৭ মার্চ : স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল প্রেরণা —-নাজমুল হক

U D C S  == 2714
৭ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি চিরস্মরণীয় দিন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আলোড়ন সৃষ্টিকারী ভাষন দিয়েছিলেন। পৃথিবীর রাজনীতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ভাষণে পরিণত হয়। এটি এমন একটি কালজয়ী ভাষণ যার চাহিদা যুগ যুগ ধরে বিশ্বে থাকবে। চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ ভাষণ শোনার চাহিদা কখনও শেষ হবে না। যতদিন বাঙালি জাতিসত্ত্বা টিকে থাকবে ততদিন ভাষণ মানুষের হৃদয়ের মনিকোটায় থাকবে।
যুগে যুগে বিভিন্ন দেশের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময় ভাষণ প্রদান করেন। এক একটি ভাষণ দেশ-কাল-জাতি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। ভাষণ বা বক্তৃতা দলের, সমাজের, দেশের নিয়ে হয়ে থাকে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল বাঙালি সত্ত্বার নিয়ে। বুলেট-বোমার ভয়ে ভীত না হয়ে লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে বজ্রের ন্যায় আঘাত করেন তার মুখের প্রতিটি বাক্য। বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার আহবানে শেখ মুজিব বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘আর যদি একটা গুলি চলে, তোমাদের কাছে হুকুম রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল, তোমাদের যা কিছু আছে, তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো…’, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ…’, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃতপক্ষে ৭ মার্চই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায়। এই ভাষণে সমগ্র বাঙালি জাতি জাগ্রত হয়। নতুন করে স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ে। ভাষণের চার দশক পার হলেও এই ভাষণ এখনও মানুষকে আন্দোলিত করে। নতুন করে অধিকার আদায়ের পথ দেখায়। নতুন করে বাঁচতে শেখায়।
বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের মধ্য দিয়ে স্বধীনতা আন্দোলনের সূচনা হয়। তাঁর ভাষণের পর পান্টে যেতে থাকে তৎকালীল পাকিস্থানের রাজনীতির সকল হিসাব নিকাস। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৭ মার্চ সকালে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ফারল্যান্ড ৩২ নম্বরে গিয়ে শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করে জনসভায় স্বাধীনতা ঘোষণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এ অবস্থায় জনসভামুখী পাকিস্তানি দস্যুদের ট্যাংক, কামান, মেশিনগানকে উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ৭ মার্চ তার মাত্র ১৮ মিনিটের ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেন। গত চার দশকে এই ভাষণ নিয়ে অসংখ্য মানুষ আলোচন করেছেন। আনেকে তত্ত্ব আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। ভাষনের ভিডিও চিত্র দেখলে দেখা যাবে বঙ্গুবন্ধু আত্যন্ত সাবলীল ভাবে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মতন সবকিছু বলে গেছেণ। স্বাধীন দেশের সরকারপ্রধানের মতোই বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সরকারকে খাজনা-ট্যাক্স দেয়া বন্ধ করে দেন।
তিনি ভাষণের মাধ্যমে মানুষকে দেশ প্রেমে উদ্ভুত হওয়ার পাশাপাশি অন্যায়ের প্রতিবাদ করার আহবান জানান। তিনি জাতিকে তাঁর অবর্তমানে কি করতে হতে পারে তারও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি জাতির কান্ডারি হয়ে আসেন, জয় করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানান। শেখ মুজিব ভাষণে সাড়ে সাত কোটি মানুষকে শুধু স্বাধীনতার মন্ত্রে ঐক্যবদ্ধ করেননি, গোটা জাতিকে একজন অভিভাবকের মতো ‘তুমি’ করে বলার গৌরব অর্জন করেছিলেন। ২০০৪ সালে বিবিসি’র বিশ্বব্যাপী শ্রোতা জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁর কালজয়ী ভাষণটি মহাকালের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের সকল রাজনীতিবিধদের কাছে মডেলে পরিণত হয়েছে। আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুচনা হয় এর মধ্য দিয়ে।

লেখক : মো. নাজমুল হক
স্কাউটার ও কলাম লেখক
মোবাইল : ০১৭২০-৫৪৮৮৪৭

Check Also

আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট : বাঙালির অশ্রু ঝরার দিন

  কুমিল্লাওয়েব ডেস্ক:– আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। বাঙালির অশ্রু ঝরার দিন। ১৯৭৫ ...

Leave a Reply