কৃষি খরচ বৃদ্ধিতে বিপাকে ব্রা‏হ্মণপাড়ার কৃষক

মিজানুর রহমান সরকার, ব্রা‏হ্মণপাড়া (কুমিল্লা) থেকেঃ—
সেচ সার কীটনাশক সহ কৃষি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বোর চাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছে কুমিল্লা ব্রা‏হ্মণপাড়া উপজেলার ৮ ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ লক্ষ কৃষক। ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশ্যাডিং সেই বিড়ম্বনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে ভোগান্তির সৃষ্টি করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। কৃষকরা এ’প্রতিনিধিকে জানান, পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় পূর্বের চেয়ে পানি কম উঠে। একই জমিতে সেচ দিতে সময় বেশী লাগে। বিদ্যুতের লোড শ্যাডিংয়ের কারনে নিয়মিত সেচ না দিতে পারায় পানির অভাবে ধানের জমি লালছে হয়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষক এ বছর বোর ধানের লক্ষমাত্রা অর্জনে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ব্রা‏হ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: কবির হোসেন জানান, এ বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৮ হাজার ৫শ ১০ হেক্টর জমিতে বোর ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপ ৯৩টি, ডিজেল চালিত ১টি, অগভীর বিদ্যুৎ চালিত নলকূপ ৩০টি, ডিজেল চালিত ৯শ ৩০টি, এলএলপি বিদ্যুৎ চালিত ২০টি, ডিজেল চালিত ৪৬টি। এভাবে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ লোডশ্যাডিং থাকলে কৃষক বেকায়দায় পড়ে যেতে পারে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে কয়েক ঘন্টা পর পূরণরায় এসে ১০-২০ মিনিট স্থায়ী হয়। এতে করে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হয় অনেক ক্ষেত্রে। সার সহ কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এমনিতেই কৃষির প্রতি অনিহা প্রকাশ করছে অনেক কৃষক। ঘন ঘন লোডশ্যাডিংয়ের কারনে তাদের সেই অনীহা বাড়িয়ে দিচ্ছে অনেকাংশে। এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, নিয়মিত জমিতে পানি দিলে কীটনাশক কম লাগে। তাছাড়া জমিতে পার্সিং করলে বিভিন্ন পাখি এসে জমির পোকা খেয়ে ফেলে। একটি ফিঙ্গে পাখি দিনে প্রায় ১শ থেকে ১শ বিশটি বিভিন্ন জাতের পোকা খায়। এতে কৃষকের অনেক উপকার হয়। খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে নিয়মিত বিদ্যুৎ সহ কৃষি খরচ কমানোর জোর দাবী করেছেন এলাকার কৃষক মহল।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply