সরাইলে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষদের হয়রানির অভিযোগ:: পুলিশ সুপারের কাছে পিতার বিরুদ্ধে পুত্রের নালিশ

আরিফুল ইসলাম সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেঃ—
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেপারিপাড়া গ্রামের মো. ছাদেক মিয়া। পেশায় মাছ বিক্রেতা। তবে ’নেশা’ তার মামলা করা। এ পর্যন্ত তিনি অন্তত ২০টি মামলার বাদী হয়েছেন বলে ধারণা পাওয়া যায়। ছাদেক মিয়ার মামলার কবল থেকে বাদ যায়নি স্ত্রী, পুত্র, কন্যাও। অবশেষে একের পর এক মিথ্যা মামলা থেকে প্রতিবেশীসহ পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গত রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন ছাদেক মিয়ার বড় ছেলে মো. ইমন মিয়া। এতে অভিযোগ করা হয়, মামলা করা ছাদেক মিয়ার নেশা ও পেশায় পরিণত হয়েছে। ছাদেক মিয়ার স্ত্রী সুহেরা বেগম বলেন, ’আমার স্বামী একের পর এক মামলা দিয়ে প্রতিবেশীদেরকে হয়রানি করছে। এমনকি আমিসহ ছেলে মেয়েদের নামেও আদালতে মামলা দিচ্ছে। গত তিন চার বছর যাবত তিনি এমন করছেন। বাড়িতে এলে এসব বিষয়ে কথা বললেই আদালতে গিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে দেন। এখন এমন অবস্থা যে এলাকার মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারছি না’।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ছাদেক মিয়া বর্তমানে ঢাকার চিটাগং রোডে পোনা মাছের ব্যবসা করেন। মাঝে মাঝে বাড়িতে আসেন। আর বাড়িতে এলে কেউ কিছু বললেই আদালতে গিয়ে অভিযোগ দেন। তিনি মাদকাসক্ত। কয়েক বছর আগে একমাত্র সম্বল বাড়িটিও বিক্রি করে দিয়েছেন। এদিকে লিখিত অভিযোগে ছাদেক মিয়ার ছেলে ইমন উল্লেখ করেন, তার পিতা সরাইল সদরের বেপারিপাড়া গ্রামের মৃত খোদা বক্স’র ছেলে। বিনা কারনেই তিনি প্রতিবেশিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এসব মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমার রোষানলে পড়ে প্রতিবেশী মৎস্য ব্যবসায়ি কিরন মিয়া সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি বন্ধে পরিবারের লোকজন চাপ সৃষ্টি করলে তিনি ছেলে, স্ত্রী সুহেরা বেগম, বিবাহিত মেয়ে রতœা বেগমসহ অন্যদের নামেও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। একাধিক মামলার কপি থেকে দেখা যায়, ছাদেক মিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হুমকি-ধামকি, মারধর, ধাওয়া করার অভিযোগ এনেছেন। এসব মামলায় আট থেকে ১০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় পুলিশ ফাইনাল রিপোর্ট দেয় বলেও পুলিশ জানায়। ছাদেক মিয়ার রোষানলের শিকার কিরণ মিয়া বলেন, ’সে আমার এবং আমার আত্মীয় স্বজনদের বিরুদ্ধেই অন্তত ১৬টি মামলা দিয়েছে। আর এসব মামলায় পড়ে আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি। সে এলাকার আরো অনেককেই এভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে’। ইমন মিয়া জানান, তিনিও একজন মাছ ব্যবসায়ি। পিতার এ ধরণের কর্মকান্ডে এলাকার লোকজনের কাছে মুখ দেখানোও দায় হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে অনেকের কাছে গিয়েও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে বাধ্য হয়েই পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ছাদেক মিয়ার স্ত্রী সুহেরা বেগম বলেন, ’মেয়ে, মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধেও তিনি মামলা করেছেন। এলাকার লোকজনও ওনাকে বুঝিয়ে পারছেন না। তিনি নেশাও করেন। আমরা একটা মহা বিপদের মধ্যে আছি। উপায়ন্তু না পেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে’। বেপারিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. শাহ আলম সাংবাদিকদের জানান, মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারন মানুষকে হয়রানি করা ছাদেক মিয়ার নেশা ও পেশায় পরিণত হয়ে গেছে। গ্রামবাসী তাকে এসব বিষয়ে বুঝিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে ছাদেক মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না বলে পরিবার ও এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply