রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে একুশে পদকপ্রাপ্ত হাজী হাশেমের শোক: মুরাদনগরের ১ হাজার ৫‘শ মসজিদে দোয়া

haji-hasem copyমোঃ শরিফুল আলম চৌধুরী,মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকেঃ—
বরেন্য রাজনীতিক ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি মো.জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জাতীয় কমিটির সদস্য,একুশে পদকপ্রাপ্ত ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব আবুল হাশেম।শুক্রবার এক শোকবার্তায় আবুল হাশেম বলেন,“মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে বাঙ্গালি জাতির একটি সংগ্রামী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো।১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙ্গালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনে জিল্লুর রহমান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর।এ দেশের মানুষের ভালবাসায় সিক্ত,মো.জিল্লুরের সুদীর্ঘ,বর্নাঢ্য রাজনীতিক জীবন এ কালের রাজনীতিকদের জন্য এক অনন্য আদর্শ ও অনুকরনীয় হয়ে থাকবে।”একই দিনে কাজিয়াতল বড় বাড়ি আহলে হাদীস বায়তুল আমান জামে মসজিদসহ মুরাদনগরের ৩১৫ টি গ্রামের প্রায় ১ হাজার ৫ ‘শ মসজিদে জুমার নামাযের পর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে মুরাদনগরে আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের সমর্থক প্রবাসী মালয়শিয়া ফেরা আওয়ামীলীগ নেতা মো.আমানউল্লাহ ভূইয়া ও গোলাম মোস্তফা মজুমদারের উদ্যোগে মুরাদনগরের সব মসজিদে রাষ্ট্রপতির রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।এছাড়াও মুরাদনগরের শত শত নারী-পুরুষ শুক্রবার দুপুর ২ টায বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত দোয়া মুনাজাতে অংশগ্রহন করেন।
আওয়ামীলীগের কুমিল্লা জেলার এ নেতা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তিনি প্রার্থনা করেন,আল্লাহ যেন মো.জিল্লুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দেন।জিল্লুর রহমান ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন।গত শনিবার (৯ মার্চ) ছিল তাঁর ৮৫তম জন্ম দিন।মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জিল্লুর রহমান ১৯২৯ সালের এই দিনে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন,১৯৬২ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন,১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন,১৯৬৯-এর গণ অভ্যূহ্থানসহ প্রতিটি গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করেছেন।তিনি ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং ২০০৮ সালে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।২০০৯ সালে তিনি বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।জিল্লুর রহমান পারিবারিক জীবনে ছিলেন এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামীলীগ নেত্রী আইভী রহমান ছিলেন তাঁর স্ত্রী।অপর দিকে আরেক শোক বার্তায় মুরাদনগরের সাবেক সংসদ সদস্য,গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বিএনপি নেতা আলহাজ্ব ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া,কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার,যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া সরকার,মুরাদনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুন আল রশিদ,দেবীদ্বার উপজেলাপ্রেস ক্লাবের সভাপতি এ বি এম আতিকুর রহমান বাশার,সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি সাইফ উদ্দিন রনী,মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অ্যাডভোকেট শামসুল হক ফিরোজ ও মুরাদনগর উপজেলা আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমিটির সভাপতি সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরীও এই প্রবীন রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply