সরাইলে বিদ্যালয় ছুঁটি দিয়ে সালিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ—
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শনিবার চুন্টা এসি একাডেমি (উচ্চ বিদ্যালয়) ছুঁটি দিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সালিশ সভার আয়োজন করেছেন এলাকার সমাজপতিরা। ফলে এই বিদ্যালয়ে আসা বিভিন্ন শ্রেণীর প্রায় সাত শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী মাত্র একটি ক্লাশে অংশ নেওয়ার পর শিক্ষকরা তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার অরুয়াইল ইউপির ধামাউড়া গ্রামে সম্প্রতি এক জোড়া কানের দুল চুরির ঘটনায় দুই গোষ্টির কয়েক দফা হামলা সংঘর্ষে পাঁচজন ব্যক্তি নিহত হন। চার শতাধিক ঘর-বাড়ি লুটপাট ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এলাকা ছেড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে শতাধিক পরিবারের লোকেরা। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। ধামাউড়া গ্রামের এই সমস্যা নিরসনে সালিশ সভার উদ্যোগ নেয় উপজেলা পরিষদ।
শনিবার সকালে চুন্টা এসি একাডেমি প্রাঙ্গনে পেন্ডেল টানিয়ে সালিশের আয়োজন করা হয়। এসময় বিদ্যালয়ে ক্লাশ চলছিল। বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র আলমগীর, সপ্তম শ্রেণীর মোসেহা আক্তার, নবম শ্রেণীর সাইফুল মিয়াসহ অনেক ছাত্রছাত্রী জানান, সকালে বাংলা বিষয়ের ক্লাশ চলছিল হঠাৎ প্রধান শিক্ষক এসে বিদ্যালয় ছুঁটি দিয়ে দেন।
অভিভাবক আবদুর রাজ্জাক বলেন, শুক্রবার ছিল বিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক ছুঁটি। আবার রোববার জাতীয় শিশু দিবস সরকারি বন্ধ। শনিবার ক্লাশ শুরুর কিছুক্ষণ পরই বিদ্যালয় ছুঁটি দেওয়া হয়। সালিশ করলে তারা অন্যকোন স্থানে করতো পারত। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাঘাত করে বিদ্যালয়ে কেন ?
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান নান্নু মিয়া বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি বিদ্যালয় ছুঁটি দিয়েছি। তবে ছাত্রছাত্রীদের একটি ক্লাশ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও চুন্টা ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেতা মোঃ শাহজাহান মিয়া বলেন, বিদ্যালয় প্রঙ্গনে সালিশ সভার আয়োজন করা হয়েছে। এখানে সালিশ হলে ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধা হতে পারে, তাই বিদ্যালয় ছুঁটির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমার সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্যও ছিলেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছায়েদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় ছুঁটি দিয়ে সালিশ করা নিয়ম বর্হিভূত কাজ। এটা যারা করেছেন তা সঠিক হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শনিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আলোচিত সালিশ সভায় সভাপত্বি করেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আবদুস সাত্তার ভূইঁয়া। সালিশ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাপার কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, চুন্টা ইউপি চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শেখ মোঃ হাবিবুর রহমান, অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান নান্নুসহ উপজেলার অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply