লাকসাম ও মনোহরগঞ্জে জামায়াত শিবির ও রেলওয়ে পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ওসিসহ আহত ২০

লাকসামঃ—
সাঈদীর রায় ঘোষনার পর কুমিল্লার লাকসাম-মনোহরগঞ্জের বিপুলাসার রেল ষ্টেশনে জামায়াত শিবির ও পুলিশের সংঘর্ষে ওসিসহ কমপক্ষে ২০ আহত হয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৭ রাউন্ড গুলিও বর্ষণ করে। এদিকে একই সময় বিপুলাসার ও নাথের পেটুয়া এলাকায় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ১৫টি গাড়ি ভাংচুর করে। এসব ঘটনায় লাকসাম-নোয়াখালী ও চাঁদপুর রেল পথে সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে জামায়াত শিবিরের হামলাকারীদের হাতে অপহৃত রেলওয়ে পুলিশ সদস্য ফারুক হোসেনকে রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওইদিন সাঈদীর রায় ঘোষনার পর বিকেলে জামায়াত শিবির নেতা কর্মীরা লাকসাম নোয়াখালী রেল লাইনের বিপুলাসার রেল ষ্টেশনে রেল লাইনের উপর কাঠের গুড়ি ফেলে ব্যারিকেট সৃষ্টি করে। এ খবর পেয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদের উপর এলোপাতাড়ি পাথর ছুড়ে আক্রমন করে জামায়াত শিবির ক্যাডাররা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গেলে রেলওয়ে থানা পুলিশের সদস্য ফারুক হোসেনকে আক্রমনকারীরা ধরে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে জামায়াত শিবির ক্যাডাররা হামলা করলে রেলওয়ে পুলিশের ওসি সুভাষ কান্তি দাস, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পরিদর্শক ছালেহ আহম্মদ, হাবিলদার কাসেম, পুলিশ সদস্য আবদুল মান্নান, খলিল, শাহ আলম, মোসলেমসহ ১০ জন আহত হয়। এদিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ৭ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। অপর সূত্রে জানায় পুলিশের হামলায় জামায়াত শিবিরের অজ্ঞাতনামা ১০ জন আহত হয়। এ খবর পেয়ে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে রাতে রেলওয়ে থানা অপহৃত পুলিশ সদস্য ফারুককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। এদিকে এ ঘটনার পর লাকসাম-নোয়াখালী ও চাঁদপুর লাইনে সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে বিভিন্ন ষ্টেশনে যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ে। এদিকে একই সময় কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের বিপুলাসার ও নাথের পেটুয়ায় বিক্ষুব্ধ জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা ১৫টি বাস ও ট্রাক ভাংচুর করে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি থম থমে।

অপরদিকে লাকসামে জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা বাস-ট্রাকে অগ্নি সংযোগ ও হামলা করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাঈদীর রায় ঘোষনার পর পরই লাকসাম দক্ষিণ বাইপাসে দাঁড়িয়ে থাকা তিশা পরিবহনের (ঢাকা-মেট্টো-ব-১৪-৫১৬৭) একটি বাস ও (ঢাকা-ন-৩৪৮৫) একটি ট্রাকে অগ্নি সংযোগ করে। এতে দুইটি পরিবহনই আগুনে পুড়ে যায়। এদিকে ঘটনস্থলে পৌঁছে দমকল বাহিনী আগুন নেভায়। এছাড়াও উপজেলার ফুলগাঁও, লুদুয়া, ফয়েজগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে যানবাহনে ভাংচুর চালায়। এদিকে লাকসামে সাঈদীর রায় ঘোষনার পর পরই আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠন আনন্দ মিছিল করেছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply