লাকসাম-নোয়াখালী সড়কে বন বিভাগের নতুন বনায়নের নামে সরকারি বিপুল অর্থ অপচয়

forest, laksam,comillaআবদুর রহিম, লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ—
কুমিল্লার লাকসাম ও সদর দক্ষিণ বন বিভাগ কর্তৃক নতুন বনায়নের নামে সরকারি বিপুল অংকের অর্থ অপচয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়ম মাফিক পূর্বের বাগান বিক্রয়লব্ধ ১০ শতাংশ টিএফএফ ফান্ডের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার এসটিডি একাউন্টের টাকাও হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিগত ৫ বছরে একাধিকবার ধর্না দিয়েও পূর্বের উপকারভোগীরা ১০ শতাংশের টাকা পায়নি।
জানা গেছে, সরকারিভাবে স্থানীয় উপকারভোগীদের সহায়তায় সৃজনকৃত ২০০৮ সালে কুমিল্লার লাকসাম-নোয়াখালী সড়কের বাগমারা দত্তপুর ব্রিজ থেকে শানিচোঁ ৫ কিঃমিঃ, ফয়েজগঞ্জ মাসুদ ইউনানী থেকে এমআর ব্রিক ফিল্ড ১ কিঃমিঃ, লধুয়া থেকে নাথেরপেটুয়া ব্রিজ পর্যন্ত ৫ কিঃমিঃসহ ১১ কিঃমিঃ বাগান বিক্রি করা হয়। বাগানের বিক্রয়লব্ধ অর্থের ১০ শতাংশ টাকা পূনঃবনায়নের জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তার একাউন্টে পড়ে থাকলেও ওই টাকা ব্যয় না করে দুর্নীতির মাধ্যমে লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ও সদর দক্ষিণ উপজেলা বন কর্মকর্তা তপন সাহার প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার পকেট ভারী করার উদ্দেশ্যে নতুন বনায়ন করেন। জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ৬ কিঃমিঃ এবং সদর দক্ষিণ উপজেলায় ২ শিফটে ১১ কিঃমিঃ বনায়ন করা হয়। ২০১০-১১ সালে কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে মনোহরগঞ্জের লধুয়া থেকে নাথেরপেটুয়া জামাইর দোকান পর্যন্ত ৬ কিঃমিঃ এবং একই সালে সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই থেকে ফয়েজগঞ্জ পর্যন্ত ২ শিফটে ১১ কিঃমিঃসহ ১৭ কিঃমিঃ নতুন বাগান করা হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একই সড়কে পূর্বে বাগান কর্তনকৃত ১০ শতাংশ টাকায় বনায়ন করে পূর্বে উপকারভোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সদস্য করে নতুন বাগান করতে হয়। অন্যথায় পূর্বের কর্তনকৃত বাগানের জমাকৃত ১০ শতাংশ টাকা উপকারভোগীদের নিকট উপজেলা বনায়ন কমিটির প্রস্তাবনার মাধ্যমে বিলি করার নিয়ম রয়েছে। বিগত ২০১০-১১ সালে বনায়ন করে নতুন উপকারভোগী নিয়োগ করেন মনোহরগঞ্জ ও সদর দক্ষিণ উপজেলা বন কর্মকর্তা। এসব কাজের সহায়তা করেন সাবেক বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমীর হোসেন ও রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ। নতুন বাগান করায় প্রতি কিলোমিটারে ১২ হাজার টাকা হারে ২ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং পাহারাদারের বেতন বাবত জুলাই ২০১১ ও ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি কিঃমিঃ ১ হাজার ৫শ’ টাকা হারে ২৫ হাজার ৫শ’ টাকা করে ১৮ মাসে ৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা এবং রক্ষনাবেক্ষন বাবদ ২২ হাজার টাকাসহ ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা সরকারি অর্থ অপচয় হয়। আগের সুবিধাভোগীরা জানান, পূর্বের এবং বর্তমান বন কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আংশিক টাকা দিয়ে বাকী টাকা নিজের পকেট ভারী করছেন। বিগত ২০০৮ সালে তৎকালীন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম মানুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এক অনুষ্ঠানে বাগান কর্তৃনকৃত টাকার চেক ১ম দফায় হস্তাস্তর করেন উপজেলা বন কর্মকর্তা কামাল হোসেন এবং ২য় দফায় উপজেলা বন কর্মকর্তা হযরত আলী দেওয়ানের উপস্থিতিতে প্রধান বন সংরক্ষন কর্মকর্তা হারাধন বনিক প্রধান অতিথি থেকে চেক হস্তান্তর করেন। ওই অনুষ্ঠানে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরিফুল হক বেলাল বিশেষ অতিথি ছিলেন।
পূর্বের কর্তনকৃত বাগানের উপকারভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ও জাফর ইকবাল বাচ্চু জানান, বাগান কর্তনের ১০ শতাংশ টাকা দিয়ে নতুন বনায়ন না করায় এবং নতুন বাগানে পূর্বের উপকারভোগীদের নাম সম্পৃক্ত না করে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। তিনি পূর্বে বাগান কর্তনের ১০ শতাংশ টাকা ফেরতসহ দুর্নীতিকারীদের শাস্তির দাবী জানান।
বিগত ২০০৮ সালে বাগান কর্তনকৃত অর্থের ১০ শতাংশ টাকা দিয়ে বাগান না করা এবং নতুন বনায়ন করে সরকারি কোষাগারের কয়েক লাখ টাকা অপচয়ের ব্যাপারে কুমিল্লা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তাওহিদুল ইসলাম জানান, আমি ওই সময় দায়িত্বরত ছিলাম না এবং পূর্বের বাগান কর্তনকৃত ১০ শতাংশ টাকা দিয়ে বনায়ন না করে নতুন বাগান করে অর্থ অপচয়ের বিষয়ে পূর্বের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমির হোসেন বলতে পারবেন। আমি বর্তমান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হিসাবে উভয় বিষয়ে অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করব।
এসব অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের বিষয়ে কুমিল্লা রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, সরকারি অর্থ অপচয় এবং পূর্বের বাগান কর্তনকৃত টাকার ১০ শতাংশ টাকা দিয়ে বনায়ন না করার বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে অনিয়মের বিষয়ে জানা যাবে এবং অভিযুক্তদের ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply