ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল হাসপাতালে রোগীর দুই শতাধিক আইভি স্যালাইন টয়লেটে

sarail pic-07-03-13= (2)আরিফুল ইসলাম সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেঃ—
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভর্তি রোগীদের মাঝে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন না দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রোগীদের শিরায় পুশ করার প্রায় দুই শতাধিক আইভি স্যালাইন গোপনে ছুঁরি দিয়ে কেটে হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের টয়লেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এসময় প্রত্যক্ষদর্শী রোগী ও তাদের স্বজনরা সাংবাদিকদের খবর দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
প্রত্যক্ষদর্শী পুরুষ ওয়ার্ডের ১২নং সিটে ভর্তি রোগী মোঃ ইদন আলী জানান, সকালে ওয়ার্ডের পাশেই একটি রুম থেকে রোগী বিছানার ছাদর দিয়ে মুড়িয়ে এসব স্যালাইন দু’জন ব্যক্তি নার্স বসার রুমে নিয়ে যায়। পরে আয়া মঞ্জু বেগম স্যালাইনের প্যাকেটগুলো ছুঁরি দিয়ে কেটে প্লাস্টিক ড্রামে করে টয়লেটে এনে ফেলে এবং খালি প্যাকেটগুলো তারা রেখে দেয়।
ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স জেবুন্নেছা শেলী প্রথমে সাংবাদিকদের জানান, এসব স্যালাইনের ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই এসব ফেলে দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালে কর্তব্যরত দায়িত্বশীল ডাক্তাররা আসার পর তিনি (শেলী) বিষয়টি অন্যভাবে বুঝানোর চেষ্টা করেন।
হাসপাতালের ষ্টোর কিপার মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, এক-দুমাস পর পর পাঁচ থেকে ছয় শত পিছ আইভি স্যালাইন তারা স্টোর থেকে নিয়ে যায়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আর.এম.ও) মোঃ নোমান মিয়া জানান, রোগীর শরীরে স্যালাইন পুশ করার পর এসব খালি প্যাকেট আয়ারা জমিয়ে রাখে এবং পরে একসাথে বাড়িতে নিয়ে তারা এসব জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। তিনি দাবি করেন, এসব প্যাকেটের স্যালাইন বিভিন্ন সময়ে ভর্তি রোগীদের শরীরে পুশ করা হয়েছে।
সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল হক এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এসব দেখার দায়িত্ব আর.এম.ও নোমান সাহেবের। এসব স্যালাইনের মেয়াদ উত্তীর্ণের কথা কেউ তাকে জানায়নি। তাছাড়া স্যালাইনের খালি প্যাকেট বাড়িতে নিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতি। তারা (দায়িত্বশীলরা) সরকারি বেতনভাতা ভোগ করবেন, আর দায়িত্ব পালনে অবহেলা করবেন তা মেনে নেওয়া যায় না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান জানান, হাসপাতালের স্যালাইন বা ওষুধ মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে তা ধ্বংস করার বিধান আছে। সরাইল হাসপাতালের অনিয়মের এই বিষয়টি কেউ তাকে জানাননি। তিনি জানান, আগামী শনিবার সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে অবশ্যই এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply