চান্দিনার ওরাইন উচ্চ বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান; স্বীকৃতির ৫ বছরে এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের মানবেতর জীবন যাপন

Chandina Picture 23-03-13 copyমাসুমুর রহমান মাসুদ, চান্দিনাঃ—
চান্দিনা উপজেলার ওরাইন উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠিত হয় ১ জানুয়ারি ১৯৭০ সালে। বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ২শত ৭৯ জন। বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান অব্যাহত আছে। অবকাঠামোগত দিক থেকে পর্যাপ্ত উন্নয়ন না হওয়ায় জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে শিক্ষাদান কার্যক্রম চলছে। শ্রেণী কক্ষগুলোতে পর্যপ্ত জায়গা ও বেঞ্চ না থাকায় অনেক কষ্ট করে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ করতে হচ্ছে। ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ৭১ জন এবং ৭ম শ্রেণীতে ৭৯ জন শিক্ষার্থী একটি করে শ্রেণি কক্ষে বসতে বাধ্য হচ্ছে। এদিকে ৫ জন শিক্ষক ও কর্মচারী মানি পেমেন্ট অর্ডার (এম.পি.ও) ভুক্ত না হওয়ায় সরকারি সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।
সরেজমিনে দেখাগেছে, বিদ্যালয়টি চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নে অবস্থিত। পাশেই বরুড়া উপজেলার সীমান্ত। চান্দিনা উপজেলা সদর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান। বর্তমানে বিদ্যালয়ের নামে ১ একর ২৮ শতাংশ রেজিস্ট্রেশনকৃত জমি রয়েছে। ৩ কক্ষ ও ১ কক্ষ বিশিষ্ট দুটি আধা পাকা ভবন এবং ৩ কক্ষ ও ১ কক্ষ বিশিষ্ট দুটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের জন্য কোন আলাদা লাইব্রেরি, ছাত্রীদের জন্য কমন রুম, প্রধান শিক্ষকের পৃথক কার্যালয় নেই। কম্পিউটার ল্যাব ও শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়টিতে শ্রেণি কক্ষ সংকটের কারণে শাখা বাড়ানো যাচ্ছে না। নতুন শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে ৭ম শ্রেণিতে ৭৯ জন শিক্ষার্থীকে একই ক্লাশে পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা, যা অত্যন্ত পরিশ্রমের। অপরদিকে ৯ম ও ১০ম শ্রেণি পর্যায়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ভাল শিক্ষকরা এ স্কুলে আসতে চায় না। ৯ম ও ১০ম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগও চালু হয় নি, শিক্ষকও নেই। বিজ্ঞান বিভাগ চালু না থাকায় মেধাবী ও বিজ্ঞান বিভাগে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীরা বিজ্ঞন বিভাগে পড়তে চাইলে পায়ে হেটে ৪-৫ কিলোমিটার দূরে অন্য বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এতে তাদের অনেক কষ্ট হয়। ওরাইন উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ চালু করা হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ওই কষ্ট লাঘব হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সফিকুল ইসলাম জানান, ১ ডিসেম্বর ১৯৮৪ সালে বিদ্যালয়টি ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত মানি পেমেন্ট অর্ডার (এম.পি.ও) ভুক্ত হয়। ২০০৮ সালে ৯ম ও ১০ম শ্রেণির স্বীকৃতি পায় বিদ্যালয়টি। কিন্তু স্বীকৃতি প্রাপ্তির ৫ বছর অতিবাহিত হলেও ৯ম ও ১০ম শ্রেণি পর্যায়ে অদ্যাবধি এমপিও ভুক্ত হয় নি। ফলে বিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত ৯ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারীর মধ্যে ৪ জন শিক্ষক ও ১ জন কর্মচারী বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শুধু নামেমাত্র সম্মানি ভাতা নিয়ে পাঠদানের কঠোর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ২০০৬ সালে নিয়োগ প্রাপ্তির পর থেকে সরকারি সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন ওই ৫ জন শিক্ষক ও কর্মচারী।
বিদ্যালয়টির বিগত বছরের ফলাফলও ভাল। ২০১০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত পরপর তিন বছর ওই বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। ২০০৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এসএসসি পরীক্ষায় ২০০৯ সালে ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে ৬ জন, ২০১০ সালে ২১জন পরীক্ষা দিয়ে ১৯ জন, ২০১১ সালে ২১জন পরীক্ষা দিয়ে ১৮ জন, ২০১২ সালে ২৭ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৯ জন পরীক্ষার্থী পাশ করেছে। ২০০৮ সালে ১জন শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণিতে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। ২০১০ সালে এসএসসি তে ১ জন শিক্ষার্থী বোর্ড বৃত্তি লাভ করেছে।
বর্তমান সরকারের সময়ে সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও করার যে পক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে তাতে চান্দিনা উপজেলার নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ওই স্কুলের নাম থাকলেও রহস্যজনক কারণে প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত হয় নি। জানাগেছে, জুনিয়র স্কুলে সরকারি বড় ধরনের অনুদান প্রদানের নিয়ম নেই। ফলে বিদ্যালয়টি অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিক থেকেও অনেকটাই বঞ্চিত।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply