ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে খাল দখলে শত শত একর কৃষি জমিতে সেচ সঙ্কট

sarail pic 10-2-13= (5)আরিফুল ইসলাম সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ—
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাল দখল হয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকায় পানি নিস্কাশন বন্ধসহ কয়েকশ একর কৃষি জমিতে চরম সেচ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। এলাকাবাসী জানান, একশ্রেণীর অসাধু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খাল ভরাট করে সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ভূমি বিভাগের লোকেরা খাল দখলে বাধা দিলেও প্রভাবশালী দখলদাররা কোন বাধাই মানছে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের “কালিকচ্ছ-বিশুতারা” খালের একটি অংশ মাটি ফেলে ভরাট করেছেন বিশুতারা গ্রামের আব্দুর নূর, সবুত আলী, আরিজ মিয়া, ইসকান্দর আলী, মনছুর মিয়া ও কামাল মিয়াসহ প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তি। পরে তারা ভরাটকৃত জায়গায় বাড়ি-ঘর নির্মান করেছেন। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা দখলবাজদের বাঁধা দিলেও তারা বাঁধা আমলে নেননি। বিশুতারা গ্রামের ইউপি সদস্য মো. ফজল ইসলাম জানান, একটি প্রভাবশালী মহল সরকারি খাল ভরাট করে বাড়িঘর নির্মান করায় বন্ধ হয়ে গেছে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। ভরাটের কারণে খালের উপর নির্মিত ব্রীজ (সেতু) তাদের উঠানে পরিণত হয়েছে। এতে এলাকার কয়েকশ একর কৃষি জমিতে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুতারা গ্রামের মোঃ হরমুজ আলী মাস্টার জানান, এ খাল ভরাটের কারণে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এলাকায় জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাঘাত ঘটছে সেচ কাজে। তবে দখলবাজদের দাবি খালে মাটি ভরাটের কারনে পাশের সড়ক টেকসই হচ্ছে। কালীকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ তকদীর হোসেন জানান, খাল দখলে আমরা বাঁধা দিয়েছিলাম। কোন কাজ হয়নি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কালীকচ্ছ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, খাল দখলের সময়ে আমি বাঁধা দিয়েছিলাম। তারা আমার কথা শুনেননি। বিষয়টি লিখিত ভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এদিকে উপজেলা সদর ইউনিয়ন প্রাতঃবাজারের পশ্চিম দিকে সরকারি খাল দখল করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন এক প্রবাসী। এতে এ খাল দিয়ে পানি নিস্কাশন প্রায় বন্ধ রয়েছে। এলাকার কৃষক মো. নবী হোসেন জানান, সরকারি খালের জায়গা দখল করে বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে। এ খাল দখল হলে আশপাশের শতাধিক একর জমিতে চরম সেচ সঙ্কট দেখা দিবে। তাছাড়া এ খাল দিয়েই বাজার এলাকার পানি নিস্কাশন হয়। খাল ভরাটের কারণে ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। তবে দখলদার দাবি করেছেন এ খাল এখন আর প্রয়োজন নেই। কারণ খালের অন্যান্য অংশও দখল হয়ে যাওয়ায় এখান দিয়ে আর পানি নিস্কাশন হয় না। তাছাড়া বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানা জায়গাতেই।
এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান জানিয়েছেন, দখলদারদের ব্যাপারে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। খাল দখলের ঘটনায় অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply