ব্রা‏হ্মণপাড়ায় গাছের বড়ই খাওয়ার অভিযোগে এতিমখানার ছাত্রদের উপর হামলা, ১০ ছাত্র আহত

DSC02570মিজানুর রহমান সরকার, ব্রা‏হ্মণপাড়াঃ—
কুমিল্লার ব্রা‏হ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের ছাতিয়ানী গ্রামে শুক্রবার ২২ মার্চ বিকেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাতিয়ানী ইয়াছিন ও ফজরের নেছা হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার ২৫ ছাত্রের রাতের খাবার ফেলে লন্ড ভন্ড করে কোমলমতী ছাত্রদের এলোপাতারি মারধরের অভিযোগে ঘটনাস্থাল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছে ব্রা‏হ্মণপাড়া থানা পুলিশ।
সূত্রে জানা যায়, ২২ মার্চ শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে ওই মাদরাসার ২জন শিশু মাদরাসা পাশ্ববর্তী বাড়ীর এক মহিলার গাছের বড়ই খেতে গিয়ে মহিলাকে বড়ই বলায় ওই মহিলা ক্ষিপ্র হয়ে ঘটনাটি তার ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩০)কে জানায়। ওইদিন শেষ বিকেলে মাদরাসার ছাত্ররা যখন রাতের খাবার খেতে বসে, তখন মৃত আ: খালেকের ছেলে রফিকুল ইসলাম এবং তার মা সুফিয়া বেগম, বোন রহিমা আক্তার হাতে লাঠি নিয়ে মাদরাসায় উপস্থিত হয়ে খেতে বসা শিশুদের উপর এলোপাতারি মারধর করে ১০জনকে আহত করে। এসময় খেতে বসা শিশুদের সমস্ত খাবার লন্ড ভন্ড করে নষ্ট করে টিফিন কেরিয়ার ছুরে ফেলে দেয় হামলাকারীরা। এসময় শিশুদের আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী এসে তাদেরকে উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম, মৃত জামাল হোসেনের ছেলে রেয়াদ উল্লাহ, মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে ইউসুফ, হাসান মিয়া, কাইয়ূম মিয়া, মাহাবুবুর রহমান, রবিউল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, মহি উদ্দিন, কাইয়ূম, রাসেল। এই ব্যাপারে মাদরাসার সুপার মাওলানা আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রতিনিধিকে বলেন, আমি শুক্রবারে জুম্মার নামাজ সময় ব্যস্ত থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে এলাকাবাসী সূত্রে ঘটনা জানতে পেরে দ্রুত মাদরাসায় এসে ১০/১৫জন ছাত্রতে আহত এবং ২৫ জনের রাতের খাবার লন্ড ভন্ড দেখতে পাই। রাতে অনেকেই না খেয়ে রাত কাটিয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এখানে এতিম ও কোমলমতি শিশুরা ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। শিশু সর্বদাই শিশু, তারা যদি কোন অপরাধ করে থাকে, বিচারের জন্য আমি ছিলাম। আমার অনুপস্থিতিতে এভাবে অনৈতিক ভাবে অসহায় এতিম শিশুদের উপর বর্বরোচিত হামলা শিশু নির্যাতনের সামীল। এই ঘটনার আইনগত বিচার হওয়া উচিৎ। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন নান্নু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দু:খ প্রকাশ করে বলেন, আমি স্থানীয় ভাবে ঘটনাটির মীমাংসা করার চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ব্রা‏‏হ্মণপাড়া থানার এস.আই ইকতার মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। থানায় লিখিত অভিযোক করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বক্তব্য নেয়ার জন্য অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের বাড়ীতে গিয়ে কাউকে না পাওয়ায় তাদের কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply