কুমিল্লা চাঁদপুর ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ভিটামিন-এ ও কৃমিনাশক ঔষধ খেয়ে শতশত শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে

PH-1
ভিটামিন-এ ও কৃমিনাশক ঔষধ খেয়ে অসুস্থ হয়েছে প্রায় শতাশত শিশু। চারিদিকে মৃতুর গুজব জড়িয়ে পড়ায় অভিবাবকরা ‌আতংকীত হয়ে জেলা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোতে ভীর জমাচ্ছে। আমাদের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টঃ
কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ—-
কচুয়ায় ভিটামিন এ ও কৃমিনাশক ঔষধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। তম্নেধ্যে মারাত্মক অবস্থায় অসুস্থ দুই শিশু কোয়াচাঁদপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের পুত্র তাসমীম (২) ও নাহারা গ্রামের শাহআলমের মেয়ে আছিয়া আক্তার মীম (২) কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থ শিশু বাচ্চারা হচ্ছে উপজেলার মনপুরা গ্রামের রফিকুল ইসলামের শিশু পুত্র সিয়াম (৪), সায়েম (১), সিংআড্ডা গ্রামের কবির হোসেনের পুত্র ইমান (৪), কোয়া গ্রামের কামালের পুত্র শাওন (৪), একই গ্রামের ঠিকাদার বিল্লাল হোসেনের পুত্র রাব্বী (৪), দোয়াটী গ্রামের দশরথ সরকারের মেয়ে মিথিলা সরকার (৩), বুরগী গ্রামের শাহজাহানের পুত্র সাগর (৫) ও মেয়ে রিয়া (৪), উজানী গ্রামের কুদ্দুসের মেয়ে খাদিজা (২)সহ আরো অনেক। এছাড়াও উপজেলার সর্বত্রে বিভিন্ন শিশু অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিএইচও বিজয় কৃষ্ণ সাহা বলেন, যে সমস্ত শিশুদের তেতুল খাওয়ানো হয়েছে তাদেরই অসুস্থ ভাব দেখা দিয়েছে। এতে কোন ধরনের মারাত্মক সমস্যা হবেনা বলে তিনি জানান।
Daudkandi_Photo-(12-03-13)
শামীমা সুলতানা, দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ—
মঙ্গলবার দাউদকান্দিতে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও ক্রীমিনাশক ওষুধ খেয়ে শত শত শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্কুলে হাসপাতাল কর্তৃপতক্ষ ও প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত টিম ৫ বছরের নিচে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও ক্রীমিনাশক ওষুধ খাওয়ায়। ক্যাপসুল ও ক্রীমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর ৪/৫ ঘন্টা পর পরই শিশুদের বমি ও খিচুনি এবং পেটে ব্যাথাসহ উৎবেগ শুরু হয়। বিকাল ৫টা থেকে দাউদকান্দিসহ আশেপাশের উপজেলা থেকে শত শত রোগী গৌরীপুর হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে আসতে শুরু করে। গৌরীপুর হাসপাতালে সিটের ব্যবস্থা না থাকায় শত শত শিশুকে চিকিৎসা করে বিদায় করা হচ্ছে। ২০/২৫ জন শিশুকে চিকিৎসার জন্য গৌরীপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি শিশুদের মধ্যে মোঃ মামুন (৪ বছর) ,মেহেদী হাসান (২২ মাস),আবীর (৭ মাস), কাউসার (৮মাস), আন্নাফি ( ২ বছর), শাকিল (২বছর), রুমি (৪ বছর), রাফি ( দেড়মাস), তাকিয়া (২বছর), রাহিম ( আড়াই বছর) ও রাহাদ (৪ বছর)। শিশুদের এ অবস্থার কারনে মা,বাবা আত্মীয়-স্বজন শিশুদের নিয়ে উপজেলা সরকারী ও প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্ঠা করে জায়গার স্বল্পতার কারনে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছে। এদিকে দাউদকান্দির গৌরীপুর সরকারী হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তারদের রুটিন বাদ করে একটানা সকল ডাক্তারদেরকে চিকিৎসা সেবা প্রদানের নিদের্শ দেয়া হয়েছে বলে দাউদকান্দি উপজেলা (গৌরীপুর) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডাঃ কাজী শামীম হোসেন জানিয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গৌরীপুর হাসপাতালে শত শত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা ভিড় জমাচ্ছেন।

laksam epi 12.3

আবদুর রহিম, লাকসাম প্রতিনিধিঃ—
মঙ্গলবার কুমিল্লার লাকসামে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক খেয়ে শত শত শিশু বমি ও পেটের পিড়ায় আক্রান্ত হয়েছে। বিকেলে লাকসাম সদর হাসপতালের সামনে রোগীদের উপচেপড়া ভীড় দেখা গেছে। আতংকিত অভিভাবকরা হাসপাতাল ছাড়াও শিশুদের নিয়ে অন্যান্য চিকিৎসকদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন।
জানা গেছে, সারাদেশে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন উপলক্ষে লাকসামে ১৭২টি কেন্দ্রে কয়েক হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক খাওয়ানো হয়। এতে কয়েকশ’ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। উপজেলার চুনাতি গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে রাকিুল হাসান (৫) ও মেয়ে ফারজানা আক্তার মারিয়া (২), একই গ্রামের জসিম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে রিফাত হোসেন (৮ মাস), সদর দক্ষিণ উপজেলার ভুশ্চি গ্রামের জামাল হোসেনের মেয়ে লামিয়াকে (১) বমি, পেট ব্যাথাসহ মুখ কালো হওয়া অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আক্রান্ত শিশুদের সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে ডাক্তারদের গড়িমসি পরিলক্ষিত হয়। এ সময় শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকরা হাসপাতালের প্রধান ফটকে হৈ চৈ শুরু করে। আতংকিত শত শত অভিভাবকদের শিশুদের নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকের দিকে ছুটতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সালাউদ্দিন আহমদ জানান, আতংকগ্রস্ত হয়ে অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করেছেন। তিনি অভিভাবকদের আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দেন।

Laksam Pic 12-03-13
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ—
মঙ্গলবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমি নাশক ট্যাবলেট খেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শত শত শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসছে। এরমধ্যে অর্ধশতাধিক শিশুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আতংক সৃস্টি হয়েছে। ওষুধ খাওয়ার পর শিশুরা বমি মাথা ঘুরা সহ অস্বস্তিতে পড়লে তাদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে বিপুল সংখ্যক শিশু জেলা সদর সহ বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালে আসতে থাকে। হাসপাতাল সূত্র জানায় জেলা সদর হাসপাতালে অর্ধশতাধিক শিশু ভর্তি করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডাঃ সরফরাজ খান চৌধুরী বলেন এতে আতংকের কিছু নেই। গুজব সহ গরমের কারণে শিশুদের এমন হচ্ছে । তিনি শিশুদের ডাবের পানি এবং খাবার স্যালাইন, লবণ মেশানো পানি খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। এদিকে হাসপাতাল গুলোতে শিশু ও অভিভাবকদের ভীরে চিকিৎসকরা বিপাকে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছে ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply