মুরাদনগরে এবার ডাকাতের হামলায় সাংবাদিকসহ ৩ যাত্রী আহত: আড়াই লাখ টাকার মাল লুট

মুরাদনগর(কুমিল্লা)থেকেঃ—
কুমিল্লার মুরাদনগরে ডাকাত আতঙ্ক আর কাটছেন।উপজেলার সংচাইল-বাঙ্গরা সড়কের একটি ব্রিজের উপর শনিবার রাতে আবারো ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতরা অস্ত্র ঠেকিয়ে যাত্রীদের নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় আড়াই লাখ টাকার মাল নিয়ে যায়।এ সময় সময় ডাকাতরা ৩ যাত্রীকে বেধরক মারধর করেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক থানা পুলিশকে অবহিত করা হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে এ ঘটনায় গ্রেফতার করতে পারেনি তারা। জানা যায়, শনিবার রাত অনুমান ৯টায় সংচাইল-বাঙ্গরা সড়কের ১নং ব্রিজের উপর প্রথমে গাছ ফেলে পরে ডাকাতি কার্যে ব্যবহৃত সিএনজি দিয়ে রাস্তায় ব্যরিকেড করে ১৪/১৫ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল ৩ সিএনজি যাত্রীদের কাছে অস্ত্রের মুখে ১৫টি মোবাইল ফোন, নগদ লক্ষাধিক টাকা ও ১ ভড়ি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকার মাল লুটে নিয়ে যায়।ডাকাতি শেষে তারা তাদের পরিকল্পিত ভাবে নিয়ে আসা একটি পিকআপ ভ্যানে করে চলে যায়। ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি হিরাপুর বেড়াতে আসা দৈনিক সংগ্রামের স্টাফ রিপোর্টার সাদেকুর রহমান জানান, ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে আমার সাথে থাকা নগদ বিশ হাজার, সিএনজিতে থাকা ৬টি মোবাইল ফোন ও ২ মহিলা যাত্রীর প্রায় ১ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। ডাকাতিকালে হাতাহাতি করার সময় ডাকাতরা ওই সাংবাদিকসহ ৩ যাত্রীকে বেধরক মারধর করে। মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম পিপিএম জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন, তাৎক্ষনিক বিষয়টি দেখার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
মুরাদনগরে ডাকাত আতঙ্কঃ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহা সড়কের ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কের বোড়ারচর ও কমিল্লা-সিলেট মহা সড়কের নবীনগর-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের বাঙ্গরা পর্যন্ত অংশে প্রায়ই প্রতিদিনই কোন না কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটে চলছে।ডাকাতিকালে যানবাহন নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ও ডাকাতের নির্মম আঘাতে গত ৩ বছরে ওই স্থানগুলোতে দূর্ঘটনায় কমপক্ষে ছয় জন নিহত ও অসংখ্য জন আহত হয়েছেন।৭ জানুয়ারী গভীর রাতে মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কের বোড়ারচর নামক স্থানে লাশবাহী গাড়িসহ ১০ গাড়িতে ডাকাতিকালে ডাকাতের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় সাত জন গুরতর আহত হওয়ার পর থেকে আকঙ্ক আরো চরম সীমায় পৌঁছেছে।ইলিয়টগঞ্জ থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশ মাধবপুর,কালাপাইলা,পাঁচপুকুরিয়া,নেয়ামতকান্দি,ছালিয়াকান্দি ও বোড়ারচর এবং কোম্পানীগঞ্জ থেকে উত্তরের ১২ কিলোমিটর অংশ কড়–ই বাড়ি,রাজা চাপিতলা,কাশিমপুর,বাঙ্গরা ও আকবপুর কুমিল্লার মুরাদনগর থানার অন্তভূক্ত।এই অংশের বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ ডাকাতেরা রাতেরবেলায় গাছের গুঁড়ি অথবা তাদের ব্যাহৃত গাড়ি আড়াআড়িভাবে রেখে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন থামা মাত্রই সড়কের পাশে ওত পেতে থাকা ডাকাতদল সেগুলোতে হামলা চালিয়ে লুটে নিচ্ছে যাত্রীদের সর্বস্ব।যাত্রীবেশেও তারা বাসে ডাকাতি করছে।যানবাহনের শ্রমিক ও যাত্রীরা জানান,দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি হলেও সম্প্রতি ডকাতির ঘটনা আশঙ্কা জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মনিরুল ইসলাম জানান,‘সেখানে কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।ওই জায়গাগুলোতে নিয়মিত পুলিশিী টহলের ব্যবস্থা রয়েছে।ডাকাতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সেখানে পৌঁছায়।’মুরাদনগর মটরশ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন,‘ইলিয়টগঞ্জ থেকে বাখরাবাদ ও কোম্পানীগঞ্জ থেকে গাজীর হাট পর্যন্ত অংশ যানবাহনের শ্রমিক ও যাত্রীদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক।ডাকাতি রোধে পুলিশ টহল নেই বললেই চলে।ওই স্থানগুলোতে পুলিশ টহল বাড়ানোর পাশাপাশি একাধিক স্থায়ী চেকপোষ্ট অথবা পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর দরকার।মুরাদনগর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার(এএসপি) নজরুল ইসলাম বলেন,এ সমস্ত জায়গায় ডাকাতি রোধে কঠোর পদক্শেপ নেওয়া হচ্ছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply