চলমান সহিংসতার দায় সরকার এড়াতে পারে না: অধিকার

Adikarঢাকা:—
দেশের চলমান সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’। সংস্থাটির ফ্রেব্রুয়ারি মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, “সরকার যদি এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধান, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের পথ গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি চরম হুমকির সম্মুখীন হবে এবং এর দায়দায়িত্ব সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না।”

দেশে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ ও পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘অধিকার’ জানায়, জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে ঘিরে ফেব্রুয়ারির শেষ দিন পুলিশ-র‌্যাব ও বিজিবির গুলিতে অর্ধশতাধিক নিহত হয়। এছাড়া গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই পুলিশের গুলি, সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের হামলা ও রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে প্রাণ রক্ষার্থে পালাতে গিয়ে মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০ দিনে খুন হয়েছেন ২৪ জন।

এর আগে গত জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও পুলিশের গুলিতে নিহত ১৭ জন মানুষ। যাদের মধ্যে গত ২৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামে চার জন; ৩১ জানুয়ারি বগুড়ায় চার জন ও ফেনীতে এক জন নিহত হন।

অন্যদিকে, ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত চার বছরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩০ জন। আর রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৭৭৫ জন মানুষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “প্রথম এক সপ্তাহ এই সমাবেশটি দলীয় প্রভাবমুক্ত হিসেবে ছাত্র জনতার আন্দোলন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে শাহাবাগের ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ এ সরকারদলীয় সংগঠকদের আধিক্য ও তাদের নেতৃত্বে থাকতে দেখা যায়।”

অধিকারের অভিযোগ, “এই সময় ভিন্ন মতাবলম্বী পত্রিকা আমার দেশ, নয়া দিগন্ত ও ভিন্নমত পোষণকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল ও পিয়াস করিমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৭ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ২৮টি ঘটেছে শাহবাগের আন্দোলন সময়কালে পারস্পরিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ৩৭ জনের মধ্যে ১৭ জন জামায়াত-শিবির কর্মী, তিনজন অন্যান্য ইসলামী দলের সদস্য, একজন বিএনপি কর্মী, একজন গার্মেন্টস কর্মী, একজন হকার, একজন দারোয়ান, একজন কলেজ ছাত্র, একজন মাদ্রাসা শিক্ষক, একজন কৃষক, একজন রুদ্র ব্যবসায়ী, একজন যুবক, একজন সবজি ব্যবসায়ী ও সাতজন কথিত অপরাধী বলে জানা গেছে।

অধিকার অভিযোগ করে, নির্যাতনের ক্ষেত্রে সরকারেরর ‘জিরো টলারেন্স’ এর ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নির্যাতন এবং এই ক্ষেত্রে তাদের দায়মুক্তি বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা তো নেয়ই-নি, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোকে উপেক্ষা করে তাদেরকে আরো উৎসাহিত করেছে।

বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ বন্ধ করার জন্য ক্ষমতাসীনদলের পাল্টা কর্মসূচি দেয়া এবং এই অজুহাতে ১৪৪ ধারা জারি করার হীন কর্মকাণ্ড সরকারকে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে বলেও মত দেয় অধিকার।

ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশীদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

অধিকার জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৭৩ জন নারী ও মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ৩২ জন নারী, ৪০ জন মেয়ে শিশু। ৩২ জন নারীর মধ্যে পাঁচজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ১২ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ৪০ জন মেয়ে শিশুর মধ্যে ২৮ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

সরকারকে আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে বর্তমানের চলমান রাজনৈতিক সংকটকে দ্রুত সমাধান করতে আহ্বান জানায় অধিকার।

Check Also

আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট : বাঙালির অশ্রু ঝরার দিন

  কুমিল্লাওয়েব ডেস্ক:– আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। বাঙালির অশ্রু ঝরার দিন। ১৯৭৫ ...

Leave a Reply