আবুধাবিতে নিহত কুমিল্লার মুরাদনগরের দুই শ্রমিকের দাফন হলো নিজ গ্রামে

untitledমোঃ মোশাররফ হোসেন মনির, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ—
আরব আমিরাতের আবুধাবির আলআইন নামক স্থানে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাস ও লরির সংঘর্ষে নিহত কুমিল্লার তিন শ্রমিকের মরদেহের কফিন গ্রহণ করেছেন নিহতের স্বজনরা। মঙ্গলবার দুপুরে শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর লাশের কফিন গ্রহণ করে সন্ধ্যায় নিজ গ্রামে ফিরে এসে তাদেরকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বিমানবন্দরে প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণ মন্ত্রীর কাছ থেকে আবুধাবিতে নিহত শ্রমিক কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আলীরচর গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেনের লাশ গ্রহণ করেন তার স্ত্রী রীনা আক্তার। সাথে ছিল তার তিন শিশুকন্যা ও আনোয়ারের বড় ভাই সাদেক মিয়া। একই উপজেলার হিরাপুর গ্রামের মালু মিয়ার ছেলে হাবিবের লাশ গ্রহণ করেন তার পিতা মালু মিয়া। সঙ্গে ছিলেন হাবিবের স্ত্রী তামান্না ও শিশুপুত্র হাসিব। মন্ত্রী শ্রমিকদের মরদেহ বহন ও দাফনের খরচের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।
মঙ্গলবার ঢাকা থেকে দুপুর আড়াইটায় নিহত শ্রমিকদের কফিন নিয়ে অ্যাম্বোলেন্সযোগে তাদের স্বজনরা কুমিল্লার নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। সন্ধ্যা ছ’টায় মুরাদনগরে পৌঁছে আনোয়ার ও হাবিবের লাশের কফিন। এ সময় কফিন ঘিরে স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠে। কেউ বুক চাপড়িয়ে, কেউ মাটিতে গড়িয়ে, কেউ কফিনে মাথা ঠুকিয়ে চোখের পানিতে প্রিয়জনকে হারানোর শোক জানান দেয়। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। নিহতদের আত্মীয়স্বজনদের বাইরে যারা মরদেহ দেখতে এসেছেন তারাও লাশের কফিনে হাত বুলিয়ে নিজেদের চোখের পানি সংবরণ করতে পারেননি। সংসারের উপার্জনক্ষমদের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়ে। মুরাদনগরে নিহত দুই শ্রমিকের দাফন মঙ্গলবার এশার নামাজ শেষে তাদের নিজ গ্রামের কবরস্থানে সম্পন্ন হয়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply