সরাইলের চুন্টা ভূমি অফিসে রহস্যজনক আগুন মূল্যবান কাগুজপত্র পুড়ে ছাই

sarail pic 27-3-13= (1)ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ—
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে চুন্টা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে গেছে এলাকার জায়গা জমির মূল্যবান বহু কাগুজপত্র (রেকর্ডপত্র)। তবে এখানকার (চুন্টা) ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আইয়ূব আলী দাবি করেছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকান্ডের সূত্র। আগুনে যেসব কাগজপত্র পুড়েছে তা অপ্রয়োজনীয়, জরুরি রেকর্ডপত্রের কোন ক্ষতি হয়নি।
এলাকাবাসী জানান, গত সোমবার সকালে তালাবদ্ধ ভূমি অফিসের ভবনে ধোঁয়া দেখতে পান চুন্টা বাজারের লোকেরা। খবর পেয়ে চুন্টা গ্রামের বাসিন্দা ও ভূমি অফিসের কর্মচারী মো. ফিরোজ মিয়া দ্রুত এসে তালা খুলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
চুন্টা এলাকার বাসিন্দা মো. শামসুল আরেফিন বলেন, ভবনটির দক্ষিণ দিকের একটি কক্ষে রহস্যজনক আগুনে পুড়েছে ভূমি সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র। কক্ষের তালা খুলার পর আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়। এসময় এ কক্ষের মেঝেতে দেখা গেছে মোমবাতি, নেশা সেবনের সরঞ্জাম, কনডম, যৌন উত্তেজক ওষুধ ও স্প্রে পড়ে রয়েছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া কাগজপত্রের পরিমাণ হবে ওজনে প্রায় ৪/৫ মণ।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলায় চুন্টা বাজারের আশপাশ এলাকায় অধিক মূল্যবান প্রায় ৫০ শতকের বেশি পরিমাণ অর্পিত সম্পত্তি রয়েছে। এসব সম্পত্তি (জায়গা-জমি) বাগিয়ে নিতে এখানকার একটি প্রভাবশালী মহল নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকে জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভূয়া কাগুজপত্র তৈরী করে এসব সম্পত্তি পেতে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা লড়ছেন। এসব সম্পত্তির পুরনো নানা রেকর্ডপত্র ধ্বংস করার প্রয়াসে ভূমি অফিসের অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে এই আগুন লাগাতে পারে।
চুন্টা এলাকার মো. মনির হোসেন বলেন, এখানকার ভূমি অফিসের ভবনে প্রায় সময় রাত্রিযাপন করেন কর্মচারী ফিরোজ মিয়া। ভবনের একটি কক্ষে বিছানাপত্র রয়েছে। এখানে রাতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে।
চুন্টা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভূমি অফিসের ভবনের ওই কক্ষে রাতে মাদকাসক্তদের আড্ডা বসে। বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠতি বয়সের বিপথগামী মেয়েদের এনে এখানে দেহব্যবসা চালানো হয়। এতে এলাকার অনেক যুবক বিপথগামী হচ্ছে। এসব অপকর্মের মূল হোতা কর্মচারী ফিরোজ। তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করেন না।
চুন্টা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারী ও এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার একটিরও সত্যতা নেই। এসব যারা বলছে, তারা আমার সামনে এসে প্রমাণ দিতে পারবে না। অফিসের কাজে আমি মাঝে মধ্যে এখানে রাত্রিযাপন করি।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান বলেন, চুন্টা ভূমি অফিসে আগুন লাগার বিষয়টি আমি জেনেছি। আমাকে জানিয়েছে মাত্র একটি চেয়ার আগুনে পুড়ে গেছে। কিন্তু এত কাগজপত্র পুড়েছে তা জানায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply