ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জাতীয় ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ও কৃমি নাশক ঔষধ নিয়ে “গুজব” শত শত শিশু হাসপাতালে

আকতার হোসেন ভুইয়া,নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ—
ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমি নাশক ঔষধ খেয়ে শিশু অসুস্থ্য ও মৃত্যূর গুজব মঙ্গলবার বিকাল থেকে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে নাসিরনগর উপজেলায়। বিকাল থেকে হঠাৎ করে এ আতংক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যারা ভিটামিন- এ ও কৃমিনাশক ঔষধ খেয়েছে তাদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতংকের সৃষ্টি হয়। পরিবারের লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের নিয়ে আসতে থাকে । এভাবে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নারী-পুরুষ পরিবারের লোকজন- মা-বাবারা শিশু-সন্তানদের নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ভিড় করে। এনিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চরম হিমশিম খেতে হয়েছে। সংবাদ পেয়ে নাসিরনগর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সামিহা ফেরদৌসী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার রায়, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা হামিদা লতিফ পান্না,থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল কাদের,সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রফিজ মিয়াসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ হাসপাতালে ছুটে আসেন। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সামিহা ফেরদৌসী জানান,যেখানে যেখানে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ঔষধ খেয়ে শিশু মারা গেছে বলে গুজব উঠেছে সেসব জায়গায় খবর নিয়ে এর সত্যতা মিলেনি। এটি একটি নিছক গুজব। এ গুজবটি বিশ্বাস না করার জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদেরকে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এলাকায় মাইকিং করে প্রচারণা চালানো নিদের্শ দিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের নিয়ে আসা পরিবারের লোকজন জানায়,বাচ্ছাকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমি নাশক ঔষধ খায়ানোর পর পর শিশুদের মধ্যে খিচনি,বমির সমস্যা দেখা দেয়ায় ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। তবে অনেকেই আবার সুস্থ্য -সবল শিশুকেও গুজবের কারনে নিয়ে আসে বলে স্বীকার করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ জিয়াউল ইসলাম সেলিম জানান, কৃমিনাশক ঔষধ খালি পেটে খেলে শিশুদের বমি বমি ভাব অথবা বমি হতে পারে । এতে ভয়ের কোন কারন নেই। পরে অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি নেমে আসে। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আবু ছালেহ মোহাম্মাদ মুসা জানান, ১২ মার্চ নাসিরনগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৩২৯ টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬ মাস থেকে ১১ মাসের ৫ হাজার ৫জন ও ১ বছর থেকে ৫বছরের ৫৯ হাজার ৮শ ৮৫জন শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ও ৪৪ হাজার ৯৯০ জন শিশুকে কৃমিনাশক ঔষধ খায়ানো হয়েছে। তবে গুজবের কারনে এ উপজেলায় কোন শিশু ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমি নাশক ঔষধ খায়ানো থেকে বঞ্চিত হয়নি বলে তিনি জানায়।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply