মেঘনায় এমএল সারস লঞ্চডুবি:: মতলব উত্তরের আরো ৪ লাশ উদ্ধার

dollar matlab uttor pic 13.02.13.শামসুজ্জামান ডলার, মতলব উত্তরঃ—
মেঘনা নদীর মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইসমানিরচর এলাকায় বালুবাহী কার্গোর ধাক্কায় এমএল সারস লঞ্চ ডুবির ঘটনায় গতকাল বুধবার চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আরো ৪জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৭ জনের লাশ পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত জানামতে শেফালী বেগম নামে আরো ১ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনার ৬ দিন পর ঘটনাস্থলের কাছে সকালে নদীতে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। গজারিয়ার থানা পুলিশ ৪ জনের লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। লাশ উদ্ধার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে স্বজনরা ছুটে যায়। এনিয়ে শুক্রবারের লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ১৮ জনের লাশ উদ্ধার হলো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে স্থানীয়রা নদীতে ভাসমান তিনটি লাশ উদ্ধার করে থানায় ও পাশের চাঁদপুরের মতলব উত্তরের বিভিন্ন এলাকার নিখোঁজদের স্বজনদের খবর দেয়।
খবর পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ ও নিখোঁজদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে লাশগুলো শনাক্ত করে। দুপুর ১২টার দিকে একটু দূরে আরেকটি লাশ ভেসে উঠতে দেখা যায়। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে।

বুধবার উদ্ধার করা লাশগুলোর পরিচয় জানা গেছে। এরা হলেন- চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুক্তিরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও নারায়ণগঞ্জের রং ব্যবসায়ী আবুল হাসেম (৫০), রায়েরকান্দি গ্রামের জিলানী সরকারের স্ত্রী নাজমা বেগম (৩০), চান্দ্রাকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে শাহানাজ আক্তার (১৮) ও বদরপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী শিল্পী আক্তার (২৫)।
দুপুর পৌনে ১টায় ঘটনাস্থল থেকে গজারিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম জানান, মতলব উত্তরের লোকজন নিজেদের নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ জানানোর অনুরোধ করে গজারিয়ার লোকজনের কাছে মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সূত্রে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তারা এখানে ছুটে এসেছেন।
নিখোঁজ থাকা স্বজনদের লাশ পাওয়ার খবর এলাকায় পৌছলে এলাকায় এক রিদয়বিদারক ঘটনার অবতার হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আত্মীয়-স্বজনরা ছুটে আসে শেষ বারের মতো দেখার জন্য। নিহতদের বাড়িতে লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বালুবাহী বলগেটের ধাক্কায় নারায়ণগঞ্জ থেকে মতলবগামী এমএস সারস নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এর আগে ১৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ দুর্ঘটনায় গত শনিবার রাতে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় লঞ্চটিকে আঘাত দেয়ার অভিযোগে ফিরোজা ফারজানা নামের বাল্কহেডের (বালুবাহী জাহাজ) মাস্টার, সারেং ও সুকানিকে আসামি করা হয়েছে। সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক এনামুল হক বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। তবে মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান খান জানান, মামলার তদন্তের দায়িত্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেজবাউদ্দিন আহম্মেদকে দেয়া হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply