সরাইলে সরকারি চাল সংগ্রহ টার্গেট পূরণ করা হচ্ছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীর টিআর-কাবিখার চাল কিনে

আরিফুল ইসলাম সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেঃ—
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এখানকার খাদ্য গুদামের দায়িত্বশীল অসাধু ব্যক্তিরা সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ মিল মালিকদের পাশাপাশি স্থানীয় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধ পন্থায় টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের চাল কিনে টার্গেট পূরণ করার অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা গুদামেই চালের বস্তা বদলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরী করে ফেলেছে। চলতি মৌসুমে গুদামে সংগ্রহ করা বেশিরভাগ চাল নি¤œমানের বলে অনেকে জানিয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত নয় ডিসেম্বর থেকে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।
গতকাল বুধবার সরাইল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ উপজেলার ৫১ মিল মালিকদের কাছ থেকে কেজি প্রতি ২৬ টাকা ধরে এক হাজার ৯৭ মেট্টিক টন সিদ্ধ চাল এবং ২৫ টাকা ধরে ১০৬ মেট্টিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই চাল সংগ্রহে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ নেই।
গতকাল বুধবার বিকেলে সরাইল উপজেলা খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান ভূইঁয়া দাবি করেন, মিল মালিকদের কাছ থেকে সঠিক নিয়মে আতপ ও সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত তিন দিন আগেই ১০৬ টন আতপ চাল সংগ্রহ শেষে টার্গেট পূরণ হয়েছে। আজ (বুধবার) পর্যন্ত সিদ্ধ চাল এক হাজার মেট্টিক টনের উপরে সংগ্রহ হয়েছে। আগামিকাল (বৃহস্পতিবার সংগ্রহের শেষ দিন) বাকি চাল সংগ্রহ শেষে শতভাগ টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হবে। চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এখানে চাল সংগ্রহে কোন অনিয়ম করা হচ্ছে না।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় টিআর ও কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যক্তিদের বেকায়দায় ফেলে এখানকার সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা প্রতি মেট্টিক টন চাল মাত্র ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকায় কিনে নিচ্ছে। যদিও টিআর-কাবিখার এক টন চালের সরকারি মূল্য ৩৪ হাজার টাকার বেশি। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা এই চাল সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে চড়া দামে অন্যত্র বিক্রি করে আসছে। সম্প্রতি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় আড়াই শত মেট্টিক টন টিআর-কাবিখার চাল কিনে খাদ্য গুদামের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা চলতি মৌসুমের চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের টার্গেট পূরণ করেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় বর্তমানে টিআর ৬শ’৪০ ও কাবিখা ৬শ’ ৫৩ মেট্টিক টন চাল বরাদ্দের বিপরীতে বিভিন্ন্ এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলছে। এরমধ্যে টিআর-কাবিখার প্রায় ৬শ’ ৫০ মেট্টিক টন চাল উত্তোলন করেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রকল্প সভাপতি জানান, মাত্র ১৫ হাজার টাকায় এক টন চাল সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার টনপ্রতি দুই হাজার টাকা পিআইও অফিসে কমিশন দিতে হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান বলেন, চাল সংগ্রহে অনিয়মের বিষয়টি আমার জানা নেই। খতিয়ে দেখে প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply