চান্দিনায় এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে এসএসসি ও দাখিল এর উত্তর পত্র সরবরাহ

মাসুমুর রহমান মাসুদ, চান্দিনাঃ—
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত আলিম পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা (সৃজনশীল) নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা চলাকালীন চান্দিনার কেন্দ্রগুলোতে এসএসসি ও দাখিল এর অপটিকাল মার্ক রিডার (ওএমআর) উত্তর পত্র সরবরাহ করা হয়েছে। ওএমআর সরবরাহের পর ছাত্র-ছাত্রীরা ওই বিষয়টি জানালে বিপাকে পড়েন কক্ষ পর্যবেক্ষকরা। এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। পরে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের ওই ওএমআর-এ পরীক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সোমবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকে পরীক্ষা শুরু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কক্ষ পর্যবেক্ষক জানান, পরীক্ষার ২ ঘন্টা ১০ মিনিট পর রচনামূলক পরীক্ষা শেষ হয়। পরীক্ষা শুরুর ২ ঘন্টা ২০ মিনিট পর নৈর্ব্যক্তিক এর ওএমআর উত্তর পত্র সরবরাহ করা হয়। পরে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশ্নের সম্মুখিন হন কক্ষ পর্যবেক্ষকরা। এনিয়ে ছুটা-ছুটি শুরু হয়। পরে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে ওই উত্তর পত্রেই পরীক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক হতাশা ও শঙ্কা বিরাজ করছে।
কলেজ ও মাদ্রাসার একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, কলেজের পরীক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া প্রতিটি ওএমআর সিটে এইচএসসি পরীক্ষা ২০১৩ লেখার পরিবর্তে এসএসসি পরীক্ষা ২০১৩ ও মাদ্রাসায় পরীক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া প্রতিটি ওএমআর-এ আলিম পরীক্ষা ২০১৩ লেখার পরীবর্তে দাখিল পরীক্ষা ২০১৩ লেখা আছে। অপরদিকে ওই ওএমআর সিটে ‘‘উত্তর পত্রে কোন অবাঞ্ছিত দাগ দেওয়া যাইবে না’’ এমন লেখা থাকায় সমস্যাটি আরও প্রকট হয়। অনেক পরীক্ষার্থী এসএসসি কেটে এইচএসসি লিখে ফেলেন। মাদ্রাসা বোর্ডের অনেক পরীক্ষার্থী দাখিল কেটে আলিম লিখে ফেলেন। পরে পরীক্ষার্থীরা কক্ষ পর্যবেক্ষকদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনেক পর্যবেক্ষকই এর সমাধান দিতে পারেনি। আবার অনেক পর্যবেক্ষকরা পরীক্ষার্থীদের উত্তর দিতে না পেরে কোন পরিবর্তন করতে বাঁধা দেন।
পরীক্ষা শেষে চান্দিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজ এর পরীক্ষার্থী মীম জানান, “আমি চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছি। আমার কক্ষে ওএমআর সিটে এসএসসি লেখা দেখে কক্ষ পর্যবেক্ষককে দেখাই। তিনি আমাদেরকে জানান, ‘তোমরা কোন কিছুই পরিবর্তন করতে হবে না। শুধু উত্তর দিয়ে যাও। যা করার বোর্ড করবে”। একই কলেজের একাধিক পরীক্ষার্থীদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, ‘বিভিন্ন কক্ষে পর্যবেক্ষকরা এসএসসি লেখা কেটে পাশে এইচএসসি লেখার জন্য বলেন।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র কুমিল্লা মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী আশিকুর রহমান জানান, ওই কেন্দ্রেও একই সমস্যা হয়েছে। সেখানেও তারা এসএসসি লেখা কেটে এইচএসসি লিখে দিয়েছেন।
তবে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন ওএমআর সিট মূল্যায়ন করা হয় কম্পিউটারে। যে উত্তর পত্রে একটি দাগও দেওয়া যায় না, ওই উত্তর পত্রে এসএসসি লেখা কেটে এইচএসসি লেখা থাকবে তা কি করে হয় ? এই সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এব্যাপারে চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম জানান, বোর্ড থেকে একটি নির্দেশিকা এসেছে। ওই নির্দেশিকায় এসএসসি এর স্থানে এইচএসসি লেখার জন্য বলা আছে। কিন্তু কেন এমন সমস্যা হলো তা আমরা জানিনা।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর কুন্ডু গোপী দাস এর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...