মনোহরগঞ্জে সোনাইমুড়ীর আনোয়ার হত্যার রহস্য ক্রমেই বেরিয়ে আসছে: মেমোরি কার্ডের ভিডিও ক্লিপের সূত্র ধরে

Anowar file photoআজিম উল্যাহ হানিফ, কুমিল্লা থেকেঃ–
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিপুলাসার ইউনিয়নের লাকসাম-নোয়াখালী সড়কের সিএমবি রাস্তার পূর্ব পার্শ্বে কাঁচি নামকস্থানে গত ২৯ আগষ্ট ২০১২ তারিখে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার বগাদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে সিএনজির ড্রাইভার ও মৎসচাষী আনোয়ার হোসেন হত্যার রহস্য ক্রমে উদঘাটন হচ্ছে। কে বা কারা কি কারণে তাকে হত্যা করেছে ওই সময় তা জানা যায়নি। ওই সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে মনোহরগঞ্জ থানা একটি হত্যা মামলা হয়েছিল। এতদিন হত্যার কারণটি অজ্ঞাতই থেকে যায়। প্রায় ৬ মাসের অধিক সময় পর তদন্তে ওই যুবকের হত্যার রহস্য ক্রমেই বেরিয়ে আসছে। জানা যায়, পাশ্ববর্তী গ্রামের চৌকিদার গোলাম রহমানের ছেলে নারী দেহ লোভী ব্যবসায়ি আবদুল কাদেরের সাথে বগাদিয়া গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের স্ত্রীর শাহিনা আক্তারের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। ওই প্রবাসীর বাড়ীর পাশে নিজ এলাকায় আনোয়ারের লীজকৃত মাছের বেড়ী ছিল। আনোয়ার ওই বেড়ী দেখা-শুনা করার জন্য হর-হামেশা আসা-যাওয়া করত। সেই সুবাদে শাহিনা আক্তার ও আবদুল কাদেরের অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যায়। ২০১২ সালে ১লা জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার সময় আনোয়ার মাছের বেড়ী দেখতে যান। ওই সময় তিনি আব্দুল কাদের ও শাহিনা আক্তারকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকাবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষনিক তিনি ঘটনাটি স্থানীয় আব্দুল হামিদ, মাসুদ আলী সহ অনেককে অবহিত করেন। তখন তারা প্রবাসীর বাড়ী এসে তার স্ত্রী শাহিনা ও আব্দুল কাদেরকে হাতে-নাতে ধরে ফেলে এবং আব্দুল হামিদ, মাসুদ আলী ও আনোয়ার মিলে তার ব্যবহৃত মোবাইলটি জব্দ করে। আব্দুল কাদেরের মোবাইলের মেমোরীতে ধারণ করা ছিল তাদের নির্লজ্জ অপকর্মের ভিডিও ক্লিপ। তা দেখে আনোয়ার প্রমাণ সংরক্ষণ স্বরুপ ওই মেমোরী কার্ড থেকে ব্লুটুথের মাধ্যমে ভিডিও ক্লিপটি তার মোবাইলে নেয়। আব্দুল কাদেরের মেমোরীর ওই রেকর্ড আনোয়ার সংরক্ষণ করায় পরকিয়া প্রেমিকযুগলের সর্বনাশ হতে পারে ভেবে শুরু হয় আনোয়ারের সাথে তাদের শত্র“তা। পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ানো আনোয়ারকে দুনিয়া থেকে সরাতে না পারলে ওই পরকিয়া প্রেমিকযুগল অবাধে সুখের ভূবনে হারিয়ে যেতে পারবে না। তাই ওই দিনের হত্যাকান্ডটি শাহিনার যোগ-সাজসে আব্দুল কাদের ঘটাতে পারে বলে অনেকেরই ধারণা। হত্যাকান্ডের ঘটনায় আনোয়ারের দুই বন্ধু আব্দুল হামিদ ও মাসুদ আলীকে এলাকাবাসী চাপ দিলে আনোয়ারের মোবাইলের মেমোরীতে রেকর্ড হিসেবে ওই ভিডিও ক্লিপটি ছিল বলে নিশ্চিত করেন। পরে নিহতের স্ত্রী শোয়ার ঘরে বিছানার নিচে মেমোরি কার্ডটি পান এবং তাতে সংরক্ষিত ভিডিও ক্লিপটি দেখতে পায়। এ ঘটনায় ২০১২ সালের ১০ নভেম্বর আব্দুল কাদের, শাহিনা আক্তার ও তার বোন নাজমাকে আসামী করে সোনাইমুড়ী থানায় নিহত আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী রিনা বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। সোনাইমুড়ী থানা মামলা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ আসামীদের ধরছে না। একদিকে আনোয়ারের দুই ছেলে জনি (১০) ও রনি (৮) কে নিয়ে স্ত্রী রিনা বেগম অভাব-অনটনে বাড়ীর ছোট্ট একটি কুড়ে ঘরে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছেন। অন্যদিকে নিহতের পরিবার ন্যায় বিচার না পাওয়ার শঙ্কায় হতাশা প্রকাশ করেন। সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং আসামীদের ধরার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এদিকে মনোহরগঞ্জ মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলী হোসেন দুয়ারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমার যোগদানের পূর্বে আরেকজন তদন্ত কর্মকর্তা ছিল আমি দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার লাশ সনাক্ত করে মামলাটির তদন্ত ও আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply