নাঙ্গলকোটের ১২ টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই প্রধান শিক্ষক

মোঃ আলাউদ্দিন, নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) থেকেঃ—
নাঙ্গলকোট উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ার বিঘ্ন ঘটছে। নানা অজুহাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না দেয়ায় স্থানীয় জনমতে অসন্তোষ বিরাজ করছে। উপজেলা সদরের ৫টি সহ মোট ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। কখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে তা কারো জানা নেই। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে প্রধান প্রশাসনিক পদটি খালি থাকায় স্কুল-কলেজসমূহে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা। প্রতিষ্ঠান প্রধান বিহীন উক্ত স্কুল-কলেজ গুলোতে গত পরীক্ষাগুলোর ফলাফলেও দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। ফলে অভিভাবকদের ক্ষোভে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৃষ্ঠি হচ্ছে নানা বিশংখলা। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেয়ায় এ জটিলতা দিন দিন প্রকট আকার ধারন করছে। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে জানা যায়, বারবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যোগ্য শিক্ষক না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ বেশ চিন্তিত। অধিকাংশ স্কুল-কলেজের নিজস্ব আয় না থাকায় বাড়তি সুবিধার অভাবেও যোগ্য শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছেনা। এদিকে হোমনাবাদ কলেজে যোগ্য অধ্যক্ষ মিললেও স্থানীয় না হওয়ায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট পৌর মেয়র জানালেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, বর্তমানে যোগ্য শিক্ষকের কোনো অভাব নেই। অভাব হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের যোগ্য অভিভাবকের। তিনি তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, নির্বাচিত হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় সমস্যা সংকুল দায়েমছাতি স্কুলের জন্য তাকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়। স্কুলে গত ৫ বছর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছিল না এবং বিজ্ঞপ্তি দিলেও কেউ আসতে চাইতেন না। কারণ যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ পাবেন এ গ্যারান্টি ছিল না। স্কুলের দুই বৈঠকেই প্রধান শিক্ষক নেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে দ্রুত নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করা হয়। প্রায় ৫০ জন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে যারা নিয়োগ পাননি তারাও নিরপেক্ষ নিয়োগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ জন্য শ্রম, মেধা আর সভাপতির আন্তরিকতার প্রয়োজন আছে। গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়ে ঢাকায় ব্যবসা করবেন আর মাঝে মাঝে এসে পিকনিক করে বাহবা নেয়া যায় কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানো যায় না। অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক বিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে- নাঙ্গলকোট হাছান মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ, হোমনাবাদ আদর্শ কলেজ, ধাতিশ্বর স্কুল এন্ড কলেজ, এ আর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, শিশু কল্যান জুনিয়র স্কুল, ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, হেসাখাল বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, সোন্দাইল উচ্চ বিদ্যালয়, মনোয়ারা মাহমুদা বালিকা মাদ্রাসা, ঢালুয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা, মেরকট মাদ্রাসা, হেসাখাল ইসলামিয়া মাদ্রাসা অন্যতম।
এমতাবস্থায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরুরী ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন বলে অভিভাবক, ছাত্র/ছাত্রী ও বিশেজ্ঞরা মনে করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply