কুমিল্লায় জামায়াত-শিবির ঝটিকা মিছিল, ভাংচুর, নগরজুড়ে আতংক

co-vngকুমিল্লা প্রতিনিধিঃ—
কুমিল্লা মহানগরীতে হাসপাতাল ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ কমপক্ষে ২০টি স্থাপনায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা নগরীর কান্দিরপাড়ে একটি অভিজাত শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এসে জড়ো হয়ে আকস্মিকভাবে লাঠি-সোটা নিয়ে মিছিল বের করে।
জানা যায়, আজ রবিবার ও কাল সোমবার জামায়াতের ডাকা ২ দিনের সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সমর্থনে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জামায়াত-শিবির ‘জয়বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে নগরীতে মিছিল বের করে। এসময় তারা নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরের গণজাগরণমঞ্চ ও তৎসংলগ্ন পূবালী ব্যাংকের জানালার কাঁচের গ্লাসসহ ওই ব্যাংকের এটিএম বুথ ভাংচুর করে। লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিতভাবে সহস্রাধিক জামায়াত-শিবির কর্মীর ওই মিছিলটি নগরীর লাকসাম রোডের টমছমব্রীজ অভিমুখে যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাংচুর চালায়। তারা কান্দিরপাড়ের বে-ল্যান্ড নামের একটি সিমেন্টের দোকান, রামঘাট এলাকায় ফ্রেশ ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, চশমা দোকান, এপোলো হসপিটাল, আলফা ল্যাবরেটরী, এসএ পরিবহনের অফিস, মিডল্যান্ড হাসপাতালসহ ওই হাসপাতালের একটি এ্যাম্বুলেন্স, মেডিনোভা হাসপাতাল, কাশেমুল উলুম মাদ্রাসার সামনের সড়কে একটি রড বোঝাই ট্রাক ভাংচুর করে। এছাড়া টমছমব্রীজ এলাকায় ফিরোজা বেগম ফিলিং স্টেশন, ১টি কর্ডোভা বাস, টমছমব্রীজ কোটবাড়ি সড়কের পার্শ্বে নিরবাস ইসলামীয়া স্কুল এন্ড মাদ্রাসা, মাতৃছায়া ক্লিনিক, হলিকেয়ার হসপিটালে ভাংচুর চালায়। এছাড়াও তারা নগর ছাত্রলীগের সভাপতি এম. সাইফুল ইসলামের বাড়িতে হামলার চেষ্টা চালায়। এসময় স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়। এছাড়া জেলাব্যাপী বিভিন্ন ধরণের গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও আতংক সৃষ্টি করা হয়। এদিকে দৌলতপুর এলাকায় ইনসাফ হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক মামুনের বাড়িতে হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ-র‌্যাব নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয় ও টহল জোরদার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর ও বিকালে এ ধরণের হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা আওয়ামীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসব হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় নগরীতে আতংক বিরাজ করছে। এসব হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় নগরীতে আতংক বিরাজ করছে। এদিকে হরতালে ক্ষতির আশংকায় নগরীর শাসনগাছা ও চকবাজার এলাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনের যানবাহন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন পরিবহন মালিকরা।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply