স্কুলছাত্রী উত্ত্যক্তের জের সরাইল রণক্ষেত্র : পুলিশের ওসিসহ আহত শতাধিক

332454454আরিফুল ইসলাম সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ—
এক স্কুলছাত্রীকে উত্যক্তের ঘটনায় শুক্রবার ও বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক দফা সংঘর্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দু’দল গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা, পুলিশের ওসি ও দারোগাসহ উভয়পক্ষের অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছে। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে বেশকিছু ঘরবাড়ি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ভয়াবহ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৬০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৪৬ রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে। এ দাঙ্গার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের উচালিয়াপাড়া গ্রামের মো. আকবর মিয়ার ছেলে জীবন (১৯) গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পাশ্ববর্তী নিজ সরাইল গ্রামের এক স্কুলছাত্রীকে উত্যক্ত করে। খবর পেয়ে স্কুলছাত্রীর বড় ভাই এসে জীবনকে মারধোর করে। এসময় জীবনের পক্ষ নিয়ে উচালিয়াপাড়া গ্রামের কিছু যুবক এগিয়ে এসে ওই স্কুলছাত্রীর ভাইকে পিঠিয়ে আহত করে। এর জের ধরে সন্ধ্যার পর উচালিয়াপাড়া ও নিজ সরাইল গ্রামের সহ¯্রাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘন্টা স্থায়ী সংঘর্ষে দু’দলের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। সংঘর্ষে থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ছোড়ে।
এদিকে ওই ঘটনার জের ধরে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় ওই দুই গ্রামের অন্তত দুই সহস্রাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে বিবদমান দুই গ্রামের সাথে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কিছু দাঙ্গাবাজ যোগ দিলে সংঘর্ষ আরো ভয়াবহ রুপ ধারণ করে। এসময় সদরের বিভিন্ন এলাকায় খন্ড খন্ড সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে উপজেলা সদরের বাজারসহ এখানকার বিপনী বিতানগুলো মূহুর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। সড়কে যানচলাচল থাকে বন্ধ। সংঘর্ষের কারণে সদরের কয়েকটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পারেননি মুসল্লিরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান, পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম, সদর সার্কেল শাহ আলম বকাউল ও ডিবি ওসি দিদারুল ইসলাম। সংঘর্ষ রোধ করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন সরাইল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাজী ইকবাল হোসেন।
প্রায় চার ঘন্টা স্থায়ী সংঘর্ষে সরাইল থানার ওসি তদন্ত ফুয়াদ রোহানী, সহকারী দারোগা (এ.এস.আই) মো. মিন্টু মিয়া, পুলিশ সদস্য আছহাবসহ চারজন আহত হন। এছাড়া সংঘর্ষে আহতরা হলো ইকবাল মিয়া (৪৫), সজল মিয়া (৩৪), বশির মিয়া (৩৫), আহমেদ (৩০), আবেদ (১৮), নান্নু মিয়া (৫৪), ওমর ফারুক (৫০), মফিজ হোসেন (৪০), শুক্কুর মিয়া (৫০), মনজুর আলী (৪৫), মাহাবুব (১৮), হেলাল (১৮), সফিউল্লাহ (২৪), টিটু (২০), আলাউদ্দিন (১৮), রহমান (১৮), জাকির (১৬), রফিক (৩০)সহ দু’দলের শতাধিক লোক আহত হয়। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply