাহাব উদ্দিন, ম্যাকানিক্যাল ৩য় পর্বের পরীক্ষার্থী ইমরান, কম্পিউটার প্রথম পর্বের পরীক্ষার্থী মঞ্জুরুল হক, সিভিল ১ম পর্বের পরীক্ষার্থী সাইফুল, ট্রেড কোড পরীক্ষার্থী তাজির আহমেদ ও ইলেকট্রিকেল প্রথম পর্বের পরীক্ষার্থী কায়কোবাদ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চান্দিনা উপজেলার সুহিলপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কবির ফকির বলেন, “আমার ছেলে শিবিরের রাজনীতি করলে আমিও এই অপরাধে জেলে যাবো। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। আর আমার সন্তান কখনো শিবিরের রাজনীতি করতে পারে না। এই মেসটি শিবিরের হতে পারে। এর মানে কি এই যে, সেখানে যারা থাকবে তারা শিবির করে। আমাদের সন্তানরা নাশকতার মতো ঘৃণ্য কাজ করতে পারে না।”

Check Also

দেবিদ্বারে মাদ্রাসার ফলাললে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে : পিছিয়ে কলেজ

দেবিদ্বার প্রতিনিধি :– কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় এবারের এইচ এস সি ও আলিম পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৫ ...

Leave a Reply