লাকসাম ডাকাতিয়া নদী এখন মরাখাল হুমকির মুখে ইরি ফসল!!

Dakatia Nadiআবদুর রহিম, লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :—
ইরি আবাদ মৌসুমের শুরুতেই ডাকাতিয়া নদী পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে সেচ সংকটে চলতি মওসুমে নদীর তীরবর্তী কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার একর জমির ইরি ফসল হুমকির মুখে পড়েছে। ডাকাতিয়া নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় লাকসাম, মনোহরগঞ্জসহ হাজার হাজার একর জমির ইরি ফসল উৎপাদন ব্যাহতের আশংকায় কৃষকদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। জলাঞ্চল খ্যাত মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ফসলি জমিগুলো বছরের প্রায় ৯ মাস পানিতে ভরপুর থাকে। একমাত্র ইরি ফসল নিয়ে স্থানীয় কৃষকরা শংকিত। লাকসাম উপজেলার ইছাপুরা, সাতঘর, সিংজোড়, কালিয়াপুর, শ্রীয়াং, হামিরাবাগসহ মনোহরগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর, চাটিতলা, সমসেরপুর, হাজীপুরা, নিশ্চিন্তপুর, গজরাপাড়া, বড়কেশতলা, ধীকচাঁন্দা, হাড়িয়া হোসেনপুর, আমতলী, শ্রীপুর, বসৈয়া, তালতলা, মৈশাতুয়া, চিকুটিয়া, গন্ডামারা, ডুমুরিয়া, হাটিরপাড়, ঝলম, বচইড়, ভাটগাঁও, লাউলহরীসহ নদী তীরবর্তী অন্যান্য গ্রামের হাজার হাজার কৃষি নির্ভর পরিবার বছরে মাত্র একটি ইরি ফসলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে ডাকাতিয়া নদী শুকিয়ে যাওয়ার দরুণ এতদাঞ্চলের কৃষকের মুখের হাসি বিলীন হয়ে তাদের মাঝে হাহাকার বিরাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়- অনেক কৃষক আশা, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিও এবং মাল্টিপারপাস হতে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে বর্গা জমিন চাষ করেন। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বর্গা চাষিরা দিন যাপন করছেন অনিশ্চয়তার মাঝে।
ডাকাতিয়া নদী খননের দাবী নতুন নয়। হুসেইন মু. এরশাদ প্রেসিডেন্ট থাকাবস্থায় মনোহরগঞ্জ সফরকালে এ দাবি উত্থাপিত হয়েছিল। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া (বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা) প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায় লৎসর দাড়াচোঁ খাল খনন উদ্বোধনকালে এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে চিতোষী-পোমগাঁও স্থানে রেগুলেটর পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে পানির ব্যবস্থা করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীণ (তৎকালীণ মন্ত্রী) বর্তমানে প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান মনোহরগঞ্জ সফরকালে এক জনসভায় ডাকাতিয়া নদী খননসহ পানি সমস্যার সমাধানের ঘোষণা দেন। স্বাধীনতার ৪১ বছরে সকল সরকারই শুধু প্রতিশ্র“তি দিয়ে যান ডাকাতিয়া নদীর খননসহ নাব্যতা রক্ষায় পানির ব্যবস্থা হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় কারো প্রতিশ্র“ত বাস্তবতায় রূপান্তরিত হয়নি।
বর্তমানে এলাকার হতদরিদ্র অসহায় কৃষককুল প্রতিশ্র“তি বাদ দিয়ে বাস্তব সমাধান চায়, ডাকাতিয়া নদীর সমাধান চায়। ডাকাতিয়া খনন কিংবা বিকল্প পানির ব্যবস্থা আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার বিপুল পরিমাণ সার, বীজ সরবরাহ করে সার ও বীজ সংকট সমস্যার সমাধানে প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু পানি না থাকলে শুধু সার ও বীজ দিয়ে ফসল উৎপাদন সম্ভব নয়। পানির অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়াটা স্বাভাবিক। সুতরাং জরুরী ভিত্তিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, কৃষিমন্ত্রী, স্থানীয় এমপি মোঃ তাজুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াছ পাটায়ারীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডাকাতিয়া নদীতে পানির ব্যবস্থা করে কৃষকের হতাশা দূর করবেন বলে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রত্যাশা।

Check Also

লাকসামে বিএনপির ১০ ইউপির কমিটি গঠন

কুমিল্লা প্রতিনিধি :– কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় বিএনপির সকল ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করে ১০টি ইউপির আহ্বায়ক ...

Leave a Reply