নাসিরনগরে এখন চাঙ্গা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে ঘর গুছিয়ে স্বপ্ন দেখছে বিএনপি

Nasirnagar (SM AKRAMODJAMAN) Pictureআকতার হোসেন ভুইয়া, নাসিরনগর প্রতিনিধিঃ—
এক সময়ের জাতীয় পার্টির দূর্গ বর্তমানে আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে ঘর গুছিয়ে স্বপ্ন দেখছে বিএনপি। নিবার্চনের এক বছরের কম সময় বাকি থাকলেও তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে (নাসিরনগর- বিজয়নগর উপজেলার একাংশ) বিএনপিতে দৃশ্যত কোন কোন্দল নেই। মূলদল সহ সকল অঙ্গ সংগঠনের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত রয়েছে নিয়মিত শক্তিশালী কমিটি। এ কারনে তাদের সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত মজবুত। আলহাজ্ব সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান সুখন এ দলের হাল ধরার পর থেকে অবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়। বর্তমান অবস্থা ভাল হলেও কিছু পদ বঞ্চিত নেতাদের মধ্যে রয়েছে চাপা ক্ষোভ। আলহাজ্ব সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান সুখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনটিতে জয়লাভ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তার নিবার্চনী এলাকায় ঘন ঘন সফর করে সাংগঠনিক কার্যক্রম সুদৃঢ় করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সেই সাথে নাসিরনগর উপজেলা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এখন চাঙ্গা। প্রায় প্রতিদিনই মতবিনিময় সভা উঠান বৈঠক,শুভেচ্ছা বিনিময়সহ সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা যায়, উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের বিএনপির নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফুরতভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রবাসী কল্যান বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব সৈয়দ একে একরামুজ্জামান (সুখন) দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে পরাজয়ের কারণ চিহ্নিত করে তিনি সমস্যার নিরসন করছেন। নিরীহ ও সাধারণ ভোটাদের দলে টেনে আনছেন। নতুন পুরাতন নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দলকে সামনের দিকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নেতাকর্মীরা তার এ সকল কাজে সাড়াও দিচ্ছেন। আলহাজ্ব সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান সুখন উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের মাধ্যমে রাজনীতি পর্দাপণ করেন। ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতস্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তখন আওয়ামীলীগ তিনিসহ তার কয়েকজন অনুসারীকে বহিস্কার করেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগদান করে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নিবার্চনে মহা জোটের জোয়ারের সময় ৪ দলীয় প্রার্থী হিসেবে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। বর্তমানে তিনি বিএনপির নিবার্হী কমিটির প্রবাসী কল্যান বিষয়ক সম্পাদক। নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির প্রায় সবকয়টি ইউনিয়নের কমিটি গঠন করে তার নের্তৃত্বে আস্থাশীল হওয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচী যৌথভাবে বাস্তবায়নে সফলতা আসছে। এছাড়া উপজেলা যুবদল,ছাত্রদল,সেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল ও কৃষকদের নেতাকর্মীরা দলীয় কর্মসূচী পালনে অগ্রনী ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে নাসিরনগর উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় থাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম দিন দিন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সভা-সমাবেশ,গনসংযোগ ছাড়াও আলহাজ্ব সৈয়দ একে একরামুজ্জামান নানা কৌশলে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। দলীয় নেতা-কর্মীরা হামলা-মামলা,নির্যাতনের শিকার হলেই আলহাজ্ব সৈয়দ একে একরামুজ্জামান তাদের কাছে ছুটে আসেন। গ্রাম-গ্রামান্তরের কর্মসূচী ছাড়াও নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। নর্ববষ,ঈদ,পূজাসহ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনে তার দলীয় কার্যক্রমের প্রসার ঘটছে। তাতে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান এখানে দৃঢ় ও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আলহাজ্ব সৈয়দ একে একরামুজ্জামান সুখনের মালিকানাধীন শিল্প-কারখানার অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মচারীর বাড়ি নাসিরনগরের বিভিন্ন গ্রামে। যা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তার পক্ষে প্রভাব পড়ছে। বিএনপির বেশ ক‘জন নেতাকর্মী বলেন, নেতাকর্মীদের কাছ থেকে কোনরকম টাকা না নিয়ে নিজেই ব্যয়ভার বহন করায় আলহাজ্ব সৈয়দ একে একরামুজ্জামান রাজনৈতিক কর্মকান্ডে এগিয়ে যাচ্ছেন। শক্ত ভীত ও দূর্গ তৈরিতে ইতিমধ্যে তিনি অনেকটা সফলও হয়েছেন বলে তারা জনায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নেতা জানান, বর্তমান বিএনপিতে দলের ত্যাগী নেতারা অনেকটা উপেক্ষিত। নবীনদের বেশী মূল্যায়ন করা হয়। দলে কোন কারণে ভুল বোঝাবুঝি হলে তা নিরসন না করে জিইয়ে রাখা হয়। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গোর্কণ ইউপি চেয়ারম্যান এম এ হান্নান বলেন, আলহাজ্ব সৈয়দ একে একরামুজ্জামানের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যার বলিষ্ট নেতৃত্বে ও যিনি দলের জন্য গ্রামান্তরে ডোর টু ডোর রাত দিন অকান্ত পরিশ্রম করে চলছে। তার নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আজ এক ছাতার তলে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। নাসিরনগর আসনে বিএনপির কোন দ্বন্দ্ব, সংঘাত,বিরোধ না থাকায় সম্মিলিতভাবে দলীয় কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা সহজ হচ্ছে। বর্তমান সরকারের যে কোন অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে আগামী দিনে বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচী সফল করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করার ঘোষনাও দিয়েছেন তিনি। আলহাজ্ব সৈয়দ একে একরামুজ্জামান বলেন, পেশীশক্তির পরিবর্তে মেধাবী ভাল মানুষদের নিয়ে রাজনৈতিক টীম গঠন করতে হবে। যারা মননশীল ও মানুষের কল্যানে নিজেকে নিয়োজিত করবে। রাজনৈতিক গুনগত পরিবর্তন আনতে হবে। তাই এখন থেকেই দলের নির্দেশ মোতাবেক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করছি। এদিকে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির নেতারা প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে মুখ না খুললেও অনেক নেতাকর্মী নাসিরনগরকে (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১) স্বতন্ত্র সংসদীয় আসন ঘোষনা করায় নির্বাচন কমিশনের যৌক্তিক সিদ্ধান্তে তারা খুশি হয়েছন । আর বিএনপির একাধিকনেতা নাম প্রকাশ না করে বলেছেন সংসদীয় আসন পূনবর্হাল হওয়ায় বর্তমানে উপজেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন নাসিরনগর থেকে বিএনপির নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

Check Also

দেবিদ্বারে অগ্নিকান্ডে ১কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ– কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে রান্না ঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনে ১৫টি ...

Leave a Reply